দ.আফ্রিকার ঘরোয়া ক্রিকেটের কোচ কারস্টেন

আগের সংবাদ

পশ্চিমবঙ্গ পারলে বাংলাদেশ কেন নয়

পরের সংবাদ

জাল টাকার বিস্তার রোধ

সতর্কতার পাশাপাশি প্রয়োজন উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার

প্রকাশিত হয়েছে: আগস্ট ৮, ২০১৯ , ৯:৩২ অপরাহ্ণ | আপডেট: আগস্ট ৮, ২০১৯, ৯:৩২ অপরাহ্ণ

অনলাইন প্রতিবেদক

ঈদ উৎসবকে কেন্দ্র করে জাল টাকার কারবারিদের বিশেষভাবে তৎপর হতে দেখা যায়। কুরবানির ঈদে টাকার লেনদেন বেড়ে যাবে এটা স্বাভাবিক। মোটা অঙ্কের টাকা লেনদেন হওয়ায় ঈদের আগে এমনিতেই জালনোট কারবারিদের প্রধান টার্গেট থাকে গরুর হাট। এসবের পাশাপাশি এবার ঈদের পোশাক ও গরু আমদানি খাতেও জালিয়াত চক্রগুলোর তৎপরতা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন দেশের গোয়েন্দারা। এদিকে ঈদের বাজারে জালনোট প্রতিরোধে প্রতি বছরের মতো পুলিশ কর্তৃপক্ষ থেকেও আগাম ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নজরদারি এবং ক্রেতা-বিক্রেতার সতর্কতাই রুখতে পারে জাল টাকার বিস্তার। রাজধানীসহ সারা দেশে শতাধিক জাল টাকার কারখানা রয়েছে। এসব কারখানায় দেশি-বিদেশি ৩০টি জালিয়াত চক্র জাল টাকার পাশাপাশি বিদেশি জাল মুদ্রা তৈরি করছে। কিছুদিন আগে রাজধানীর রামপুরা ও যাত্রাবাড়ীতে জাল ভারতীয় রুপির কারখানার সন্ধানসহ বিপুল পরিমাণ জাল রুপি উদ্ধার করেন গোয়েন্দারা। গোয়েন্দা সূত্র বলছে, নারায়ণগঞ্জ, সাভার, গাজীপুর, টঙ্গী, কেরানীগঞ্জ, কামরাঙ্গীরচরসহ রাজধানীর ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় প্রতারকরা কাজ করে থাকে। এসব স্থান থেকে সারা দেশে জালনোট বণ্টন হয়। এসব চক্রের সদস্যদের পরিচয় ও গতিবিধি সম্পর্কে পুলিশ যথেষ্ট ওয়াকিবহাল। প্রতিনিয়ত জাল টাকার কারবারি পুলিশের হাতে ধরাও পড়ে। কিন্তু তারপরও থেমে নেই জাল টাকার ব্যবসা- এটাই উদ্বেগের বিষয়। প্রথমত, কাজ হলো জাল টাকার উৎপাদন ও বণ্টন ঠেকানো। পুলিশ বলছে, রাজধানী ও আশপাশের জাল টাকা তৈরির আস্তানাগুলো অনেকটাই তাদের নজরদারিতে রয়েছে। কুরবানির ঈদ সামনে রেখে তারা আগাম ব্যবস্থা নিয়ে সক্রিয় রয়েছেন। তবে গ্রাহক পর্যায়ে শনাক্তকরণে সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন। ঈদের বাজারে তুমুল ব্যস্ততার মধ্যে ক্রেতা-বিক্রেতাদের হাতে বেশি সময় থাকে না প্রতিটি নোট যাচাই করে নেয়ার। আবার বেশিরভাগ সাধারণ মানুষই জালনোট শনাক্তকরণে সক্ষম নন। তাই এ সময়ে দরকার আসল নোট ও জালনোটের পার্থক্যগুলো শনাক্তকরণের বিষয়গুলো জানিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রচারণা। বিশেষ করে ঈদের আগে এ সময়টাতে গণ্যমাধ্যমগুলোতে এ সংক্রান্ত ভিডিও চিত্র দেখানো খুব কার্যকর হতে পারে। তারপর যেটা জরুরি তা হলো- বাজারে, বিপণি বিতানে জালনোট শনাক্তকরণের মেশিন যথেষ্ট পরিমাণে সরবরাহ ও এর ব্যবহার উৎসাহিত করা। বর্তমান সময়ে জালনোটের বিস্তার খুবই ভয়াবহ। এটা প্রতিরোধ করা না গেলে মানুষজন প্রতারিত হবেন, ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, একই সঙ্গে দেশের অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ জন্য জালনোটের দৌরাত্ম্য রোধে সব ধরনের সতর্কতা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। রুখতে হবে জালনোটের কারবারিদের। তাদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। পাশাপাশি কুরবানির হাটে ক্রেতা-বিক্রেতারা যেন নির্ভয়ে কেনাবেচা করতে পারেন প্রশাসনকে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।