সাড়ে তিন হাজার টাকা ছাড়িয়েছে এলাচের কেজি

আগের সংবাদ

লং লিজের মাধ্যমে রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে সরকার

পরের সংবাদ

চট্টগ্রামে শেষ মুহূর্তে আরেক দফা বেড়েছে মসলার দাম

প্রকাশিত হয়েছে: আগস্ট ১১, ২০১৯ , ১:৪৩ অপরাহ্ণ | আপডেট: আগস্ট ১১, ২০১৯, ১:৪৩ অপরাহ্ণ

Avatar

সরবরাহের সংকট না থাকলেও কুরবানি ঈদকে সামনে রেখে শেষ মুহূর্তে আরও এক দফা মসলার দাম বাড়িয়েছেন ব্যবসায়ীরা। গত ১৫ দিনের ব্যবধানে এলাচ, জিরা, দারুচিনি, লবঙ্গ, জায়ফল, জয়ত্রীর দাম কেজিপ্রতি ২০-৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। আমদানি ও সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার পরও উৎসব ঘিরে অধিক মুনাফা করতেই ব্যবসায়ীরা মসলার দাম বাড়িয়েছেন বলে অভিযোগ ক্রেতাদের। তবে আমদানিকারক ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের দাবি, আন্তর্জাতিক বুকিং দর বেশি থাকায় কিছু পণ্যের দাম কিছুটা বেড়েছে। কিন্তু পাইকারি বাজারে নতুন করে তেমন দাম বাড়েনি, খুচরা ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়েছেন। ব্যবসায়ীদের এসব দাবি খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছে ভোক্তা অধিকার নিয়ে কাজ করা কনজ্যুমার এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)।
গতকাল শনিবার চট্টগ্রামের ভোগ্যপণ্যের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জ ও নগরীর কয়েকটি খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ১৫ দিনের ব্যবধানে খুচরা বাজারে বেশির ভাগ মশলার দাম কেজিপ্রতি ২০-৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। তবে পেঁয়াজের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। খাতুনগঞ্জে প্রতিকেজি এলাচ বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার ২শ টাকা। খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ২৩-২৪শ টাকায়। পাইকারি বাজারে জয়ত্রী বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার ২শ টাকায়। খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ২৪শ টাকা দরে। পাইকারি বাজারের ৩শ থেকে ৩৮০ টাকার জিরা খুচরা বাজারে ৪১০ থেকে ৪৩০ টাকা। দারুচিনি পাইকারি বাজারে কেজিপ্রতি ৩৫০ থেকে ৪শ টাকা। খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৪২০-৪৫০ টাকায়। লবঙ্গ পাইকারি বাজারে ৭৫০-৮শ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে এর দাম ৮২০-৮৫০ টাকা। পাইকারি বাজারের একশ টাকার হলুদ খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১২০-১৫০ টাকায়। পাইকারি বাজারে শুকনো মরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৬০-১৬৬ টাকা দরে। খুচরা বাজারে দাম ২শ থেকে ২২০ টাকা। এদিকে ভারতীয় পেঁয়াজ কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ৩৫ টাকা এবং রসুন ৩০ টাকা বেড়ে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ আড়তদার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি সোলায়মান বাদশা বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে বুকিং দর বেশি থাকায় মসলাজাতীয় পণ্যের মধ্যে গুয়াতেমালা থেকে আমদানি করা এলাচ, চীন ও ভিয়েতনামের দারুচিনি, ইন্দোনেশিয়া ও শ্রীলঙ্কার লবঙ্গ, গোল মরিচের দাম বেড়েছে। আমদানির সময় যেসব পণ্যের দর বেশি ছিল, সেগুলোর দাম স্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। জিরার দাম বিশ^বাজারে কম, তাই পাইকারি বাজারে জিরার দাম বাড়েনি। আবার ভারত থেকে এলাচ আমদানি বন্ধ। ফলে গুয়াতেমালার এলাচের বুকিং দর ৯-১০ ডলার থেকে বেড়ে এখন ১৯ ডলারে পৌঁছেছে। ফলে স্বাভাবিকভাবে আমদানি খরচও বেড়েছে।
পাইকারি গরম মসলা ব্যবসায়ী সমিতির সহসভাপতি অমর কান্তি দাশ ভোরের কাগজকে বলেন, মসলার দাম ওঠানামা করে বুকিং ফির ওপর। আন্তর্জাতিক বাজারে মসলার দাম বাড়লে এখানেও মসলার দাম বাড়ে। মসলাপণ্যে সাধারণত কোনো রকমের সিন্ডিকেট হয় না। মসলা আইটেম যে যার মতো করে আমদানি করে বিক্রি করেন। আর এই পণ্যগুলোর দাম ওঠানামা করে। চাহিদাকে পুঁজি করে খুচরা ব্যবসায়ীরা মসলার দাম বাড়িয়েছেন।
খুচরা ব্যবসায়ী মমতাজ উদ্দিন বলেন, কুরবানির ঈদে মসলার যথেষ্ট চাহিদা থাকে। পাইকারিতে দাম বাড়লে খুচরা বাজারেও দাম বেড়ে যায়। কুরবানির ঈদকে টার্গেট করে পাইকারি ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত মুনাফার লোভে মসলার দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক বাজারে বুকিং দর বৃদ্ধি ও আমদানি নির্ভরতার কারণে আমদানিকারকদের কারসাজিতে এসব পণ্যের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ছাড়া বৃষ্টির কারণে মসলা সংরক্ষণেও বেশ সতর্ক থাকতে হয়।
ক্যাব’র কেন্দ্রীয় সহসভাপতি এসএম নাজের হোসাইন বলেন, কুরবানির ঈদ সামনে রেখে পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকার পরও নিত্যপণ্যের দাম বাড়াচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। আন্তর্জাতিক বাজারে দর বৃদ্ধির কথা বলে কিছু মুনাফালোভী ও সুযোগ সন্ধানী ব্যবসায়ী অতিরিক্ত মুনাফা করতেই মসলার দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। সাধারণ ক্রেতারা এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তারা যেসব অজুহাত দিয়ে দাম বাড়াচ্ছেন, সেগুলো খতিয়ে দেখে ভোক্তা পর্যায়ে দাম সহনীয় রাখতে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালতের তদারকি বাড়াতে হবে।