সুনামের পরিণতি কেন দুর্নামে?

আগের সংবাদ

ফের বাড়ল স্বর্ণের দাম

পরের সংবাদ

পরিস্থিতি বুঝে কথা বলুন!

শেখর দত্ত

রাজনীতিক ও কলাম লেখক।

প্রকাশিত হয়েছে: আগস্ট ৭, ২০১৯ , ৯:০৫ অপরাহ্ণ

রাজনৈতিক নেতাদের কথাবার্তা, বক্তৃতা-বিবৃতি পরিস্থিতির সঙ্গে সঙ্গত রেখে এমন হতে হয়, যাতে অন্তত কথায় মানুষ কখনো বিক্ষুব্ধ না হয়। বিপক্ষের মানুষও কথা শোনে। কাজে কেবল চিড়ে ভিজে না, কথা দিয়েও মানুষের মন গলাতে হয়। প্রকৃত বিচারে কাজের চেয়েও রাজনৈতিক নেতাদের কথা বা আচার-আচরণ দিয়ে অর্থাৎ মানুষটা কেমন তা দিয়েই অনেক ক্ষেত্রেই জনপ্রিয়তা নির্ধারিত হয়।

কথা কখনো মাটিতে পড়ে না। তীর-গুলি প্রভৃতি লক্ষ্যভ্রষ্ট হতে পারে, আটকানোও যায়। কিন্তু কথা সবসময়েই যথাস্থানে আঘাত করে। ফেরানো যায় না। কথায় বন্ধু হয় শত্রু। এই বিচারে মুখ হচ্ছে ব্যক্তি মানুষের শত্রু। উল্টো বিচারে মুখ হচ্ছে মানুষের বন্ধুও। কথায় শত্রুও বন্ধু হয়। শেষ বিচারে কথা দিয়েই বিবেচিত হয় মানুষটা কেমন। প্রসঙ্গত রাজনীতি লক্ষ-কোটি মানুষকে নিয়ে আবর্তিত হয়। আর ভালো-মন্দ ঘটনা কোনটা কখন ঘটবে, তা যেমন ঘণ্টা বাজিয়ে জানিয়ে আসে না, তেমনি মানুষ কখনো একই মেজাজে থাকে না। মানুষের মেজাজ যখন থাকে কোনো দলের পক্ষে তখন কোনো বেফাঁস কথাও পার পেয়ে যায়। মানুষ তা থেকেও ভালো কিছু বের করতে চেষ্টা করে। কিন্তু বেকায়দা বা খারাপ সময়ে সঠিক কথায়ও বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। তাই রাজনৈতিক নেতাদের কথাবার্তা, বক্তৃতা-বিবৃতি পরিস্থিতির সঙ্গে সঙ্গত রেখে এমন হতে হয়, যাতে অন্তত কথায় মানুষ কখনো বিক্ষুব্ধ না হয়। বিপক্ষের মানুষও কথা শোনে। কাজে কেবল চিড়ে ভিজে না, কথা দিয়েও মানুষের মন গলাতে হয়। প্রকৃত বিচারে কাজের চেয়েও রাজনৈতিক নেতাদের কথা বা আচার-আচরণ দিয়ে অর্থাৎ মানুষটা কেমন তা দিয়েই অনেক ক্ষেত্রেই জনপ্রিয়তা নির্ধারিত হয়।
উল্লিখিত কথাগুলো নিয়ে যখন ভাবছি, তখন ঠাণ্ডাযুদ্ধ যুগের শেষদিকে আশির দশকে পূর্ব ইউরোপে সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত বলয়ের বাইরে থেকে যে দেশটি ছিল বেশ আলোচনার মধ্যে, সেই দেশ রোমানিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে এক মন্ত্রীর কথা নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে যে কাণ্ড ঘটে গেল, সেই খবর পড়ে ডেঙ্গুর দুর্ভাবনার মধ্যেও বেশ মজা পেলাম। অতি সম্প্রতি সেই দেশে একটি দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা নিয়ে স্পর্শকাতর কথা বলায় শিক্ষামন্ত্রী বরখাস্ত হয়েছেন বলে খবর পাঠে জানা