সাময়িকী

রাত পোহাবার একটু আছে বাকি

আগের সংবাদ

দাবায়ে রাখতে পারবা না

পরের সংবাদ

আত্মজৈবনিক অনুকরণীয় গ্রন্থ অসমাপ্ত আত্মজীবনী

প্রকাশিত হয়েছে: আগস্ট ১৪, ২০১৯ , ৫:১৬ অপরাহ্ণ | আপডেট: আগস্ট ১৭, ২০১৯, ১২:৫৬ অপরাহ্ণ

Avatar

হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি শেখ মুজিবুর রহমান প্রণীত ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ গ্রন্থটি নিয়ে আলোচনা করতে বসে প্রথমেই মনে একটি জিজ্ঞাসা আসে, স্বপ্নবান প্রতিটি মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি নিজেকে নায়কের অবস্থানে দেখা এবং তিনি এটাও জানেন ‘বড় গাছের ছায়ায় কখনো ছোট গাছ বেড়ে ওঠার সুযোগ পায় না।’ সুতরাং নিজেকে ‘নায়ক’-‘মহানায়কের’ উচ্চতায় প্রতিষ্ঠিত করতে চাইলে, তার সামনে থাকা ‘নায়ক’-‘মহানায়কের’ ভাস্কর্যটি সরিয়ে ফেলতে হবে; বঙ্গবন্ধুও কি তাই করতে চেয়েছেন? এমন একটি ভুল ধারণা যদি কারো থাকে আমি তাকে বিনয়ের সাথে পড়তে বলবো শেখ মুজিবুর রহমান প্রণীত ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ গ্রন্থটি। শেখ মুজিবের সাহিত্যকৃতি নিয়ে উচ্ছ¡সিত হওয়ার কিছু নেই, যে কেউ বলতেই পারেন; তাঁকে নিয়মিত লেখক দাবি করারও সুযোগ নেই; যাপিত জীবনে তিনি সার্বক্ষণিক একজন রাজনীতিক, জীবনের একটা বড় অংশ কাটিয়েছেন তিনি জেলে; বাংলার মানুষকে ভালোবেসে নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছেন। আমরা যদি ইতিহাসের দিকে তাকাই নিকট-অতীত তো বটেই, দূর-অতীতেও তেমন দৃষ্টান্ত সহজে খুঁজে পাওয়া যাবে না। অকপট সত্যভাষণে তিনি নিজের যাপিত জীবন সম্পর্কে বলতে শুরু করেছেন বন্ধুবান্ধবরা বলে, ‘তামার জীবনী লেখ’। সহকর্মীরা বলে, ‘রাজনৈতিক জীবনের ঘটনাগুলি লিখে রাখ, ভবিষ্যতে কাজে লাগবে।’ আমার সহধর্মিণী একদিন জেলগেটে বসে বলল, ‘বসেই তো আছ, লেখ তোমার জীবনের কাহিনী।’ বললাম, ‘লিখতে যে পারি না; আর এমন কি করেছি যা লেখা যায়! আমার জীবনের ঘটনাগুলি জেনে জনসাধারণের কি কোনো কাজে লাগবে? কিছুই তো করতে পারলাম না। শুধু এইটুকু বলতে পারি, নীতি ও আদর্শের জন্য সামান্য একটু ত্যাগ স্বীকার করতে চেষ্টা করেছি।’ বঙ্গবন্ধুর এই যে বিনয়, এ বিনয় ছিল তাঁর ব্যক্তিগত এবং রাজনৈতিক জীবনেও। কতটা বিনয়-ঔদার্য আর রাজনৈতিক সহিষ্ণুতা থাকলে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, এ কে ফজলুল হক আর খাজা নাজিমুদ্দিনের স্মৃতিসৌধ একই আঙিনায় নির্মাণ করতে পারেন? ভেবে অবাক হয়ে যাই। নিজে নায়ক-মহানায়ক হওয়ার জন্য শেখ মুজিব কখনো অগ্রবর্তী-সতীর্থদের খাটো করেননি, তাঁর ব্যক্তি জীবন-রাজনৈতিক জীবন অথবা সামাজিক জীবনে তেমন লক্ষণ দেখা যায়নি; অসমাপ্ত আত্মজীবনী পড়েও তেমনটিই মনে হয়েছে।
