চট্টগ্রামের শিল্পকলায় শোকগাথার শব্দাবলি

আগের সংবাদ

হালেপের কষ্টার্জিত জয়

পরের সংবাদ

চিকিৎসক-সেবিকার সাক্ষ্য

মৃত্যুপূর্ব জবানবন্দিতে স্বাক্ষর নয়, টিপসই দেন নুসরাত

প্রকাশিত হয়েছে: আগস্ট ৯, ২০১৯ , ১:০২ অপরাহ্ণ | আপডেট: আগস্ট ৯, ২০১৯, ১:০২ অপরাহ্ণ

Avatar

ফেনী সোনাগাজীর বহুল আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নিপীড়নের পর আগুনে পুড়িয়ে হত্যা মামলায় চিকিৎসক-সেবিকাসহ চারজন আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদের আদালতে তাদের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয়।
ফেনী জেলা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) এডভোকেট হাফেজ আহাম্মদ ও বাদী পক্ষের আইনজীবী শাহাজাহান সাজু জানান, আলোচিত নুসরাত হত্যা মামলায় ৯২ জন সাক্ষীর মধ্যে এখন পর্যন্ত আদালতে ৮৪ জনের সাক্ষ্য ও জেরা সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল যারা সাক্ষ্য দেন তারা হলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. সোহেল মাহমুদ, বার্ন ইউনিটের মেডিকেল অফিসার ডা. ওবায়দুল ইসলাম ও ডা. এ কে এম মনিরুজ্জামান এবং সিনিয়র স্টাফ নার্স অর্চনা পাল। সাক্ষ্য শেষে আসামি পক্ষের সিনিয়র আইনজীবী গিয়াস উদ্দিন নান্নু, কামরুল হাসান, আহসান উল্যা বেঙ্গেল তাদের জেরা করেন। মামলার পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ১৮ আগস্ট ধার্য করেছেন আদালত। ওই দিন চট্টগ্রাম সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার ও হস্তলিপি বিশেষজ্ঞ মো. শামছুল আলমের সাক্ষ্যগ্রহণের কথা রয়েছে। সাক্ষী ডা. ওবায়দুল ইসলাম গতকাল সাক্ষ্য দেয়ার সময় আদালতকে বলেন, গত ৬ এপ্রিল বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ডা. এ কে এম মনিরুজ্জামান ও সিনিয়র স্টাফ নার্স অর্চনা পালের সামনে নুসরাত জাহান রাফির মৃত্যুর আগে জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করি। জবানবন্দি প্রদানকালে নুসরাত শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ঘটনার বিভিন্ন
অংশ বর্ণনা দেন। জবানবন্দি লেখা হলে আমি তা পড়ে শোনাই। তখন তার স্বাক্ষর করার মতো অবস্থা ছিল না বলে নুসরাত জাহান রাফির টিপসই নেয়া হয়।
ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. সোহেল মাহমুদ বলেন, গত ১০ এপ্রিল রাতে নুসরাত জাহান রাফির মৃত্যু হলে পরদিন পুলিশ কনস্টেবল রমজান আলী মরদেহ নিয়ে এলে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করি। এ সময় একই বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. প্রদীপ বিশ্বাস ও ডা. জান্নাতুল ফেরদৌস উপস্থিত ছিলেন। আমরা সুরতহাল প্রতিবেদনে স্বাক্ষর করি। পরে তিনি সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরিকালে কী পেয়েছেন আদালতে তিনি তার বিস্তারিত বর্ণনা দেন। লিখিত জবানবন্দিতে তিনজনেরই স্বাক্ষর আছে বলে আদালতকে জানান তিনি। ডা. এ কে এম মনিরুজ্জামান ও সিনিয়র স্টাফ নার্স অর্চনা পাল আদালতে একই বক্তব্য উপস্থাপন করায় ডা. ওবায়দুল ইসলামের সাক্ষ্যটি উভয়ের সাক্ষ্য বলে গ্রহণ করেন আদালত।
গত ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নিপীড়নের দায়ে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে ৬ এপ্রিল ওই মাদ্রাসার সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে অধ্যক্ষের সহযোগীরা নুসরাতের শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়। টানা পাঁচদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে মারা যান তিনি।