একজন গাহকের ঢাকা যাত্রা

আগের সংবাদ

আত্মজৈবনিক অনুকরণীয় গ্রন্থ অসমাপ্ত আত্মজীবনী

পরের সংবাদ

রাত পোহাবার একটু আছে বাকি

প্রকাশিত হয়েছে: আগস্ট ১৪, ২০১৯ , ৫:০৭ অপরাহ্ণ | আপডেট: আগস্ট ১৪, ২০১৯, ৫:০৭ অপরাহ্ণ

Avatar

লোকে কথায় কথায় বলে রাজনীতিতে শেষ কথা বলতে কিছু নেই তাহলে কি ধরে নেবো রাজনীতি যারা করেন তারা এক কথার মানুষ নন? সময় সুযোগ ও ক্ষমতার জন্য তাঁরা কথার পরিবর্তন করেন যখন তখন? কিন্তু জাতির জনক বঙ্গবন্ধু ব্যতিক্রম ছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন এক কথায়, যা বলার সরাসরি বলতেন, কানে কানে কথা বলা, প্যাঁচ করে কথা বলা তার স্বভাব বিরুদ্ধ ছিল। তিনি বিশ্বাস করতেন সকলকে এবং এই সরলতার কঠিন মূল্য দিলেন অবশেষে।
পাকিস্তান কায়েম হওয়ার পর ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জুলুম করছিলেন চতুর্থ শ্রেণির নিরীহ গরিব কর্মচারীদের ওপর। তাদের বঞ্চিত করা হয়েছিল তাদের ন্যায্য পাওনা থেকে। বঙ্গবন্ধু সাথী ছাত্রদের নিয়ে এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলেন। অবশেষে কোনো কোনো নেতা বন্ড দিয়ে বশ্যতা স্বীকার করলেও বঙ্গবন্ধু বন্ড দিতে রাজি হননি। আজীবন থেকে গেলেন বহিষ্কার হয়ে।
বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে স্বাধীন হয় দেশ। এবং সেই স্বাধীন বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং সেই ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের আচার্য তিনি। রাত পোহালে যাবেন সমাবর্তন অনুষ্ঠানে। সেই রাতে ইতিহাসের মহানায়কের সাথে দেখা করতে আসে বিশ্বাস ঘাতক বেইমান খন্দকার মোশতাক। হয়তো জানতে চেয়েছে ষড়যন্ত্র সম্পর্কে বঙ্গবন্ধু কিছু টের পেয়েছেন কিনা। জানতে পারলে তো সরল মনে বলে দেবেন। পুরনো বঙ্গভবনে তাজউদ্দীন সাহেবকে নিয়ে দেখা করতে আসেন প্রফেসর আবদুল মতিন চৌধুরী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য।
প্রতিদিনের মতো ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাড়িতে ঘুমিয়ে আছেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। হঠাৎ বেজে ওঠে টেলিফোন। হাত বাড়িয়ে রিসিভার ওঠান বঙ্গবন্ধু। হ্যালো…..। চমকে ওঠেন জাতির জনক। এ কি সর্বনাশা কথা! কার এমন দুঃসাহস? টেলিফোনের ওপাশ থেকে বলছেন “আমি সেরনিয়াবাত, আক্রান্ত আমার বাসা। দুষ্কৃতকারীরা চারদিকে ঘিরে ফেলেছে। আর্মির গাড়ি এসে থেমেছে। চারদিক থেকে গোলাগুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে। খারাপ কিছু ঘটতে যাচ্ছে হয়তো।”
বঙ্গবন্ধু ফোন লাগান মহিতুলকে।
মহিতুল অতি দ্রুত ফোন ধরেন।
স্যার আমি মহিতুল বলছি।
জলদ গম্ভীর স্বরে বলেন বঙ্গবন্ধু আবদুর রব সেরনিয়াবাতের বাসায় আক্রমণ করেছে দুষ্কৃতকারীরা। জলদি পুলিশ কন্ট্রোল রুমে ফোন লাগা, তাড়াতাড়ি কর। চমকে উঠেন কথা শুনে বেগম মুজিব। অজানা আতঙ্কে কেঁপে কেঁপে ওঠে বুক। পুলিশ ঠিকমতো পৌঁছতে পারবে তো? নইলে সর্বনাশ হয়ে যেতে পারে।