ত্রিশোত্তর কবিরা যেমন রবীন্দ্রনাথকে অস্বীকার করতে চেয়েছেন, সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে লেনিনের ভাস্কর্য অপসারণ, ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে তাঁর নামে অপপ্রচার-মিথ্যাচার ইত্যাদি; আবার বিপরীত দিকে জিয়ার ভাঙা ব্রিফকেস-ছেঁড়া গেঞ্জি, সবই একসূত্র থেকে পাওয়া; সর্বত্রই নায়ক-মহানায়ক বানানো এবং অপসারণের তৎপরতা। নাৎসি নেতা হিটলারের প্রচারমন্ত্রী জেমস গোয়েবল্সের ‘মিথ্যাকে সত্য বানাবার সূত্রের’ কথা আমরা সবাই জানি। সুতরাং বঙ্গবন্ধুর মতো মহানায়ক যতক্ষণ মহিরুহ হয়ে আমাদের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন, ততক্ষণ আমাদের ‘মহানায়ক’ তো দূরের কথা ‘নায়ক’ হওয়ার সুযোগও তো নেই। তা ছাড়া বাঙালির ইতিহাসে নায়কের সংখ্যা তো একেবারেই অঙ্গুলিমেয় নয়। সহজেই আমরা উচ্চারণ করতে পারি অসংখ্যের নাম। নায়কের জন্ম হয় মানুষের ভালোবাসায়-বিশ্বাসে; যারা ভাবেন নায়ককে খর্ব করলেই নিজের নায়ক হওয়ার পথ প্রশস্ত হবে, তারা বোকার স্বর্গে বাস করছেন। মিথ্যাচার করে কারো নামে কলঙ্ক রটিয়ে ইতিহাসে নায়ক হয়ে ওঠা যায় না; ব্যক্তিগত-গোষ্ঠীগত-দলগত-সম্প্রদায়গত স্বার্থে অথবা ঈর্ষা-হিংসা-বিদ্বেষ-কূপমণ্ডুকতা-স্বার্থান্ধতার কারণে কেউ কোনো জাতীয় নায়ককে প্রশ্নবিদ্ধ করে হীন স্বার্থান্ধতায় নিজের অবস্থানকে আমরা যেন আঁস্তাকুড়ে নিয়ে না যাই। শেখ মুজিব নিয়মিত কবি-সাহিত্যিক না হলেও তাঁর ৭ই মার্চের ভাষণ শুনে আমরা যেমন তাঁকে রাজনীতির কবি বলে স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হই; তেমনি তাঁর অসমাপ্ত আত্মজীবনী পড়লে অকুণ্ঠচিত্তে তাঁকে একজন সফল গদ্যকার হিসেবে মান্য করতে দ্বিধা করি না।
অসমাপ্ত আত্মজীবনী একাধিকবার পড়ার আকর্ষণ কেন? দৃষ্টি সক্ষমতার ঘাটতি থাকার পরও কোন জাদুবলে আমি এত বড় গ্রন্থটি একাধিকবার পড়বার প্রেরণা পেলাম সেইটে খুঁজি। প্রথমত, পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম, দ্বিজাতিতত্ত্বের অসারতা, মুসলিম লীগের ব্যর্থতা ইত্যাদি বিষয়ে গ্রন্থটিকে অত্যন্ত সাবলীল এবং গ্রহণযোগ্য বই বলেই মনে হয়েছে; দ্বিতীয়ত, বইটিতে বঙ্গবন্ধুর বিনয়-ঔদার্য আর মহানুভবতার যে পরিচয় পেয়েছি বারবার, তা অসাধারণ; তৃতীয়ত, গুরুজনের প্রতি বঙ্গবন্ধুর শ্রদ্ধবোধ, এমনকি বিপক্ষ চেতনার গুরুজনের প্রতিও যেমন মুগ্ধ করেছে, তেমনি আকৃষ্ট করেছে নানান বিষয়ে তাঁর অকপট স্বীকারোক্তি; চতুর্থত, বইটির ভ‚মিকায় বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা পাণ্ডুলিপি উদ্ধার এবং সম্পাদনাপর্বের যে বর্ণনা করেছেন, বইটি পড়ে তা বিশ্বস্ত মনে হয়েছে। আহা আমাদের সৌভাগ্য অমূল্য এ পাণ্ডুলিপির চারটি খাতা ফিরে পাওয়ার আনন্দ। পঞ্চমত, একজন অযোগ্য বাঙালি হয়ে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালির বয়ান এবং স্বপ্নযাত্রা পড়ে মনে হয়েছে এ বই পড়ে নতুন প্রজন্মের স্বপ্নবান হওয়ার সুযোগ আছে। ষষ্ঠত, প্রকাশনায় যে যত্ন পরিলক্ষিত হয়েছে, সেটিও আমাকে আকৃষ্ট করেছে; এবং সপ্তমত, বঙ্গবন্ধু, যিনি বাঙালির চোখে মহত্তম স্বপ্নটি এঁকে দিয়ে দীর্ঘ নয় মাস অতন্দ্র থাকায় উজ্জীবিত করে স্বাধীনতার স্বর্ণ দুয়ারে পৌঁছে দিলেন, তাঁর