যায়। ঘটনাটি ঘটেছিল এ বছরের ১৪ জুলাই। ওই দেশের দক্ষিণাঞ্চলের এক শহর থেকে আর এক শহরে নিজের বাড়ি ফেরার সময় অপরিচিত এক ব্যক্তির গাড়িতে উঠে অপহরণ ও হত্যার শিকার হয় আলেকজান্দ্রা নামের ১৫ বছরের এক কিশোরী। এ ঘটনার প্রতিবাদে ফুঁসে ওঠে দেশটি। পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থতার দায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পুলিশপ্রধানকে বরখাস্ত করা হয়। পরবর্তী সময়ে এ ঘটনা নিয়ে এক টিভি সাক্ষাৎকারে ওই দেশের শিক্ষামন্ত্রী বলেন, অপরিচিত কারো গাড়িতে উঠতে হয় না এমন বিষয় কিশোরীটিকে শেখানো হয়নি। এই মন্তব্যে কিশোরীর শোকাহত মা-বাবাকে কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা দেয়া হয়েছে বিবেচনায় সাধারণ মানুষ ওই মহিলা মন্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রচণ্ড ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। দেশটির প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী ভিয়েরিকার ডানসিলা চটে গিয়ে ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়ে বলেন, এ ধরনের মন্তব্য দায়িত্বজ্ঞানহীন। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, তিনি ভুক্তভোগীর মা-বাবার উদ্দেশে এই মন্তব্য করেননি।
এই জবাবেও কাজ হয়নি। পরিস্থিতি বেগতিক হলে প্রধানমন্ত্রী তাকেও বরখাস্ত করেন। মজার ব্যাপার হলো, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরপরই ২০১৮ সালে বেফাঁস কথা বলে তিনি চরম বিপাকে পড়েছিলেন। ইউরোপীয়ান পার্লামেন্টের মেম্বার যারা তার মতে ‘ন্যায়সঙ্গত’ আইন প্রণয়নে বিঘ্ন সৃষ্টি করছেন, তাদের ‘অটিস্টিক’ অর্থাৎ প্রতিবন্ধী বলায় তীব্র বিরূপ প্রতিক্রিয়ার মুখোমুখি হয়েছিলেন। ‘ডিসক্রিমিনেশন’ অর্থাৎ সামজিক বিভেদ সৃষ্টি বা প্রতিবন্ধীদের হেয় করার দায়ে অভিযুক্ত হয়েছিলেন। প্রতিবন্ধীদের মা-বাবাদের সংগঠন এ নিয়ে আন্দোলন গড়ে তুলেছিল। সামাজিক বিভেদ সৃষ্টি বন্ধ করার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত কমিশন এই অভিযোগ নিয়ে শুনানির কাজও শুরু করেছিল। শেষ পর্যন্ত প্রতিবন্ধীদের হেয় করতে চাননি বলে মাফ চেয়ে তিনি বিপদ থেকে পরিত্রাণ পান। ‘সমাজতান্ত্রিক একনায়ক’ চসেস্কুর দেশে গণতন্ত্রের এমন সংস্কৃতি ও চর্চার খবর শুনে বিস্মিত হতেই হলো।
