অনলাইনে পশুর হাটের পরিধি বাড়ছে

আগের সংবাদ

বানারীপাড়ার গণধর্ষণ ঘটনায় তিনজনকে আসামী করে মামলা

পরের সংবাদ

সংকট বাড়ছে আর্থিক খাতে

প্রকাশিত হয়েছে: আগস্ট ৮, ২০১৯ , ৩:৪৬ অপরাহ্ণ | আপডেট: আগস্ট ৮, ২০১৯, ৩:৪৬ অপরাহ্ণ

Avatar

লোকসানের কবলে চারটি, মুনাফার দেখা পেলেও আগের বছরের তুলনায় কমেছে ছয়টির, পরিচালন নগদপ্রবাহ বা ক্যাশ ফ্লো ঋণাত্মক হয়ে পড়েছে ১২টির, সম্পদমূল্য কমেছে আটটির এবং একটির সম্পদ মূল্য ঋণাত্মক হয়ে পড়েছে। এ চিত্র দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংকবর্হিভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা লিজিং কোম্পানিগুলোর।
সার্বিকভাবে আমানত, তারল্য, মুনাফা, সম্পদ মূল্য নিয়ে সংকটের মধ্যে রয়েছে দেশের অব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো। এ খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর এই দুরবস্থা সার্বিক আর্থিক খাতকেও সংকটের মধ্যে ফেলে দিয়েছে। চলতি বছরের প্রথমার্ধের হিসাবে মুনাফা, সম্পদ মূল্য ও ক্যাশ ফ্লো- এ তিন সূচকের কোনোটিতেই নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি তালিকাভুক্ত মাত্র তিনটি অব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের। জুলাই-জুন হিসাব বর্ষ নির্ধারণ থাকায় ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশকে (আইসিবি) বিবেচনায় নেয়া হয়নি। আর পিপলস লিজিং অবসায়নের উদ্যোগ নেয়ায় এটিকেও হিসাব থেকে বাদ দেয়া হয়েছে।
বাকি ১৮টি প্রতিষ্ঠানেরই মুনাফা, সম্পদ মূল্য অথবা ক্যাশ ফ্লোÑ এ তিন সূচকের এক বা একাধিক সূচকে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় আছে বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি লিমিটেড (বিআইএফসি)। প্রতিষ্ঠানটি নগদ অর্থ সংকটের পাশাপাশি লোকসানে নিমজ্জিত রয়েছে। এমনকি ঋণাত্মক হয়ে পড়েছে সম্পদ মূল্যও। বাকিগুলোর মধ্যে লোকসানের পাশাপাশি সম্পদ মূল্য কমেছে চারটির। এর মধ্যে তিনটির অর্থসংকটও আছে। মুনাফায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে পাঁচটির সম্পদ মূল্য আগের বছরের তুলনায় কমেছে। এ ছাড়া মুনাফা কমে যাওয়ার পাশাপাশি অর্থসংকটে পড়েছে তিনটি প্রতিষ্ঠান। আবার মুনাফা কিছুটা বাড়লেও অর্থসংকটে পড়েছে সাতটি প্রতিষ্ঠান। নিয়ম অনুযায়ী, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোকে প্রতি তিন মাস পরপর আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করতে হয়। এরই আলোকে তালিকাভুক্ত ২৩ অব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২১টি চলতি বছরের প্রথমার্ধ শেষে এপ্রিল-জুন প্রান্তিকের পাশাপাশি অর্ধবার্ষিক প্রতিবেদনও প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রকাশিত ওই আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অধিকাংশ অব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থা ভালো নয়। এসব প্রতিষ্ঠানের ওপর গ্রাহকের আস্থা নেই। তারল্য সংকটের কারণে গ্রাহকের আমানত ফেরত দিতে অনেকে সমস্যায় পড়ছেন। অবার ব্যাংক খাতও খুব একটা ভালো অবস্থায় নেই। এ কারণে বেশির ভাগ আর্থিক প্রতিষ্ঠান সংকটের মধ্যে পড়েছে। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, লিজিং কোম্পানিগুলো অবশ্যই সংকটের মধ্যে রয়েছে। আমানতের পাশাপাশি ঋণের প্রবৃদ্ধি কমে গেছে। অনেকে গ্রাহকের টাকা পরিশোধ করতে পারছে না। লিজিং কোম্পানিগুলোর এ চিত্র সার্বিক আর্থিক খাতকেই সংকটের মধ্যে ফেলে দিয়েছে। এ সংকট বাড়িয়েছে ব্যাংক খাত। আর্থিক খাতের এ সংকট দূর করতে হলে অবশ্যই ব্যাংক খাত ঠিক করতে হবে। লিজিং কোম্পানিগুলো সংকটে পড়ার কারণ হিসেবে বিশিষ্ট এ অর্থনীতিবিদ বলেন, আমানত না পাওয়ায় লিজিং কোম্পানিকে অতিরিক্ত সুদে আমানত সংগ্রহ করতে হচ্ছে।
কিন্তু অতিরিক্ত এ সুদ বহন করার মতো ব্যবসা কোম্পানিগুলো করতে পারছে না। সাধারণ গ্রাহকদের পাশাপাশি লিজিং কোম্পানির আমানতের বড় উৎস ব্যাংক। কিন্তু ব্যাংক খাত সংকটে থাকায় সেখান থেকেও লিজিং কোম্পানিগুলো আমানত পাচ্ছে না। কিছু কোম্পানি গ্রাহকের আমানতের টাকা ফেরত দিতে না পারায় এ খাতে এক ধরনের ইমেজ সংকটও তৈরি হয়েছে। সার্বিকভাবে ‘কস্ট অব ফান্ড’ বেড়ে যাচ্ছে। এসব বিষয় মিলে আর্থিক খাত সংকটের মধ্যে পড়েছে।

বিষয়:
  • আরও পড়ুন
  • লেখকের অন্যান্য লেখা