সম্পর্কে জানতে পারলে নিজেকে অপরাধি মনে হবে, অকৃতজ্ঞ মনে হবে; এবং বিধ কারণে একাধিকবার বইটি পড়েছি, বিচ্ছিন্নভাবে এখনো বারবার পড়ছি; মনে হয় এ জীবনে ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ পাঠ শেষ হবে না। বইটি পাঠে দু’একটি কষ্টের কথাও বলতে চাই। প্রথমত, এটি অসমাপ্ত আত্মজীবনী, ১৯৫৫ পর্যন্ত সময়ের কথা বলা হয়েছে, যদি ১৯৭৪ পর্যন্ত সময়ের ঘটনা প্রবাহ আমরা পেতাম, আফসোস ফুরাবে না এ জীবনে। দ্বিতীয়ত, বইটিতে যত্নের অভাব নেই, মানলেও, যখন দু’চারটি মুদ্রণপ্রমাদ দৃষ্টিতে আসে, তখন খারাপ লাগে বৈকি। তৃতীয়ত, ভ‚মিকায় বঙ্গবন্ধুকন্যা উল্লেখ করেছেন, ‘তিনি যেভাবে লিখেছেন আমাদের খুব বেশি সম্পাদনা করতে হয়নি। তবে কিছু শব্দ ও ভাষার সাবলীলতা রক্ষার জন্য সামান্য কিছু সম্পাদনা করা হয়েছে।’ যদি তাই হয়, তাহলে কেন বইটিতে সামান্য হলেও ভাষাগত ত্রু টি থাকবে?
বাঙালির হাজার বছরের ইতিহাসে কখনো আমাদের স্বশাসিত হওয়ার সুযোগ আসেনি। স্বশাসিত হওয়ার স্বপ্নটি আমাদের বুকে সেঁটে দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। শেখ মুজিব তাঁর যাপিত জীবনে দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রাম-দেশপ্রেম-বাঙালির প্রতি ভালোবাসা আর আত্মত্যাগের মহিমায় ‘নায়ক’ হয়ে উঠেছিলেন ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের আগেই। ১৯৭০-এর নির্বাচন আর ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ তাঁকে নায়ক থেকে ‘মহানায়ক’ করে তোলে। কেউ চাইলেই নায়ক-মহানায়ক হয়ে উঠতে পারেন না, মানুষের বিশ্বাস আর ভালোবাসাই তাঁকে ‘নায়ক-মহানায়ক’ করে তুলতে পারে। শেখ মুজিব তাঁর রাজনৈতিক জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে বাঙালির আশা-আকাক্সক্ষার কথা উচ্চারণ করেছেন দৃঢ়তার সাথে। ভাষা আন্দোলন থেকে যুক্তফ্রন্ট, যুক্তফ্রন্ট থেকে শিক্ষা আন্দোলন, শিক্ষা আন্দোলন থেকে ৬ দফা এবং স্বায়ত্তশাসনের আন্দোলন, লক্ষ করলেই দেখবো শেখ মুজিব সবার আগে সাধারণ মানুষের কথা ভেবেছেন; এবং সাধারণকে সঙ্গে নিয়েই তিনি জাতিকে বৃহত্তর আন্দোলন-সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত করে তোলেন। এমন নয় যে এসব আন্দোলন-সংগ্রাম শেখ মুজিব একাই করেছেন, বাঙালির সে লড়াই-সংগ্রামে অনেকেই সম্পৃক্ত ছিলেন; কিন্তু বঙ্গবন্ধু বাঙালির সংগ্রামকে একক নেতৃত্বে পৌঁছে দিলেন স্বাধীনতার স্বপ্নপ্রকোষ্ঠে। ১৯৭০-এর নির্বাচনে তাঁর নেতৃত্বে বাঙালির নিরঙ্কুশ বিজয় এবং ১৯৭১-এর ৭ই মার্চ-পরবর্তী ক’দিনে বাঙালির স্বাধীনতা লাভের স্বপ্নটি আপামর বাঙালির চোখে চোখে দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। বাঙালির আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে এ দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের চোখে সে সময় তিনি যে স্বপ্ন জুড়ে দিলেন, সেই স্বপ্নের তাড়নায় ‘অতন্দ্র’ নিরস্ত্র বাঙালি যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়লো। বিশ্ব