সিরাজগঞ্জে কোরবানীর জন্য প্রস্তুত ১ লাখ ৪৪ হাজার গবাদিপশু

আগের সংবাদ

জয় তুলে নিল অস্ট্রেলিয়া

পরের সংবাদ

বিপিএলে সেরা রানা

এস এম সায়েম :

প্রকাশিত হয়েছে: August 6, 2019 , 1:15 pm

চট্টগ্রাম আবাহনী ও বসুন্ধরা কিংসের ম্যাচের মধ্য দিয়ে গত শনিবার পর্দা নেমেছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) ফুটবল টুর্নামেন্টের একাদশ আসরের। প্রথমবারের মতো দেশের ঘরোয়া ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসরে অংশ নিতে এসেই চমক দেখিয়েছে বসুন্ধরা কিংস। সবাইকে বিস্মিত করে এবারের আসরের শিরোপা জিতেছে দলটি। আর রানার্সআপ হয়েছে ঢাকা আবাহনী। শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র হয়েছে তৃতীয়। আর শেখ রাসেলের তৃতীয় স্থানে থেকে মৌসুম শেষ করতে পারার পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছেন গোলরক্ষক আশরাফুল ইসলাম রানা। গোল পোস্টের নিচে অতন্দ্র প্রহরীর ভ‚মিকা পালন করেছেন তিনি। আর প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই দিয়েছেন আস্থার প্রতিদান। এ কারণেই সদ্য শেষ হওয়া বিপিএলের একাদশ আসরের শ্রেষ্ঠ গোলরক্ষকের পুরস্কার উঠেছে রানার হাতে।
৫ ফুট ১১ ইঞ্জি উচ্চতার গোলরক্ষক আশরাফুল ইসলাম রানার জন্ম ১৯৮৮ সালের ১ মে মানিকগঞ্জে। ছোটবেলা থেকেই ফুটবলের প্রতি তার ছিল অকৃত্রিম এক টান। আর এই টানই তাকে এতদূর এনেছে। এখন বাংলাদেশের ফুটবলের অন্যতম পরিচিত ও জনপ্রিয় মুখ হলেও আশরাফুল ইসলাম রানা এক সময় কাজ করতেন সেনাবাহিনীতে। তাও অল্প সময় নয়! প্রায় একযুগ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কাজ করেছেন তিনি। সেনাবাহিনীতে কাজ করলেও রানার মনটা পড়ে থাকত ফুটবলের দিকেই। এ কারণে যখনই সময় পেতেন তখনই মেতে উঠতেন ফুটবল খেলায়। যোগ দেয়ার শুরু থেকেই সেনাবাহিনীতে নিয়মিত খেলতেন তিনি। এক সময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মূল দলেও খেলেছেন রানা।
তবে সেনাবাহিনীর চাকরি ছেড়ে কেবল ফুটবলকেই পেশা হিসেবে বেছে নেয়াটা রানার জন্য মোটেই সহজ ছিল না। তার ভাষায়, ফুটবল আমার ভালোলাগা। পেশাদার ফুটবলে ভালো করার ব্যাপারে আমি আত্মবিশ্বাসী ছিলাম। এরপরও সেনাবাহিনীর কাজ ছেড়ে পুরোদমে ফুটবলকে পেশা হিসেবে বেছে নেয়াটা আমার জন্য খুবই চ্যালেঞ্জিং ছিল। আমি সেই কঠিন চ্যালেঞ্জটাকেই বেছে নিয়েছিলাম। আমার পরিবারের সদস্যদের ধন্যবাদ। তারা সব সময় আমার পাশে থেকেছে এবং আমাকে অনুপ্রেরণা ও সাহস দিয়েছে।
রানার পেশাদার ফুটবলের শুরুটা হয় ঐতিহ্যবাহী ঢাকা মোহামেডানের হয়ে। এরপর দুই মৌসুম চট্টগ্রাম আবাহনীর হয়ে খেলেছেন বর্তমানে ৩১ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক। চট্টগ্রামের ক্লাবটির হয়েও তার পারপরমেন্স ছিল মুগ্ধ হওয়ার মতো। ২০১৮ সালে তিনি নাম লেখান বাংলাদেশের ঘরোয়া ফুটবলের আরেকটি শক্তিশালী ক্লাব শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রে।
এবারের বিপিএলে ২৪ ম্যাচের মধ্যে ২২টিতেই খেলেছেন তিনি। ইনজুরির কারণে ২টি ম্যাচে খেলতে পারেননি। সেরা গোলরক্ষকের পুরস্কার জেতার অভিব্যক্তি কেমন তা জানাতে গিয়ে রানা বলেন, একজন ফুটবলার হিসেবে এটা আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া। বিপিএল আমাদের দেশের ঘরোয়া ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদার আসর। আর এই টুর্নামেন্টের সেরা গোলরক্ষকের পুরস্কার জেতাটা আমার জন্য সম্মানের।
