ছিটকে গেলেন বার্টি

আগের সংবাদ

‘গণ্ডি’র শেষ ধাপের শুটিংয়ে ঢাকায় আসছেন সব্যসাচী

পরের সংবাদ

শুরুর আগেই চারদিক সরগরম

খেলা প্রতিবেদক :

প্রকাশিত হয়েছে: August 8, 2019 , 1:23 pm

দেশের জনপ্রিয় টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট বিপিএলের সপ্তম আসর বসবে ৩ ডিসেম্বর। ইতোমধ্যে এ টুর্নামেন্ট ঘিরে নানা আলোচনা-সমালোচনায় সরগরম চারদিক। ক্রিকেটপ্রেমীদের মাঝে চলছে উত্তেজনা। আবার ঘন ঘন নিয়ম পরিবর্তন, আয়-ব্যয়ের ভাগাভাগি নিয়ে হচ্ছে নানা কথা। ৪ মাস বাকি আছে বিপিএলের সপ্তম আসর বসতে। তাই বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল বলেছে, এবার প্রতিটি দলকে বিসিবির সঙ্গে নতুন করে চুক্তি করতে হবে। তা ছাড়া চুক্তির সঙ্গে খেলোয়াড়দের নিলাম প্রক্রিয়ায় প্লেয়ার ড্রাফটে করার সিদ্ধান্ত নেয় বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল। এর পরই বেশ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো। বেশির ভাগ ফ্র্যাঞ্চাইজি কর্মকর্তারা ক্ষোভের সঙ্গে জানান, একটি বিশেষ দলকে সুবিধা দিতে বিপিএলে বছর বছর নিয়ম পরিবর্তন করা হয়। জানা গেছে আগামী ১৮ ও ১৯ আগস্ট বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল ও ফ্র্যাঞ্চাইজিদের সভা বসবে। যেখানে বিসিবির কাছে বিপিএলের রাজস্বের ভাগ চাইবে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ ২০১২ সালে শুরুর পর থেকে অভিযোগ আর বিতর্ক থেকে মুক্ত থাকতে পারেনি।
ঘরোয়া ক্রিকেটের সবচেয়ে জনপ্রিয় টুর্নামেন্টে এবার ৮ দল নিয়ে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে বিপিএলে পরিচালনা কমিটি। সেই লক্ষ্যে কিছু নতুনত্ব আনতে যাচ্ছে দেশের ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থাটি। গত মৌসুমের বিপিএলের শিরোপা লড়াইয়ে ছিল ৭টি দল। ইতোমধ্যে আসন্ন আসর থেকে নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছে চট্টগ্রামের ফ্র্যাঞ্চাইজি চিটাগং ভাইকিংস। তাদের সরে দাঁড়ানোয় নতুন দুটি দল অন্তর্ভুক্ত করতে দরপত্র আহবান করেছে বিসিবি। এদিকে দল বদল নিয়ে বিপিএল অকশন কমিশনার মাহাবুবুল আনাম বলেন, ফ্র্যাঞ্চাইজিদের দুশ্চিন্তার কিছু নেই। প্লেয়ার ড্রাফট হলেও একজন করে আইকন ক্রিকেটার তারা পছন্দমতো নিতে পারবে। এমনও হতে পারে, আগের নিয়মটাই বহাল রাখবে। তবে সেটা যেন সুশৃঙ্খলভাবে হয়, নিয়মের ভেতরে হয়, সেজন্য একটা স্থায়ী পদ্ধতি দাঁড় করানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এবার বিসিবির কাছে এরই মধ্যে বিপিএলের লভ্যাংশ চেয়েছে খুলনা টাইটান্স ও কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। বিপিএলের প্রতি আসরে কোটি কোটি টাকা আয় করে বিসিবি। টিভিস্বত্ব থেকে আয় হয় ২৭ কোটি টাকা। গ্রাউন্ডস ও ব্র্যান্ডিং থেকে আয় সাড়ে ছয় কোটি টাকা। টিকেট থেকে ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা। এ ছাড়া স্টেডিয়ামে স্টল ভাড়া দিয়েও আয় করে বিসিবি। ফ্র্যাঞ্চাইজি ফি থেকে আসে ৯ কোটি টাকার মতো। বিপিএল ২০১৯ আসরে ১ কোটি ৩৩ লাখ ১০ হাজার টাকা করে বিসিবিকে ফি দিতে হয়েছে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোকে। সব মিলিয়ে বিপিএল থেকে বছরে ৪৫ কোটি টাকার মতো আয় করে বিসিবি। তবে টুর্নামেন্ট আয়োজনের খরচ বাদ দেয়ার পর কম হলেও ৩৫ কোটি টাকা থাকার কথা বিসিবির ভাণ্ডারে। এ বিষয় রাজশাহী কিংসের সিইও তাহমিদ বলেছেন, আইপিএল তার প্রতিটি ফ্র্যাঞ্চাইজিকে বছরে দেড়শ কোটি টাকা লভ্যাংশ দেয়। বিসিবি সেখানে ফ্র্যাঞ্চাইজিদের কাছ থেকে শুধু নেয়। আমরা খেলোয়াড়দের টাকা দেই, প্রচারে টাকা দেই, বিসিবিকে টাকা দেই। কম করে হলেও একটা দলকে ১২-১৫ কোটি টাকা খরচ করতে হয়। ফ্র্যাঞ্চাইজির আয় শুধু লোগো ব্র্যান্ডিং থেকে। খরচের তুলনায় যা খুবই সামান্য। এভাবে খরচ করতে হলে কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজিই বেশি দিন টিকবে না। দু-তিন বছর পর ছেড়ে চলে যাবে। তাই লভ্যাংশ না দিলে ফ্র্যাঞ্চাইজিরা টিকবে না।
রংপুর রাইডার্সের প্রধান নির্বাহী ইশতিয়াক সাদেক জানান, শুধু ক্রিকেটের প্রতি গভীর আবেগ থেকে বিপিএলে আমাদের যাত্রা অব্যাহত আছে। সবাই হয়তো মনে করে আমরা অনেক টাকা উপার্জন করছি। কিন্তু আসলে তা নয়, যা খরচ করি আমরা তা থেকে খুব সামান্যই উঠে আসে।