জানে ত্রিশ লাখ মানুষের বুকের রক্ত, দুই লাখ মায়ের সম্ভ্রম আর অবর্ণনীয় সীমাহীন দুর্ভোগ মোকাবেলা করেই বাঙালি স্বাধীনতার সূর্যটাকে নিজের করে নেয়। বাঙালি জাতির ভাষারাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অভূতপূর্ব স্বপ্ন বাস্তবায়ন করেই শেখ মুজিব ‘নায়ক’ থেকে ‘মহানায়ক’ হয়ে উঠলেন। তাঁর ঠিকানা হয়ে উঠলো বাঙালির প্রতিটি ঘর। যতদিন পৃথিবী থাকবে, সভ্যতা থাকবে, মানুষ থাকবে; যতদিন মানুষ ইতিহাস চর্চা করবে, ততদিন শেখ মুজিব বাঙালির মাহানায়ক হিসেবে ইতিহাসের পাতায় উজ্জ্বল হয়ে থাকবেন।
দুঃখের বিষয় অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে বঙ্গবন্ধু ১৯৫৫-পরবর্তী সময়ের কথা বলেননি কিছু, ষাটের দশকে যখন তিনি দীর্ঘ কারাবাসে ছিলেন সে সময়ই তিনি এ গ্রন্থটি রচনা করেন; তারপরও বিশেষ করে পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম এবং বাঙালির চেতনার উন্মেষ পর্বের কথা যেটুকু বলা হয়েছে, তা থেকেই আমরা পাকিস্তানি রাজনীতিতে মুসলিম লীগ সরকারের সংকীর্ণতা এবং রাজনৈতিক দারিদ্র্যের যে পরিচয় পাওয়া যায় তাতে আমাদের রাজনৈতিক শিষ্টাচারের একটা দিকনির্দেশনাও পাওয়া যায়। বইটি থেকে বিশেষ কিছু উদ্ধৃত করে আমি এ রচনার কলেবর বৃদ্ধি করতে চাই না। তারপরও স্মরণ করতে চাই ১৯৪৬-এর সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে মুসলিম লীগ সরকারের অনীহা, কর্ডন প্রথার অনাচার, জিন্না ফান্ড চালুকরণের নামে সাধারণ মানুষকে শোষণের কথা। কর্ডন প্রথা চালুকরণ বিষয়ে একটা কবিতা উচ্চারণ করছি সবার জন্য অশিষ্ট আঁধার নেমে এসেছিল পথে হঠাৎ ভোরের রোদে/ধর্মের লেবাসে চোর ঢোকে ভাঁড়ারে বুঝেছে অকাট নির্বোধে;/ফরিদপুর-কুমিল্লা-ঢাকায় খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছিলো/দরিদ্র ‘দাওয়াল’ ক্ষেত-মজুরেরা যেতো খুলনা-সিলেট-বরিশালও;/তিন মাস কাজ করে শ্রমের-ঘামের ধান নিয়ে ফিরতো বাড়ি/ (কর্ডন দুর্যোগে \ বিষাদোত্তর পঙ্ক্তিমালা \ ফরিদ আহমদ দুলাল)
রাজনৈতিক জীবন তো অবশ্যই, তিনি তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের বিভিন্ন অনুষঙ্গের কথা অত্যন্ত আবেগ এবং গভীরতায় উচ্চারণ করেছেন; তাঁর সহধর্মিণী বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, যাঁকে তিনি রেণু নামে সম্বোধন করেছেন; তাঁর সম্পর্কেও বলেছেন গভীর ভালোবাসায়; আমরা যে তাঁর এ ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ পেতাম-ই না যদি তাঁর সহধর্মিণী তাঁকে প্রাণিত না করতেন, যদি তিনি জেলগেটে লেখার জন্য প্রয়োজনীয় খাতা-কলম না রেখে আসতেন; যে কথা তিনি গ্রন্থের সূচনাতেই উল্লেখ করেছেন। বাঙালির জীবনে অহংকার করবার মতো যে মানুষটিকে আমরা হীনমন্যতায় হারিয়েছি, তা কখনো পুশবার নয়; কিন্তু আমাদের নতুন নায়ক-মহানায়কের প্রয়োজন যেহেতু ফুরিয়ে যায়নি; তাই নিজেদের দিশার প্রয়োজনেই আমাদের যত্নে পাঠ করা আবশ্যক বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’।