আসলে এমনটা আমরা কল্পনাও করতে পারি না। তাই গত রবিবার উল্লিখিত ছোট পরিসরের খবরটা পড়ে চমৎকৃত হয়ে এক রাজনৈতিক সাথীকে খবরটা পড়ালাম। বয়স্ক মুক্তিযোদ্ধা ও আওয়ামী লীগ সমর্থক ওই সাথীটি ছিলেন বর্তমান দিনগুলোতে কতক কারণে খুবই ক্ষুব্ধ, বিরক্ত ও হতাশ। বাসার একজনের গা গরম হওয়ায় ডেঙ্গু আতঙ্ক, সঞ্চয়পত্রের সুদ কমে যাওয়ায় আয় নিয়ে শঙ্কা, শেয়ারবাজার ধসের কারণে ক্ষতি নিয়ে চিন্তিত, প্রিয়া সাহার ঘটনা নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অসাম্প্রদায়িক চেতনার দুর্দশা দেখে উদ্বিগ্ন, হত্যা-ধর্ষণের বাড়বাড়ন্ত নিয়ে বিক্ষুব্ধ ছিলেন তিনি। সম্প্রতি একটি কাজে সরকারি কতক অফিসে ঘুরতে গিয়ে একদিকে ‘দুর্নীতিমুক্ত অফিস’ স্টিকার লাগানো আর অন্যদিকে প্রকাশ্যে লেনদেন ও তা নিয়ে দেনদরবার দেখার কারণে ছিলেন হতাশ। দুধ নিয়ে নানা বিতর্কের পর শেষ পর্যন্ত ভালো রিপোর্ট আসা সত্ত্বেও তিনি তেমন নিশ্চিন্ত হতে পারছিলেন না।
সর্বোপরি একেবারেই ত্যক্ত-বিরক্ত ছিলেন কতক মন্ত্রী ও মেয়রের কথাবার্তা, হাবভাব ও চলাফেরায়। অতিকথন, বেফাঁস কথনে মন্ত্রী-নেতা যারা যুক্ত তাদের নিয়ে নানা অভিযোগ করতে করতে তিনি সবশেষে টার্গেট করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জহিদ মালিককে। শুরু করলেন ‘এডিস মশার প্রজনন ক্ষমতা রোহিঙ্গাদের মতো’ কথা দিয়ে। তিনি একসময় রোমানিয়ার ঘটনা মনে করিয়ে দিয়ে ক্ষোভের ঝাল আমার ওপরে ঝাড়তে লাগলেন। দুর্ভাগ্যপীড়িত বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের সামনে নিয়ে জাতপাত নিয়ে অবজ্ঞা বা হেয় করা যে অন্যায়, তা তো অন্তত সরকার পরিচালকদের অন্যতম ব্যক্তি হিসেবে মন্ত্রীর অনুধাবন করা প্রয়োজন। আর ৩০-৪০ বছর আগে আমাদের পূর্বপুরুষদের প্রজনন ক্ষমতার বিষয়টিও তার অন্তত বিবেচনায় নেয়ার প্রয়োজন ছিল। শুরুতেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে যখন অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে এডিস মশা ধ্বংসের ব্যবস্থাসহ চিকিৎসার সঠিক ব্যবস্থা করতে হবে, যখন দেশবাসীর পরিচ্ছন্নতার চেতনাকে জাগ্রত করার জন্য আবেদন জানাতে হবে, তখন তিনি করলেন প্রজনন ক্ষমতা নিয়ে মশকরা। ওই কথা বলার পর মন্ত্রণালয়ের সবার ছুটি বাতিল করে তিনি ব্যক্তিগত সফরে বিদেশ গিয়ে হলেন হাওয়া। এসে দিলেন সাংবাদিকদের ধমক। তারপর বললেন, ডেঙ্গু নিয়েও ষড়যন্ত্র হচ্ছে। মানুষ যখন মরছে বা আক্রান্ত হচ্ছে, হাসপাতালে সিট বা পরীক্ষার কিট যখন পাওয়া যাচ্ছে না, হাসপাতালগুলো হাজার-লাখ টাকার বিল যখন নিচ্ছে, তখন যড়যন্ত্রের কথাটা আদৌ মানায় কি? বাস্তবে মন্ত্রী হয়ে এ রকম বলে দেশবাসীকে বিপদে রেখে যদি বাইরে চলে যান, তবে তো গুজব রটবেই। পরিস্থিতিতে অস্থিরতা বাড়বেই, ষড়যন্ত্র-চক্রান্তের পরিবেশ সৃষ্টি হবেই। তিনি বললেন, আগে সৃষ্টি হয় অস্থিরতার পরিবেশ। যার জন্য সরকারি কাজ যেমন দায়ী তেমনি দায়ী অনিশ্চিত আকস্মিক ঘটনায় সরকারের বেহাল অবস্থা। এই অবস্থায় একদিকে চলে স্বার্থান্বেষীদের লুটপাট। তারাই ফায়দা লুটতে গুজব ছড়ায়। মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দানা বেঁধে উঠে যখন সমালোচনামুখর হয়, তখনই যড়যন্ত্র-চক্রান্তের উর্বর ক্ষেত্র সৃষ্টি হয়।