বিপিএলের একাদশ আসরে সাফল্যের কারণ জানাতে গিয়ে শেখ রাসেলের এই গোলরক্ষক বলেন, ফিটনেস ধরে রাখাটা খুব জরুরি। আমার মতে, ভালো পারফর্মের পেছনে ফিটনেস গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা রাখে। ফিটনেসের পাশাপাশি আরেকটি বিষয়ের দিকে জোর দেয়া প্রয়োজন। আর সেটা হলো কঠোর অধ্যাবসায়। পরিশ্রম করে গেলে এক সময় সফলতা আসবেই।
সেনাবাহিনীতে কাজ করার অভিজ্ঞতা এখন ভালো পারফর্ম করার পেছনে প্রভাব ফেলে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অবশ্যই। সেনাবাহিনীতে কাজ করার ফলে আমি কীভাবে সুশৃঙ্খল জীবনযাপন করতে হয় তা শিখেছি। একজন ফুটবলারের জন্য শৃঙ্খলা খুবই জরুরি বিষয়।
২০১৫ সালের ১৯ ডিসেম্বর নেপালের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বাংলাদেশ জাতীয় দলের হয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেক হয় গোলরক্ষক রানার। এখন পর্যন্ত দেশের হয়ে ১৫টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন তিনি। ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর তার ওপর জাতীয় দলের অধিনায়কত্বের দায়িত্ব দেয় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। এরপর বেশ কিছুদিন জাতীয় দলকে নেতৃত্বও দিয়েছেন এই গোলরক্ষক।
জাতীয় দলের বর্তমান কোচ জেমি ডের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে রানা বলেন, তিনি কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর দেশের ফুটবলের বেশ উন্নতি হয়েছে। তার অধীনে কাজ করাটা খুবই উপভোগ করি। কারণ তিনি সব খেলোয়াড়ের সঙ্গে বন্ধুর মতো করেই মিশেন। আর খুব যতœসহকারেই ত্রæটিগুলো বুঝিয়ে দেন এবং সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেন। তার সময়ে খেলোয়াড়দের ফিটনেসের যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে। এ ছাড়া খেলোয়াড়দের কাছ থেকে সেরাটা কীভাবে বের করে আনতে হয়, তা তিনি খুব ভালো করেই জানেন।
বাংলাদেশের ফুটবলের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে মানিকগঞ্জ থেকে উঠে আসা এই গোলরক্ষকের মন্তব্য, এক সময় আমাদের দেশের ফুটবলের মান অনেক উঁচুতে ছিল। এশিয়ার অনেক শক্তিশালী দলের বিপক্ষে আমরা সমানতালে লড়াই করতে পারতাম। কিন্তু মাঝখানে অবস্থা বেশ খারাপ হয়ে যায়। এখন আবার পরিবর্তন হচ্ছে। আমার আশা, আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই আমাদের ফুটবলে ব্যাপক উন্নতি হবে। এ জন্য প্রয়োজন পরিকল্পনা গ্রহণ ও সে অনুযায়ী কাজ করা।
আর কয়েকদিন পরই শুরু হবে এশিয়া অঞ্চলের বিশ^কাপ বাছাইয়ের দ্বিতীয় পর্বের খেলা। যেখানে বাংলাদেশের গ্রুপে আছে ভারত, ওমান, আফগানিস্তান ও কাতার।
এদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সাফল্য পেতে কতটুকু আশাবাদী জিজ্ঞেস করা হলে জাতীয় দলের এই গোলরক্ষক জানান, আমাদের তুলনায় তারা সবাই শক্তিশালী প্রতিপক্ষ। গ্রুপের চারটি দলের অবস্থানই ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে আমাদের উপরে। এরপরও আমি আশাবাদী। বিশেষ করে ভারত ও আফগানিস্তানের বিপক্ষে জয় পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী আমি।
এরপর র‌্যাঙ্কিংয়ের অবস্থানের প্রসঙ্গ টেনে রানা বলেন, র‌্যাঙ্কিংয়ে এখন বাংলাদেশের অবস্থান ১৮২ নম্বরে। এর কারণ মাঝখানে আন্তর্জাতিক ফুটবলে দেড় বছরের নির্বাসন। সেটা না হলে আমাদের অবস্থান আরো উপরে থাকত।