কংগ্রেসের নেতৃত্বে ফিরলেন সোনিয়া গান্ধী

আগের সংবাদ

রায়গঞ্জে বাসের ধাক্কায় স্ত্রীসহ সাংবাদিক নিহত

পরের সংবাদ

পনেরো আগস্ট হত্যাকাণ্ড পরিকল্পিত ও রাজনৈতিক

প্রকাশিত হয়েছে: আগস্ট ১১, ২০১৯ , ১:২৯ অপরাহ্ণ | আপডেট: আগস্ট ১১, ২০১৯, ১:২৯ অপরাহ্ণ

Avatar

পনেরো আগস্টের হত্যাকাণ্ড ছিল পরিকল্পিত ও রাজনৈতিক এমন মন্তব্য করে জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেছেন, কলঙ্কিত এই হত্যাকাণ্ডে নেতৃত্বের কোন্দল ছিল না। এটি কতিপয় মেজরের তাৎক্ষণিক উত্তেজনার কোনো ঘটনা নয়। নির্মম এই হত্যাকাণ্ডে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র ছিল। মূল পরিকল্পনা খন্দকার মোশতাকের। আর জল্লাদের ভূমিকায় ছিল ফারুক-রশীদ-ডালিম-নূর চৌধুরী গংরা। বাঙালির জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের নৃশংস হত্যার ষড়যন্ত্র নিয়ে ভোরের কাগজের সঙ্গে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন ইনু। সাক্ষাৎকারে শোকের মাস আগস্টের বেনিফিশারি, মোশতাক-জিয়া চক্র, জাসদের অবস্থান নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করে জাসদ সভাপতি।
জাসদ বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রেক্ষাপট তৈরি করেছিল দীর্ঘদিন ধরে চলা এই বিতর্কের জবাবে সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, ১৯৭২ থেকে বঙ্গবন্ধুর শাসনামলের রাজনৈতিক বিরোধিতা করেছে জাসদ। আন্দোলন করেছে। জাসদ-আওয়ামী লীগের এই বিরোধের কথা সবাই জানত। কিন্তু রাজনৈতিক বিরোধিতা আর ভয়ঙ্কর খুনের প্রেক্ষাপট এক হয় কি করে? ১৫ আগস্টের সঙ্গে জাসদ এবং কর্নেল তাহেরের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। কর্নেল তাহেরের মাথা খারাপ হয়নি। আর তিনি জড়িত থাকলে তো মোশতাকের কেবিনেটে বিরাট একটা পদ বাগিয়ে নিতেন! এসব লেখক মহিউদ্দিনের মিথ্যাচার। ইতিহাস কোনো মিথ্যাচার নয়। আর জিয়াকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য কর্নেল তাহেরের কোনো মাথাব্যথা ছিল না। আমরা সিপাহী জনতার বিপ্লব করেছি। আর এর সুফলভোগী হয়েছেন জেনারেল জিয়া। তিনি ক্ষমতা দখল করেছেন। অন্যদিকে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নয়, খুনিদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছিলেন খালেদ মোশাররফ। তিনিই মোশতাককে ক্ষমতায় রেখেছিলেন। সেনাপ্রধান হওয়ার স্বপ্ন দেখেছেন। নিজে বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে ২৯ জন খুনিকে থাইল্যান্ডে পাঠিয়েছেন। যাদের বিচার করার দাবি ছিল জাসদের। বঙ্গবন্ধুর পর চার জাতীয় নেতা কারাগারে নির্মমভাবে খুন হয়েছেন আর খালেদ মোশাররফ সেনাপ্রধানের স্বপ্নে বিভোর। তাও মোশতাকের হাত ধরে!
