৪০০ জনকে সোনার আংটি উপহার দিলেন নায়ক

আগের সংবাদ

ময়মনসিংহে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২

পরের সংবাদ

ঢাকায় যেমন চলছে ঈদের ছবি

প্রকাশিত হয়েছে: আগস্ট ১৫, ২০১৯ , ৪:৫৪ অপরাহ্ণ | আপডেট: আগস্ট ১৫, ২০১৯, ৪:৫৪ অপরাহ্ণ

Avatar

সারাদেশের ১৫৪টি ও ঢাকার ২১টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে জাকির হোসেন রাজু পরিচালিত ‘মনের মতো মানুষ পাইলাম না’। অন্যদিকে সারাদেশের ৫৩টি প্রেক্ষাগৃহ ও ঢাকার ৬টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে রাজা চন্দ পরিচালিত ‘বেপরোয়া’। চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতি ও প্রেক্ষাগৃহের মালিকদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, এবারের ঈদের ছবি এখনো জমে ওঠেনি। ঈদে মুক্তি পাওয়া ‘মনের মতো মানুষ পাইলাম না’ ছবিতে অভিনয় করেছেন শাকিব খান ও বুবলী। আর ‘বেপরোয়া’ ছবিতে অভিনয় করেছেন রোশান ও ববি। মুক্তির আগে ছবি দুটির প্রচারণা দর্শকদের আগ্রহকে উসকে দিতে পারেনি বলেও মত দিয়েছেন অনেকে। এ ছাড়া বৃষ্টিও সিনেমাপ্রেমী দর্শকদের প্রেক্ষাগৃহমুখী হতে দেয়নি। তবে প্রেক্ষাগৃহের মালিকদের আশাবাদ, আজ থেকে চিত্রটা পাল্টে যেতে পারে।
ঢাকার স্টার সিনেপ্লেক্সে ঈদের দুটি ছবিই মুক্তি পেয়েছে। এই প্রেক্ষাগৃহে দুটি ছবির প্রতিদিন চারটি করে শো দেখার সুযোগ পাচ্ছেন দর্শকরা। হল সূত্রে জানা গেছে, ‘মনের মতো মানুষ পাইলাম না’ ৪০ শতাংশ এবং বেপরোয়া ৩০ শতাংশ ব্যবসা করেছে। ঈদের ছবি হিসেবে এটাকে সন্তোষজনক বলছেন না হল কর্তৃপক্ষ। যমুনা ফিউচার পার্কের বøকবাস্টার সিনেমাতে ঈদে মুক্তি পাওয়া দুটি সিনেমার ব্যবসা নিয়ে মোটামুটি সন্তুষ্ট হল কর্তৃপক্ষ। এই প্রেক্ষাগৃহে ‘বেপরোয়া’র দুটি এবং ‘মনের মতো মানুষ পাইলাম না’র তিনটি করে শো দেখছেন দর্শকেরা। জোনাকী প্রেক্ষাগৃহে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঈদের দিন দর্শক কম ছিল। তবে দ্বিতীয় দিন আবার বেড়েছে। প্রত্যাশা মেটাতে না পারলেও একেবারে খারাপ বলা যাবে না। মধুমিতা প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শিত হচ্ছে ‘মনের মতো মানুষ পাইলাম না’। এখন পর্যন্ত কোনো শো হাউসফুল যায়নি। বলাকা কর্তৃপক্ষ জানান, ‘মনের মতো মানুষ পাইলাম না’। বলাকা প্রেক্ষাগৃহ কর্র্তৃপক্ষ জানায়, এখন ব্যবসা কম থাকলেও তারা আশাবাদী দ্বিতীয় সপ্তাহে জমবে।
বছর পাঁচেক আগেও দেশের সিনেমা হলে ঈদ উৎসবে একাধিক ভালো মানের ছবি মুক্তি পেত। দর্শকরা আগে থেকে হিসাব করে রাখত, কোন ছবি আগে দেখবেন আর কোন ছবি পরে। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে প্রতি বছর ঈদে মুক্তি পাওয়া সিনেমা সংখ্যা কমতে থাকে। একটি দুটি করে কমতে কমতে এবার ঈদুল আজহায় মাত্র দুটি ছবি মুক্তি পেয়েছে। এবার ঈদের ছবি নিয়ে আলোচনা হয়নি বললেই চলে। সিনেমার এই অবস্থা যে, ইন্ডাস্ট্রির জন্য অশনি সংকেত বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ব্যবসা মন্দা নিয়ে যা বলছেন সংশ্লিষ্টরা
মুশফিকুর রহমান গুলজার, পরিচালক সমিতির সভাপতি
সিনেমা নিয়ে এবার তেমন কোনো আলোচনা চোখে পড়েনি। এটা চলচ্চিত্রের ভবিষ্যতের নেতিবাচক ভবিষ্যতের ইঙ্গিত দেয়। তবে চলচ্চিত্রের এই খারাপ সময় থাকবে না বলেও মনে করি। চলচ্চিত্রের উন্নয়নে বেশকিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। সেগুলো কার্যকর হলে সুফল পাওয়া যাবে। চলচ্চিত্রের মাদার অরগানাইজেশন প্রযোজক সমিতির নির্বাচন হয়েছে। আশা করছি এবার প্রযোজকরাও চলচ্চিত্রের ভালোর জন্য সিনেমা নির্মাণে এগিয়ে আসবেন।
রিয়াজ, চিত্রনায়ক
সিনেমার অবস্থা যে ভালো না তা আমরা সবাই জানি। প্রধানমন্ত্রী চলচ্চিত্রের উন্নয়নে কাজ করছেন। তিনি চান চলচ্চিত্র যেন এমন অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসে। একটা সময় ঈদের ছবি নিয়ে মানুষের তুমুল আগ্রহ থাকত। আমার নিজেরই ঈদে একাধিক ছবি মুক্তি পেত। ঈদের বিনোদনের বড় একটি মাধ্যম ছিল সিনেমা হল। মানুষ সময় বের করে সিনেমা দেখতে আসত। এখন আসছে না। অনেক সমস্যায় জড়িত ইন্ডাস্ট্রি। সেগুলো সমাধান প্রয়োজন। ব্যক্তিগতভাবে আমি সেই দিনগুলো খুব মিস করি।
ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ, চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সভাপতি
ঈদে মুক্তি দেয়ার জন্য যেরকম ছবি দরকার সেরকম ছবি তো নেই। যা আছে তা মুক্তি দিলে দর্শক জীবনেও সিনেমা হলে আসবে না। তবুও দেখলাম ঈদে অখাদ্য একটি ছবি মুক্তি পেয়েছে। আমার সিনেমা হলে, শাকিব খানের ছবি চলছে। উল্লেখযোগ্য সংখ্যক দর্শক ছবিটি দেখতে আসছেন। আরো কিছু মানসম্মত ছবি মুক্তি পেলে সিনেমা হলগুলো বেঁচে যেত।