বঙ্গবন্ধু ভাবেন একবার খোঁজ নেয়া দরকার মহিতুল পুলিশ লাইনে খবর নিয়েছে কিনা। বঙ্গবন্ধুকে দরজার দিকে এগিয়ে যেতে দেখে আঁতকে উঠেন বেগম মুজিব।
পাগল হলে নাকি?
দরজা খুলছ কেন?
স্বাভাবিক কণ্ঠে জবাব দেন বঙ্গবন্ধু তিনি নিচে যাবেন। বারণ করেন প্রিয়তমা স্ত্রী। কিছুতেই তাঁর নিচে যাওয়া ঠিক হবে না। বাইরে শোনা যাচ্ছে প্রচণ্ড গোলাগুলির আওয়াজ। বঙ্গবন্ধু দৃঢ় কণ্ঠে বলেন তাঁকে নিচে যেতেই হবে। দেখবেন তিনি কি হচ্ছে চারপাশে। কিসের এত গণ্ডগোল।
বেগম মুজিব আবারও অনুরোধ করেন তাঁকে বাইরে না যেতে। এবার জাতির জনক তাঁর স্ত্রীকে বুঝিয়ে বলতে চেষ্টা করেন যে যদি বিদ্রোহীরা তাঁকে মারতেই আসে তবে ঘরের এই কাঠের দরজা কি তাঁকে রক্ষা করতে পারবে? দরজা ভেঙেই ভেতরে ঢুকবে তারা। তার চেয়ে এই ভালো তিনি বাইরে গিয়ে দেখবেন কী চায় ওরা কেন এসেছে এই গভীর রাতে।
সুখে-দুঃখে জীবন চলার পথে কখনো হাল ছাড়েননি বেগম মুজিব। সাহসের সাথে সামলে নিয়েছেন। কেন জানেন না আজ তাঁর ভেঙে গেছে মন। শব্দ করে কেঁদে উঠেন তিনি। দরজার ছিটকিনি থেকে হাত সরিয়ে নেন বঙ্গবন্ধু।
বললেন নিম্নস্বরে
কান্না থামাও রেনু।
কেন কাঁদছ বলতো?
কিন্তু রেনুর কান্না থামে না। বঙ্গবন্ধু আগে কখনো রেনুকে এভাবে কাঁদতে দেখেননি। জীবনে সকল সমস্যার সমাধান করেছেন অশ্রুহীন চোখে। জাতির জনক ভাবতে থাকেন। রেনু তাঁর প্রিয় সন্তানদের জননী। তবে কি তিনি শেষ পরিণতি বুঝতে পেরে কাঁদছেন?
দরজায় দাঁড়িয়ে থাকেন রেনু। একবার ভাবলেন নিচে যাবেন। একটু আগে প্রেসিডেন্ট একাকী গেলেন নিচে। কিসের এত কথা বলা। কার সাথে কথা বলবেন তিনি? কান খাড়া করেন তিনি। বাইরে বুটের আওয়াজ। মানুষের সতর্ক চলাচল ফিসফিস শব্দ। কানে বাজে বঙ্গবন্ধুর অমর বাণী। “আমি তোমাকে বহুবার বলেছি, আমি বিশ্বাস করি সকল ক্ষমতার উৎস জনগণ। এটাই আমার জীবনের দর্শন। তুমি তো জান আমি বাঙালির ভালোবাসার কাঙাল। আমি সব হারাতে পারি কিন্তু মানুষের ভালোবাসা হারাতে চাই না।” জাতির জনক নিচে নেমে এসে স্বাভাবিক কণ্ঠে বললেন মহিতুলকে “পুলিশ কন্ট্রোলরুমে লাগাতে বললাম লাগালি না?” মহিতুল জানালেন চেষ্টা করেছেন তিনি কিন্তু কেউ ফোন তুলছে না। গণভবন এক্সচেঞ্জ ধরেছেন কিন্তু কোনো উত্তর দিচ্ছে না। বঙ্গবন্ধু নিজ হাতে উঠিয়ে নেন রিসিভার আমি প্রেসিডেন্ট শেখ মুজিব বলছি কিন্তু কেউ টেলিফোন রিসিভ করে না।
এমন সময় হঠাৎ আঘাত করে একঝাঁক গুলি এসে। ভেঙে যায় কক্ষের দক্ষিণ দিকের জানালার কাচ। ক্ষত-বিক্ষত হয় কক্ষের দেয়াল। গুলির আঘাতে একটি কাচ ভেঙে মহিতুলের কনুই কেটে যায়। টপ টপ করে ঝরে পড়ে রক্ত। আবার একঝাঁক গুলি আসে দক্ষিণের জানালার দিকে অতঃপর ঢুকে অজস্র গুলি।
বঙ্গবন্ধু শুয়ে পড়েন টেবিলের পাশে। বিশাল হৃদয়ের মানুষ জাতির জনক। মৃত্যুর কাছাকাছি দাঁড়িয়েও তিনি ভুলে যাননি মহিতুলকে হাত ধরে টেনে বললেন শুয়ে পড়তে। কিছুক্ষণ পর গুলি কিছুটা কমে এলে কাজের ছেলে সেলিম পাঞ্জাবি ও চশমা এনে হাত বাড়িয়ে দেয়। পাঞ্জাবি চশমা পরে দাঁড়ালের বারান্দায়। শোনা গেল তার বজ্রকণ্ঠ
