×

জাতীয়

টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে আসছে কুরবানির পশু

Icon

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০২ আগস্ট ২০১৯, ০১:০৫ পিএম

টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে আসছে কুরবানির পশু
ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে মিয়ানমার থেকে আসছে কুরবানির পশু। গত তিন দিনে মিয়ানমার থেকে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ ক্যাডল করিডোর দিয়ে ৩ হাজার ৯৩৫টি পশু আমদানি হয়েছে। এ ছাড়া জুলাই মাসজুড়ে সে দেশ থেকে ১০ হাজার ৯৫টি গরু-মহিষ আমদানি হয়েছে। সাগরপথে ট্রলারে করে এসব পশু আমদানি হচ্ছে। পশু আমদানিকারকরা বলছেন, আবহাওয়া ভালো থাকলে আর দুদেশের সীমান্ত পরিস্থিতি অনুকূল থাকলে ঈদুল আজহা পর্যন্ত আরো পশু আমদানি হবে। আমদানিকৃত এসব পশু স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারেও সরবরাহ করা যাবে বলে জানান তারা। মিয়ানমার ও বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা সচেষ্ট রয়েছেন যাতে পর্যাপ্ত কুরবানির পশু আমদানি করা যায়। সীমান্ত এলাকার (উখিয়া-টেকনাফ) মানুষের একমাত্র ভরসা হচ্ছে মিয়ানমারের এসব পশু। অন্যথায় উত্তরাঞ্চল থেকে পশু এনে কুরবানি করা সীমান্তবাসীর জন্য দুরূহ ব্যাপার। শাহপরীর দ্বীপ ক্যাডল করিডোরে গিয়ে দেখা যায়, নাফ নদী দিয়ে গরু-মহিষ বোঝাই একের পর এক ট্রলার শাহপরীর দ্বীপ জেটিতে ভিড়ছে। একেকটি ছোট-বড় ট্রলারে ৫০-২০০টি পর্যন্ত পশু আমদানি হচ্ছে। সেখান থেকে পশুগুলো খালাস করে করিডোরে নিয়ে আসা হচ্ছে। এদিকে করিডোরে হাজারো গরু-মহিষ মজুদ রয়েছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ব্যবসায়ীরা এসে গরু-মহিষ কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। আবার স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও কুরবানির হাটে বিক্রির জন্য গরু-মহিষ কিনছেন। আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, করিডোরে তুলনামূলকভাবে অন্যান্য বছরের চেয়ে পশুর দাম এবার কম রয়েছে। এবার বড়, মাঝারি ও ছোট বিভিন্ন সাইজের গরু-মহিষ আমদানি হচ্ছে। এখানে কথা হয় চট্টগ্রামের সাগরিকা পশুরহাটের ব্যবসায়ী কাশেমের সঙ্গে। তিনি জানান, একজন আমদানিকারকের কাছ থেকে ১৮৮টি গরু কিনেছেন প্রতিটি ৯৪ হাজার টাকা দামে। প্রতিটি গরু ৮-১০ হাজার টাকা কমে পেয়েছেন বলে জানান তিনি। পশু আমদানিকারক শহিদুল ইসলাম জানান, শাহপরীর দ্বীপ করিডোর দিয়ে সারা বছর মিয়ানমার থেকে গবাদি পশু আমদানি হয়ে থাকে। তবে ঈদুল আজহার সময় বাড়তি চাহিদা থাকায় অধিকসংখ্যক গবাদি পশু আমদানি করে থাকেন ব্যবসায়ীরা। এখানকার গবাদি পশু স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে চট্টগ্রাম-নোয়াখালী-কুমিল্লাসহ সারাদেশে সরবরাহ হয়ে থাকে। অপর আমদানিকারক আবু সৈয়দ জানান, এবার অধিকসংখ্যক গবাদি পশু আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। আবহাওয়া অনুক‚ল থাকলে পর্যাপ্তসংখ্যক কুরবানির