বরিশালে ডুবে যাওয়া দুই নৌযানের সন্ধান মেলেনি

আগের সংবাদ

দীর্ঘ ২২ দিন পর ঢাকার সাথে উত্তরাঞ্চলের সরাসরি ট্রেন চলাচল শুরু

পরের সংবাদ

বরিশালের নদ নদীর পানি বিপদ সীমা অতিক্রম : নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

প্রকাশিত হয়েছে: আগস্ট ৮, ২০১৯ , ৪:০৩ অপরাহ্ণ | আপডেট: আগস্ট ৮, ২০১৯, ৪:০৩ অপরাহ্ণ

Avatar

উত্তরের বন্যার পানী উজানের ঢালে নেমে আসা ও বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের কারণে বাতাসের গতিবেগ বেড়ে গিয়ে হঠাৎ করেই বরিশালের নদীর পানি বিপদ সীমা অতিক্রম করেছে। ফলে বরিশাল নগরীসহ বিভাগের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।
বরিশাল পানিউন্নয়ন বোর্ডের জরিপে বরিশাল নগরীসহ জেলার হিজলা, মেহেন্দিগঞ্জ, বাবুগঞ্জ ও মুলাদী উপজেলার চরা ল জোয়ারের সময় মেঘনা, কালাবদর, কীর্তনখোলা, আড়িয়ালখা নদীর পানী বিপদ সীমার (২৫৫ সেন্টিমিটার) অতিক্রম করে চার সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ভাটার সময় উচু এলাকার পানি নেমে গেলেও এসব এলাকার নিন্মা ল পানিতে ডুবে আছে। হঠাৎ করে পানিতে এসব এলাকা ডুবে যাওয়ায় মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে। বাসা বাড়িসহ রাস্তাঘাট পানিতে প্লাবিত হয়ে জলাবদ্ধতার সৃস্টি হয়েছে।
এছাড়া ভোলার দৌলতখান পয়েন্টে মেঘনা নদীর পানি বিপদ সীমা রেখা (৩৪১ সেন্টিমিটার) অতিক্রম করে ৫৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জের পায়রা নদীর পানি বিপদ সীমা রেখা (২৮১ সেন্টিমিটার) অতিক্রম করে ১১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যদিও আমতলীতে এ নদীর পানি বিপদসীমার ১৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ঝালকাঠির বিষখালী নদীর পানি বিপদ সীমার (২০৮ সেন্টিমিটার) অতিক্রম করে ২৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া এ নদীর বরগুনা পয়েন্টের পানি বিপদ সীমার (২৮৫ সেন্টিমিটার) রেখা অতিক্রম করে এক সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে পাথরঘাটা পয়েন্টে পানি বিপদ সীমার (২৮৫ সেন্টিমিটার) সমান্তরালে প্রবাহিত হচ্ছে। পিরোজপুরের বলেশ্বর নদীর পানি বিপদ সীমার (২৬৮ সেন্টিমিটার) ছুয়েছে।
বরিশাল আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক বেল্লাল হোসেন বলেণ, নিম্নচাপের কারনে সাগরে ৩ নম্বর সতর্কতা সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। একারনেই নিম্নাঞ্চল নিমজ্জিত হয়েছে।
স্থানীয় সুত্রগুলো জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে কীর্তণখোলায় অস্বাভাবিক জোয়ারের কারনে নগরীর ২৪ নংওয়ার্ডের জিযানগর, রুপাতলী, ১২ নম্বর ওয়ার্ডের খ্রীষ্ট্রান কলোনী, চাদমারি, রসুলপুর, স্টেডিয়ায়ামের পেছনের অংশ, পাউবোর দপ্তরের একাংশ, চাঁদমারী, নবগ্রাম সড়ক, বেলতলা, পলাশপুর এলাকা এবং সদর উপজেলার শায়েস্তাবাদ ও চরবাড়িয়া ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকার কিছু বাসা বাড়িতে পানি ডুকে পড়েছে। এছাড়া পাকা সড়ক হাটু সমান পানিতে প্লাবিত হয়েছে। ফলে চরম দুর্ভোগে পরতে হয়েছে যান বাহন ও পথচারিদের।
বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো: সফি উদ্দিন বলেন, বর্তমান আবহাওয়ার ও নিম্নচাপের কারণে বাতাসের গতিবেগ বেড়ে গেছে। এ কারণে দক্ষিণা লের নদ-নদীগুলোতে পানির চাপ বেড়ে গিয়ে বিপদ সীমা অতিক্রম করছে। তবে আবহাওয়ার উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে দ্রুতই নদীর পানি কমে যাওয়ার ধারণা করছেন তিনি।
অপরদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবু সাইদ বলেন, উত্তরা লের পানি নেমে যেতে শুরু করেছে। এজন্য দক্ষিণা লের নদীগুলোতে পানির চাপ একটু বেশি। তিনি বলেন, বর্ষাকাল হওয়ায় বিভিন্ন নদীতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এখন যেভাবে পানি বাড়ছে তাতে ভাঙনের তীব্রতা বেড়ে যাবার সম্ভাবনাও রয়েছে। বিশেষ করে পানি নেমে যাওয়ার সময় এ আশঙ্কা বেশি থেকে। তাই পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে সার্বিক প্রস্তুতি নেওয়া রয়েছে। ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শনের পাশাপাশি যেসব স্থানে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রয়েছে সেইসব এলাকায় ভাঙনরোধের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।