এই কথা বলে তিনি আমাকে সেই সুবর্ণচরে সন্তানকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে মাকে ধর্ষণের খবরটা দেখিয়ে দীর্ঘনিশ্বাস ছেড়ে বললেন, কী হলো দেশটার! আমি ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে তিনজন যে গ্রেপ্তার হয়েছে, তা বললাম। তিনি একটুও দেরি না করে বললেন, ওরা নিশ্চয়ই আওয়ামী লীগ নয়। বাস্তবে পরিস্থিতির কারণে তিনি যতটা তেঁতে আছেন, তাতে তাকে কিছু বুঝানো ছিল অসম্ভব। আওয়ামী অন্তপ্রাণ সাথীটি কথা বলতে বলতে এক পর্যায়ে করুণ কণ্ঠে বললেন, শেখ হাসিনা যদি টেলিফোন করে নির্দেশ না দিতেন, তবে এখন ডেঙ্গু ব্যাপারে যেসব ইতিবাচক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে তা কি আদৌ নেয়া হতো? বিনা পয়সার চিকিৎসা, হাসপাতালে আসন বাড়ানো, কিট আনতে ট্যাক্স মাফ ইত্যাদি কি আদৌ হতো? তিনি দীর্ঘনিশ্বাস ফেলে চুপ রইলেন। আমি বললাম, আওয়ামী লীগ যে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানে নামছে, তা নিয়ে কিছু বললেন না। তিনি আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে জলভরা চোখে বললেন, রাস্তায় ঝাড়ু অভিযানের কথা! এটাকে পরিচ্ছন্নতা অভিযান না বলে লোক দেখানো ফটোসেশন অভিযান বলাই শ্রেয়। এতে মানুষ হাসছে।
এ নিয়ে নামজাদা লোক কারো কারো মন্তব্য তিনি ফেসবুক বের করে দেখালেন। আওয়ামী লীগঘেঁষা একজন সুপরিচিত সাংবাদিক পোস্ট দিয়েছেন, ‘একদল ভাঁড় রাস্তায় নেমেছেন’, ‘ঝাড়ু রাখেন, নাটক অনেক করেছেন।’ একজন পত্রিকা সম্পাদক লিখেছেন, ‘নিশিরাতের মন্ত্রী-এমপিরা মানুষের মনের ভাষা বুঝেন না।’ এসব হেডিং দেখিয়ে তিনি বললেন, কোথাকার পানি কোথায় গড়াচ্ছে দেখছেন! কান ধরে টানলে মাথা তো আসবেই। কথার ফাঁকে ক্ষোভ ও বেদনার গভীরতা অনুধাবন করার জন্য আমি প্রশ্ন করলাম, রাস্তায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় মন্ত্রী-নেতাদের নামাটা তো সিম্বলিক তথা প্রতীকী ও প্রচারমূলক, সচেতনতা সৃষ্টি ও বাড়ানোর জন্যই কি তা করা হচ্ছে না? তাই ছবি ছাপানো কি ক্ষতিকর? তিনি আমাকে বললেন, মানুষের মনের ভাষা না বুঝে যদি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়, তবে তা হাস্যকর হতে বাধ্য। আমি বললাম, মানুষের মনের