সত্যটা মানতে হবে পাকিস্তানকে: ভারত

আগের সংবাদ

দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানো ছিল যার জীবনের ব্রত

পরের সংবাদ

ঈদে ঘরমুখো মানুষ

নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিতের ব্যবস্থা নিন

সম্পাদকীয়

প্রকাশিত হয়েছে: আগস্ট ৯, ২০১৯ , ৮:০৩ অপরাহ্ণ

দুর্ভোগ মাথায় নিয়েই ঈদ আনন্দ যাত্রা শুরু করেছে ঘরমুখো মানুষ। ভাঙাচোরা সড়ক, দুর্বল রেললাইন এবং দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে বাস, ট্রেন ও লঞ্চ যথাসময়ে ছাড়ছে না। ফলে ঘরে ফেরা মানুষদের দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। সরকারি হিসাবে ঈদের আগে শেষ কর্মদিবস ছিল গত বৃহস্পতিবার। তাই এ দিন সরকারি চাকরিজীবীদের একটি বড় অংশসহ অনেকেই রাজধানী ছেড়েছেন। গতকাল শুক্রবারও ঘরে ফেরা মানুষের চাপ ছিল। আজো চাপ কম নয়। ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন এবং নিরাপদ করার জন্য সর্বোচ্চ সামর্থ্য ও আন্তরিকতা নিয়ে সচেষ্ট থাকতে হবে সরকার ও সংশ্লিষ্টদের। গতকালের ভোরের কাগজে ছাপা হয়েছে রাজধানীর বিভিন্ন বাস টার্মিনাল, লঞ্চ টার্মিনাল, রেলস্টেশনের অবস্থা নিয়ে সরেজমিন প্রতিবেদন। সেখানে পাওয়া গেছে সেই চিরচেনা চিত্র- সর্বত্র ঘরমুখো মানুষের ভিড়। ঈদে সবচেয়ে বেশি যাত্রী পরিবহন হয় সড়কপথে এবং বিগত সময়ে সড়কপথেই ভোগান্তি বেশি লক্ষ করা গেছে। যানবাহন স্বল্পতা, শিডিউল ঠিক না থাকা, মহাসড়কের বেহালদশা, মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট, যানবাহন দুর্ঘটনায় পতিত হওয়া ইত্যাদি অনেকেরই উৎসবের আনন্দকে বিষাদের ছায়ায় ঢেকেছে। অবশ্য বছর দুই-তিন যাবৎ পরিস্থিতির বেশ উন্নতি দেখছিলাম আমরা। এবার দীর্ঘ যাত্রার শুরুতে খোদ ঢাকা শহরেই তীব্র যানজটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকা পড়েন যাত্রীরা। উত্তরবঙ্গের বাসগুলো যথাসময়ে ঢাকা ছেড়ে গেলেও বেলা গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে পেছাতে থাকে সময়সূচি। সকাল থেকে গাড়িগুলো যথাসময়ে ছাড়লেও দুপুরের পর সাভার বাইপাইল এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টি, অন্যদিকে সড়কের বিভিন্ন স্থানে গরু বোঝাই ট্রাক- এটাই যানজটের প্রধান কারণ। অন্যদিকে রাজধানীর কমলাপুর ও বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন লোকে লোকারণ্য হয়ে উঠেছে। নির্ধারিত টিকেটধারীর চেয়ে ৩-৪ গুণ যাত্রী রেলে ভ্রমণ করছেন। কোনো কোনো রেল দেরিতে আসছে, দেরিতে ছাড়ছে। রেলবহরে এবারো বরাবরের মতো বাড়তি গাড়ি-বগি সংযোজন করা হয়েছে। রেলের শিডিউল বিপর্যয় ভয়াবহ ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ঈদের সময় বাড়তি চাপে সময়সূচি কিছুটা হেরফের হওয়া স্বাভাবিক কিন্তু তা যেন যাত্রীদের সহ্যসীমার বাইরে না যায় সেদিকে কর্তৃপক্ষের বিশেষ দৃষ্টি রাখা প্রয়োজন। ঈদ মৌসুমে নৌপথে আনফিট যান রুটে নামানো, লঞ্চ-স্টিমারে অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই নৌদুর্ঘটনার কারণ। নৌপথে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন ঠেকানো, সময়সূচি ঠিক রাখা এবং টার্মিনাল ও নৌপথের নিরাপত্তায় বিআইডব্লিউটিএ, র‌্যাব-পুলিশ, নৌপুলিশ, কোস্টগার্ড সবার সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন। পথের দুর্ভোগ-দুর্ঘটনায় কারো ঈদের আনন্দে যেন বিষাদের কালিমা না পড়ে এটাই আমাদের চাওয়া। এর জন্য সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত দপ্তরগুলো, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, পরিবহন সংগঠন ও সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রত্যাশা করছি। আর যাত্রীদেরও নিজেদের নিরাপত্তার ব্যাপারে সচেতন ও সাবধান থাকা দরকার।