“আর্মি সেন্ট্রি পুলিশ সেন্ট্রি
এত গোলাগুলি হইতেছে তোমরা কি কর?”
বঙ্গবন্ধু জাতির জনক। ইতিহাসের মহানায়ক। একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ। সারা জীবন ছিলেন আন্দোলন সংগ্রামে। তিনি বুঝতে পারলেন যে তিনি আক্রান্ত। চারদিকে ঘিরে ফেলেছে আর্মি। একটু পরেই হয়তো বন্দুক তাক করে ঢুকবে ঘরে। তার ঘরে ঢুকবে সেনাসদস্য অস্ত্র হাতে এটা তিনি স্বপ্নেও ভাবেননি কখনো। তিনি ফোন করলেন জনাব শফিউল্লাহকে। “শফিউল্লাহ তোমার ফোর্স আমার বাড়ি অ্যাটাক করেছে। কামালকে বোধহয় ওরা মেরে ফেলেছে। তুমি জলদি ফোর্স পাঠাও। উত্তরে বললেন শফিউল্লাহ “I am doing something. Can you get out of the home?” আমি বলি কি জনাব শফিউল্লাহ ভালো করে জানেন-পিঠ দেখানোর জন্য শেখ মুজিবের জন্ম হয়নি। তিনি হাজার বুলেট ধারণ করতে পারেন।
গোলাগুলির এক পর্যায়ে শেখ কামাল নিচে নেমে গিয়ে বললেন “আর্মি ও পুলিশ ভাই আপনারা আমার সাথে আসেন।” ঠিক এ সময়ে ৩/৪ জন আর্মি সাথে নিয়ে এগিয়ে আসে মেজর হুদা এবং সাথে সাথে গুলি করে শেখ কামালের পায়ে। তিনি শেখ মুজিবের ছেলে এ কথা পরিচয় দিলে সাথে সাথে ব্রাশফায়ার করে। বঙ্গবন্ধুর বড় ছেলে ঢলে পড়েন মাটিতে বুলেটের আঘাতে ঝাঁঝরা হয়ে যায় বুক, ব্রাশফায়ারের একটি গুলি মহিতুলের হাঁটুতে লাগে। অন্য একটি লাগে পুলিশ কর্মকর্তা নুরুল ইসলামের পায়ে। তারা দুজন এবং অন্য একজন অফিসার পেছনের দরজা দিয়ে বাইরে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। মেজর হুদা তাদের চুল ধরে টেনে তোলে এবং গেটের সামনে দাঁড় করিয়ে রাখে।
অতঃপর কয়েকজন আর্মি পাহারায় থাকে এবং অন্যরা সিঁড়ি বেয়ে সোজা উপরে উঠে যায়। যেখানে বসবাস করেন বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি। বাধা দেয়ার কেউ নেই। তবু তাদের অনেক ভয়। ফায়ার করতে থাকে চারদিকে। ক্যাপ্টেন হুদা এবং একজন মেজর সিঁড়িতে উঠে থমকে দাঁড়ায়। মহিউদ্দিন ও তার ফোর্স নিচে নেমে আসছে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে।
সেই সময় মেজর নুর কি যেন বলে ইংরেজিতে এবং তার কথা শুনে সরে দাঁড়ায় মেজর মহিউদ্দিন তার ফোর্সসহ এবং ঠিক এ সময় ইতিহাসের মহানায়ক জাতির জনক বঙ্গবন্ধু বজ্রকণ্ঠে প্রশ্ন করেন তোরা কি চাস? বঙ্গবন্ধু সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে যেই সিঁড়ি অনেক কষ্টে করেছে রেনু ধারদেনা করে।
ঘাতক হুদা ও মেজর নূর তাকিয়ে আছে বঙ্গবন্ধু দিকে। অধম তারা হিংস্র পশুর চেয়ে। মুহূর্তে গর্জে ওঠে দানবের হাতের অস্ত্র। তারা চালায় গুলি। একঝাঁক বুলেট বেরিয়ে যায় বঙ্গবন্ধুর বুক চিরে।
হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, স্বাধীনতা সংগ্রামের বীর সেনানী ইতিহাসের মহানায়ক, দুঃখী মানুষের দুর্দিনের বন্ধু, বাঙালি জাতির মুক্তিদাতা, স্বাধীনতার মহান স্থপতি, বিশ্ববন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান লুটিয়ে পড়েন সিঁড়িতে। বাইরে শ্রাবণের থমথমে আকাশ, ঘরের ভেতর ঘটে যায় মহাপ্রলয়, লাল টকটকে রক্তে ভেসে যায় সিঁড়ি, রক্তে ভেসে যায় ৩২ নম্বর, রক্তে ভেসে যায় ধানমন্ডির লেক, রক্তে ভেসে যায় পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, রক্তে ভেসে যায় গোটা বাংলাদেশ।
পায়ের আওয়াজ, বুটের খট খট শব্দ, গুলির আওয়াজ শুনে বুকখানা কেঁপে ওঠে বেগম মুজিবের। দ্রুত ছুটে আসেন তিনি। ইতিহাসের মহানায়ক, স্বাধীনতার মহান স্থপতি বঙ্গবন্ধু লুটিয়ে পড়েছেন। কেন এমন হলো? কি অপরাধ তার? তিনি বুঝতে পারেন না এটা কী করে সম্ভব? যার কিছু হলো না জেলখানার অনশনে, যার কিছু হলো না ছোটবেলায় নৌকাডুবিতে, যার কিছুই হলো না ফাঁসির মঞ্চে দাঁড়িয়ে, যার কিছুই হলো না বারবার দাঙ্গা থামাতে গিয়ে, তিনি আজ অকারণে লুটিয়ে পড়েছেন সিঁড়িতে।
শেখ আবু নাসের। বঙ্গবন্ধুর আদরের ছোট ভাই। রক্তাক্ত ছিলেন। একটু আগে হাতে গুলি লেগেছিল। বাঁচার জন্য মিনতি করেন। “স্যার আমি তো রাজনীতি করি না কোনো রকমে ব্যবসা করে খাই” তাঁর কথা শুনে পাহারায় রত একজন সৈনিক বলে উঠে “শেখ মুজিব ইজ বেটার দেন শেখ মুজিব।” মৃত্যু ভয়ে শুকিয়ে যায় শেখ নাসেরের বুক। যেন হাজার বছর পানি খাননি তিনি। পানি পানি বলে চিৎকার করতে থাকেন। কিন্তু হায়নার দল পানির বদলে দিল গুলি।
বঙ্গবন্ধুর অতি আদরের ছোট ছেলে শেখ রাসেল। চোখের সামনে মৃত্যুর বিভীষিকা দেখে কণ্ঠ শুকিয়ে যায় তার। সে ভাবে সত্যি তাকেও করবে গুলি? এ কঠিন সময়ে তার মায়ের কথা মনে পড়ে যায়। পড়বেই তো। পৃথিবীতে সন্তানের আশ্রয় স্থল তো তার মায়ের বুক। রাসেল কম্পিত কণ্ঠে বলে সে তার মায়ের কাছে যেতে চায়। রক্ত চক্ষু এক সেনাসদস্য এসে তাকে মহিতুলের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয় এবং মিথ্যা আশ্বস দিয়ে বলে তাকে তার মায়ের কাছে নিয়ে যাবে। তার কথা শুনে খুশি হয় ছোট্ট সোনা রাসেল। মায়ের কাছে নিয়ে গেলে আর কোনো ভয় নেই। বঙ্গবন্ধুর শোবার ঘরে এক সাথে ছিলেন বেগম মুজিব, শেখ কামাল ও জামালের স্ত্রী। বড্ড হতভাগী তারা। বিয়ে হয়েছে মাত্র এক মাস আগে ঘরের মেঝেতে আলপনা আঁকা। মেহেদীর রং শুকায়নি হাতের আজ সন্ধ্যায়ও তারা মহামান্য রাষ্ট্রপতির আদরের পুত্রবধূ ছিল।
অতঃপর ঘাতক দল থেকে মেজর আজিজ পাশা, রিসালদার মোসলে উদ্দিন উপরে উঠে মেশিন গান হাতে নিয়ে। তারপর বঙ্গবন্ধুর পরিবারের নিরীহ, নিরপরাধ মানুষ গুলির ওপর ক্ষ্যাপা কুকুরের মতো চালায় গুলি। রক্তের সাগরে ভেসে যায় ৩২ নম্বরের বাড়ি। অথচ এ বাড়ি বাঙলার মুকুটহীন সম্রাটের ছিল। এ বাড়ি থেকে স্বাধীনতার মহান বাণী উচ্চারিত হতো। এ বাড়িতেই থাকতেন বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি।
তারপর ধীরে ধীরে গুলির শব্দ কমে যায়। মেজর হুদার হাতে রক্তাক্ত স্টেনগান। তাকে কী যেন জিজ্ঞেস করে মেজর ফারুক। ঘাতকের মুখে নির্মম হাসি। দম্ভ করে বলে সে- all are finished; অর্থাৎ সব শেষ। তখন রাত পোহাবার একটু আছে বাকি।