ইনু বলেন, জাসদ বিপ্লবের স্বপ্ন দেখেছে। খুনে বিশ্বাসী নয়। বঙ্গন্ধুর রাজনৈতিক বিরোধিতা করেছে সত্য। কিন্তু জাতির পিতাকে খুন করার পরিকল্পনা, অবৈধভাবে ক্ষমতায় যাওয়ার পরিকল্পনা করেনি। জাসদ কিছুতেই বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড সমর্থন করেনি বরং খুনি মোশতাককে উৎখাতের জন্য আন্দোলন করেছে। জাসদ কর্মীরা মোশতাকের নির্যাতনের শিকার হয়েছে। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যার পর সুফলভোগী কারা ছিল? মোশতাক এবং তার অনুসারিরা। সুফলভোগী ছিলেন জেনারেল জিয়া। যিনি কে এম সফিউল্লাহর পর সেনাপ্রধান হন। আর ছিল খুনিরা। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর কোনো জাসদ নেতাকর্মী পরিবর্তিত কু-রাজনীতির বেনিফিশারি ছিলেন না। নির্যাতনের শিকার হয়েছে জাসদ। বঙ্গবন্ধুর সময় কারাগারে থাকা নেতাকর্মীদের একজনও মোশতাকের ৮৩ দিনের শাসনমালে মুক্তি পাননি। অথচ বন্দি অনেক রাজাকার, পাকিস্তানপন্থিদের মুক্তি দেয়া হয়!
মোশতাক কেন জাসদ নেতাকর্মীদের মুক্তি দেয়নি এমন প্রশ্নের জবাবে ইনু বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যার পর আমরা কয়েকজন গোপন বৈঠকে বসি। কোনো অবৈধ সামরিক সরকার, কোনো খুনি সরকার বঙ্গবন্ধুর বিকল্প হতে পারে না। জাসদ খুনি সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক অবস্থান নেবে এবং উৎখাতে আন্দোলন করবে। বৈঠক থেকে আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ জাসদ ছাত্রলীগকে খুনিদের বিরুদ্ধে মিছিল এবং লিফলেট ছাপানোর নির্দেশ দিই। ১৭ এবং ১৮ আগস্ট মোশতাকের বিরুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের প্রতিবাদ মিছিল হয়। সারাদেশেই এই উদ্যোগ অব্যাহত থাকে। এ কারণে মোশতাক চট্টগ্রাম, উত্তরবঙ্গ, রাজবাড়ীতে শতাধিক জাসদ কর্মীকে হত্যা করে। গাইবান্ধার রোস্তমকে হত্যা করে জিপের পেছনে বেঁধে সারা শহর প্রদক্ষিণ করে। তিনি বলেন, আমরা একটা ঐক্য গড়ে তোলার জন্য ইউনাইটেড পিপলস পার্টির কাজী জাফর ও রাশেদ খান মেননের নেতৃত্বে বসি। আমাদের ১৫ আগস্টই বসার কথা ছিল। পরিস্থিতি না থাকায় পরদিন বসি। বামনেতা জাগমুইয়ের সিরাজুল হোসেন খানও আমাদের সঙ্গে ছিলেন। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদের জন্য আমরা ঐক্য হই। প্রথমে মোশতাকের বিরুদ্ধে লিফলেট বিতরণ করি।
১৫ আগস্ট রাজধানী ঢাকার চিত্র তুলে ধরে ইনু বলেন, মার্শাল ল ছিল। আমি আমাদের অন্য কর্মীদের মতোই আত্মগোপনে ছিলাম। যে বাড়িতে আত্মগোপনে ছিলাম, নারায়ণগঞ্জ থেকে ওই বাড়িতে টেলিফোন করে আমাকে বঙ্গবন্ধু হত্যার খবর জানান কর্নেল তাহের। আমি ঘুম থেকে ওঠে সত্যতা যাচাই করি। রাস্তার অবস্থা দেখার জন্য বের হই। শাহবাগ বেতার, বঙ্গভবন, টিভি সেন্টার এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ছাড়া কোথাও ট্যাংক ও সেনাবাহিনী ছিল না। সকালে বেতারে মেজর ডালিমের ঘোষণা শুনে স্তম্ভিত ও হতবাক হয়ে যায় পুরো শহর। মানুষ ভীত, সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে। কোনো মহলই উল্লাস-আনন্দ করেনি। আজ যারা বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর ট্যাংকবাহিনীর ওপর নাচানাচির কথা বলে, ফেসবুকে ছবি প্রকাশ করে, এটি ডাহা মিথ্যা কথা। মানুষ ভয়ে খুনিদের ট্যাংকের কাছে যায়নি। এটি ৭ নভেম্বরের সিপাহী জনতার বিপ্লবের ছবি। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ৭ নভেম্বরের ছবি চালিয়ে দেয়ার ঘৃণিত অপচেষ্টা অত্যন্ত দুঃখজনক।