পশু আমদানি করা সম্ভব হবে। করিডোরের গবাদি পশু ব্যবসায়ী ইসমাঈল জানান, আমদানিকৃত গবাদি পশুর রাজস্ব পরিশোধের জন্য শাহপরীর দ্বীপে সোনালী ব্যাংকের একটি বুথ স্থাপন করার দাবি দীর্ঘদিনের। এ ছাড়া করিডোরে পশুগুলো রাখার জন্য নির্দিষ্ট কোনো জায়গা নেই। ফলে রোদ-বৃষ্টিতে ভিজে পশুগুলোর অবস্থা নাজুক হয়ে পড়ে। ব্যবসায়ী আব্দুল্লাহ মনির জানান, পথে গরু-মহিষ বোঝাই যানবাহনগুলো যাতে কোনো সমস্যায় না পড়ে সে ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের সজাগ দৃষ্টি প্রয়োজন। তবে তিনি জানান, শাহপরীর দ্বীপের সঙ্গে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ ঠিক থাকলে গবাদি পশু দেশীয় বাজারে সরবরাহ করা আরো সহজ হতো। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ব্যবসায়ীরা সরাসরি শাহপরীর দ্বীপ থেকে গাড়ি বোঝাই করে গবাদি পশু নিয়ে যেতে পারতেন। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. শওকত আলী জানান, টেকনাফে আড়াই লাখ মানুষের মাঝে সাড়ে ৬ হাজারের মতো কুরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে খামারি ও ব্যবসায়ীদের কাছে ৭ হাজারের মতো পশু রয়েছে। এবারে আমদানিকৃত পশুগুলোর খুরা রোগ নেই বলে জানান তিনি। তবে স্থানীয়দের বাইরে উখিয়া-টেকনাফের ১১ লাখ রোহিঙ্গার জন্য কী পরিমাণ কুরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে সে সম্পর্কে ধারণা নেই বলে জানান তিনি। টেকনাফ শুল্ক স্টেশনের কর্মকর্তা মো. ময়েজ উদ্দিন জানান, গত জুলাই মাসে শাহপরীর দ্বীপ ক্যাডল করিডোর দিয়ে ১০ হাজার ৯৫টি গরু-মহিষ আমদানি হয়েছে। এর মধ্যে ৬ হাজার ৭৪৪টি গরু ও ৩ হাজার ৩৫১টি মহিষ। যার বিপরীতে ৫০ লাখ ৪৭ হাজার ৫০০ টাকা রাজস্ব আয় হয়েছে। গত জুন মাসে ১০ হাজার ১৭৭টি গরু-মহিষ আমদানি হয়েছিল এ করিডোর দিয়ে। রাজস্ব আয় হয়েছিল ৫০ লাখ ৮৮ হাজার ৫০০ টাকা। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল ফয়সল হাসান খান জানান, পার্শ্ববর্তী দেশ মিয়ানমার থেকে ব্যবসায়ীরা ঈদুল আজহা উপলক্ষে পশু আমদানি বৃদ্ধি করেছেন। বিজিবির তত্ত্বাবধানে শাহপরীর দ্বীপ ক্যাডল করিডোর দিয়ে পশুগুলো আমদানি হয়ে থাকে। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করে পশু আমদানি নির্বিঘ্ন করতে বিজিবি সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। টেকনাফ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এ বি এম এস দোহা জানান, কুরবানির পশুর হাটে চাঁদাবাজি, জাল টাকার ব্যবহারসহ ক্রেতা-বিক্রেতাদের যাতে কোনো ধরনের সমস্যা না হয় সে ব্যাপারে পুলিশ তৎপর রয়েছে। টেকনাফের হোয়াইক্যং হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ পরিদর্শক মোর্শেদুল আলম চৌধুরী জানান, সড়কে পশুবাহী কোনো যানবাহন যাতে হয়রানি ও চাঁদাবাজির শিকার না হয় সে ব্যাপারে টহল জোরদার করা হয়েছে। শুধু পশুবাহী নয়, সড়কে যে কোনো ধরনের নৈরাজ্য ঠেকাতে পুলিশ প্রস্তুত রয়েছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App