ভাষা বুঝতে তো আওয়ামী লীগ সিদ্ধহস্ত এবং তা বোঝে বলেই দলটি আজো দেশের সর্ববৃহৎ গণআস্থাসম্পন্ন দল হিসেবে দেশ ও সরকার পরিচালনা করছে। এই কথার পর তিনি যে বঙ্গবন্ধুর সাড়ে তিন বছরের শাসনামলের কথা বলবেন, তা জানার মধ্যেই ছিল। তিনি তখনকার নানা উদাহরণ টেনে বললেন, ক্ষমতায় থাকলে বুঝ কমে যায়। ক্ষমতা তখন সব ভুলিয়ে দেয়। যদি মন্ত্রী-নেতাদের কেউ কেউ তা না ভুলতেন, তবে কি উল্টাপাল্টা যা ইচ্ছে তাই বলা হতো? বিদেশ যাওয়া? ধমক?
প্রধানমন্ত্রীর সদিচ্ছা, সাহস, দক্ষতা প্রভৃতি আওয়ামী লীগকে বাঁচিয়ে দিচ্ছে। নতুবা কী হতো কে জানে! চিকিৎসার জন্য ১৯৭২ সালে গলব্লাডার অপারেশনের জন্য বঙ্গবন্ধুর লন্ডন এবং ১৯৭৪ সালে রাশিয়া যাওয়ার সময়কার নানা গুজবের কথা তিনি আমাকে শোনালেন। অভিজ্ঞতা স্মরণে এনে তিনি বললেন, বাহাত্তর থেকে চুয়াত্তরে গুজব রটেছিল বেশি। এর কারণ ছিল দেশের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি। বাংলাদেশের ভাগ্যে কী আছে কে জানে বলে তিনি উঠে দাঁড়ালেন। বললেন বয়স হয়েছে তেমন কিছু করতে পারি না। তাই কথা বলা ছাড়া আমার আর কিইবা করার আছে। আমি বললাম, কথাও এক ধরনের শক্তি, তাতে কাজ হয়। যদি না হতো তবে কথার প্রতিক্রিয়ার রোমানিয়ার শিক্ষামন্ত্রী বরখাস্ত হতেন না। তিনি বললেন, ভালো কথার শক্তি যখন কমে, কাজ যখন কম হয়, তখনই বুঝতে হবে বিপদ আসছে। বন্ধুটি বিদায় নিলে আমিও পুরানা পল্টনের অফিস থেকে বাসা ইস্কাটনের দিকে রওনা দিলাম।
হঠাৎই মনে পড়ল কলরেডির জনপ্রিয়তার জরিপের কথা। অবস্থাদৃষ্টে নিঃসন্দেহে মনে হয় প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা উদ্যম ও কাজে সন্তুষ্ট দেশের মানুষ। এটা এখনো বাড়ছে বৈ কমছে না। কিন্তু কোনো কোনো মন্ত্রী ও দলীয় পদাধিকারী নিয়ে যে কমবেশি সবাই সমালোচনামুখর তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কারো পক্ষে কোনো কথা বলা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। এটা কোনো ভালো লক্ষণ নয়। এই অবস্থায় বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন কতটা জনসম্পৃক্ত ও উৎসবমুখর হবে তা বলা কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে। সাধারণ মানুষ ও আওয়ামী লীগের নীরব সমর্থকদের সঙ্গে কথা বলে মনে হচ্ছে, তারা মনে করছেন, এবারে বিদেশ থেকে ফিরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যথাযথ ও কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। ঈদোৎসব ও শোক দিবস পালন সামনে রেখে মানুষের এই ইচ্ছা পূরণ হোক, এটাই একান্ত কামনা।

শেখর দত্ত : রাজনীতিক ও কলাম লেখক।