ইনু বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়েছে। খুনিদের অনেকেরই ফাঁসি কার্যকর হয়েছে। অসংখ্য সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। কিন্তু সমগ্র বিচার প্রক্রিয়ার কোথাও জাসদ সম্পর্কে একটা শব্দও নেই। কোথাও জাসদের নাম আসেনি। এটাতো সূবর্ণসুযোগ ছিল। জাসদ জড়িত থাকলে অবশ্যই বিচারের সময় বিষয়টি আসতো। প্রকৃত খুনিদের দুষ্কর্ম আড়াল করার জন্য জাসদের ওপর দোষ চাপানো হচ্ছে। মিথ্যাচার হচ্ছে। আর খুনিরা আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়েছে। খুনি, খুনের পরিকল্পনা, জড়িতদের সামগ্রিক চিত্র উন্মোচনের জন্যই বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের তদন্ত কমিশন হওয়া প্রয়োজন। তখন আর ওমুক তমুক জড়িত এ ব্যাপারটি থাকবে না। কলঙ্কিত হত্যাকাণ্ডের সঠিক ইতিহাস থাকবে।
তিনি বলেন, এটি সংবিধান বহির্ভূত কর্মকাণ্ড রাষ্ট্রপতি মারা গেলে সাংবিধানিকভাবে উপ-রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম রাষ্ট্রপতি হবেন। বাণিজ্যমন্ত্রী মোশতাক কি করে রাষ্ট্রপতি হয়? এটি অবৈধ ক্ষমতা দখলের ঘটনা। একটু পরেই স্পষ্ট হয় মোশতাক, তাহেরউদ্দিন ঠাকুরের আসল চেহারা। এ ছাড়া সশস্ত্র বাহিনীর তিনপ্রধান কে এম সফিউল্লাহ, এ কে খন্দকার, নৌবাহিনীর প্রধান, রক্ষীবাহিনীর প্রধান বেতারে বিবৃতি দিয়ে আনুগত্য প্রকাশ করেন যা ছিল অত্যন্ত দুঃখজনক। তারা হত্যাকাণ্ডর পরিকল্পনা নাই জানতে পারেন; কিন্তু হত্যাকাণ্ডের পরই আনুগত্য প্রকাশ করলেন! উচ্ছৃঙ্খল সেনাবাহিনীকে শায়েস্তা করার সামরিক শক্তি তিনবাহিনীর ছিল। যে ট্যাংকের দোহাই দেয়া হয়, সেগুলোতে কোনো গোলা ছিল না। গোলাবিহীন ঘুরে বেড়াচ্ছিল। ট্যাংকের গোলা তো ছিল অস্ত্রাগারে। অথচ তিনবাহিনীর প্রধানরা খুনিদের প্রতিহত করতে পারেননি!
জাসদ সভাপতি বলেন, বঙ্গবন্ধুর সংসদ সদস্য মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল এম জি ওসমানী বাকশালের প্রতিবাদে গণতন্ত্রের দোহাই দিয়ে পদত্যাগ করেছিলেন। সেই ওসমানী বঙ্গবন্ধুর রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে মোশতাককে সমর্থন দিয়ে সামরিক বাহিনীর প্রধান উপদেষ্টা হন! বাকশাল থেকে পদত্যাগ ছিল উদ্দেশ্যমূলক ষড়যন্ত্র। গণতন্ত্রের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই। ইতিহাসে খুনিদের দোসর হয়েই তিনি চিহ্নিত থাকবেন। মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, দেশের দ্বিতীয় রাষ্ট্রপতি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য, বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী সব নীতি নৈতিকতা জলাঞ্জলি দিয়ে সাবেক রাষ্ট্রপতি থেকে ডিমোশনে মোশতাকের কেবিনেটে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হন! এটি একটি নৈতিক পদস্খলনের ঘটনা।
হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আওয়ামী লীগের অনেক শীর্ষ নেতাই জড়িত ছিলেন এমন মন্তব্য করে ইনু বলেন, আপসহীন জাতীয় চার নেতা মোশতাককে নাকচ করেছিলেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর অনেক ঘনিষ্ঠ সহচরসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা মোশতাকের সভায় শপথ নেন কিভাবে? আব্দুর রাজ্জাক, তোফায়েল আহমেদসহ কারাগারে থাকা কতিপয় নেতাকর্মী ছাড়া কারাগারের বাইরে থাকা নেতাকর্মীরা কেউ কোনো প্রতিবাদ করেননি। প্রতিরোধ গড়ে তুলেনি। এরাও জিয়ার মতোই সুফলভোগী।
তিনি বলেন, মোশতাক সংসদ বিলুপ্ত করেনি। সামরিক শাসন জারি করে সংসদ বহাল রাখে। আমরা আশা করেছিলাম বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রিসভার সদস্যরা প্রতিবাদ করবেন। তারা তা না করে উল্টো মোশতাকের আমন্ত্রণে বঙ্গভবনে যোগ দিয়েছিলেন। বর্তমান আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বাবা, সংসদ সদস্য সিরাজুল হক দাঁড়িয়ে মোশতাককে দোষী সাব্যস্ত করে চিৎকার করে বলেন, রাষ্ট্রপতি হওয়ার এবং সভা ডাকার কোনো এখতিয়ার মোশতাকের নেই। তখন সভা পণ্ড হয়ে যায়।
বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিচারণ করে ইনু বলেন, স্বাধীনতার পর ৮১ সদস্য বিশিষ্ট কৃষকলীগ গঠন করে বঙ্গবন্ধু আমাকে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেন। এতে অনেক আওয়ামী লীগ নেতার ঈর্ষার কারণও হয়েছিলাম। সর্বশেষ বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আমার দেখা হয় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন সুগন্ধায় সিঁড়ির শেষধাপে। তখন জাসদ গঠনের প্রস্তুতি চলছিল। বঙ্গবন্ধু আমার বুকে হাত দিয়ে বলেছিলেন, ফুলের টোকা আমার সহ্য হয় না। কারণ তোমরা ফুল। বঙ্গবন্ধু হয়তো আমার জাসদে যোগ দেয়া নিয়ে বলেছিলেন। আমি কোনো উত্তর দেইনি।
জাসদ সভাপতি বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যার পর রাষ্ট্রের চার মূলনীতিকে বিসর্জন দেয়া হয়। রাজাকার-আলবদরদের রাজনীতিতে পুনর্বাসন করা হয়। ইতিহাসকে খণ্ডিত ও বিকৃতি করা হয়। বঙ্গবন্ধুকে নির্বাসনে পাঠানো হয়। নির্বাসনে পাঠানো হয় রবী-নজরুলকেও। খুনিদের মহিমান্বিত পুনর্বাসন করা হয়। বিচার প্রক্রিয়া বন্ধ রাখা হয় যেন ষড়যন্ত্রের নীলনকশা কেউ জানতে না পারে। সামরিক শাসনকে বৈধ্যতা দেয়া হয়। দেশকে বিদেশমুখিতার দিকে ঠেলে দেয়া হয়। সাম্প্রদায়িকতা, ’৭১ এর খুনিদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ের ঠিকানা হয় বাংলাদেশ। বিএনপি নামক রাজনীতির বিষবৃক্ষের জন্ম নেয়। এসবের মাধ্যমে খুনিরা বাংলাদেশের আত্মাকে হত্যা করার চেষ্টা করে। আত্মা ক্ষত-বিক্ষত হয়। কিন্তু হত্যা করতে পারেনি। দীর্ঘদিন পরে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জাসদসহ সব প্রগতিশীল শক্তি ঐক্যবদ্ধভাবে ক্ষমতায় আসায় আবার ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। ১৫ আগস্টের কলঙ্কিত হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে অন্ধকারে নিমজ্জিত বাংলাদেশ আবার বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা স্বপ্নে বিভোর হয়।