বঙ্গবন্ধু বললেন, আমার বুকে অস্ত্র তাক করতে ওদের হাত কাঁপবে না! -পঙ্কজ ভট্টাচার্য

আগের সংবাদ

এশিয়ার দেশে দেশে ডেঙ্গুর ভয়াল ছোবল

পরের সংবাদ

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে যেভাবে সফল কলকাতা নগরী

কাগজ ডেস্ক :

প্রকাশিত হয়েছে: আগস্ট ২, ২০১৯ , ১২:৪৫ অপরাহ্ণ

রাজধানী ঢাকাসহ গোটা বাংলাদেশ যখন ডেঙ্গুর প্রকোপে ভুগছে, তখন দেখা যাচ্ছে কলকাতা শহরের চালচিত্র একেবারেই ভিন্ন। গত কয়েক বছর ধরেই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সাফল্যের স্বাক্ষর রেখে আসছে তারা। এ ব্যাপারে কলকাতা করপোরেশন জানায়, সারা বছর তারা ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে নিবিড় নজরদারি চালিয়ে থাকে, খেয়াল রাখে, কোথাও যাতে পানি না জমতে পারে। নিজস্ব কর্মীর পাশাপাশি বিশেষ ধরনের ড্রোন নিয়োজিত রয়েছে ডেঙ্গুসংক্রান্ত তদারকির জন্য।
বছরভর শহরের প্রতিটা হাসপাতাল, নার্সিং হোম বা পরীক্ষাগারে রোগীদের কী কী রক্ত পরীক্ষা হচ্ছে, কী ভাইরাস পাওয়া যাচ্ছে, তার প্রতিদিনের হিসাব রাখা হয়। যাতে ডেঙ্গু রোগীর খোঁজ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেয়া যায় সঙ্গে সঙ্গে। এর আগের ব্যবস্থায়, শুধু বর্ষা শুরু হলেই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে নামতো কলকাতা সিটি করপোরেশন। কিন্তু ততদিনে দেখা যেত জীবাণু ছড়িয়ে পড়েছে শহরের নানা অঞ্চলে। পরে নীতিগত পর্যায়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে তৎপর হয় কর্তৃপক্ষ। বেশ কয়েক বছর ধরে সারাবছর ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় রয়েছে কলকাতা করপোরেশন।
কলকাতার ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষ জানান, কয়েকটি স্তরে বছরভর শহরজুড়ে নজরদারি চালান তারা। প্রথমত, ১৪৪টা ওয়ার্ডের প্রতিটাতেই তাদের ২০ থেকে ২৫ জন করে কর্মী আছেন, যাদের মধ্যে একদল সচেতনতামূলক প্রচারের কাজ চালায়, অন্য একটি দল লক্ষ্য রাখে কোথাও পানি জমছে কিনা সেদিকে। এর ওপর আছে ১৬টি বরোর (কয়েকটি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত অঞ্চল) প্রত্যেকটার জন্য একটা করে র‌্যাপিড অ্যাকশন টিম। প্রতি টিমে থাকে ৮ থেকে ১০ জন লোক। যাদের সঙ্গে সব ধরনের প্রতিকারমূলক সরঞ্জাম নিয়ে সদাপ্রস্তুত থাকে বিশেষ ধরনের গাড়ি। কোনো জায়গা থেকে ডেঙ্গুর কোনো খবর পাওয়া মাত্র ত্বরিৎগতিতে তারা পৌঁছে যায় সেখানে এবং এডিস মশার লার্ভা নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। যেসব জায়গায় পানি জমে থাকতে দেখা যায়, সেখানে অবস্থাভেদে এক লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রেখে প্রণীত হয়েছে নতুন আইন। পরিচ্ছন্নতার খরচ বাবদ বিল বাড়ির বার্ষিক করের বিলের সঙ্গে জুড়ে দিচ্ছে করপোরেশন।
নজরদারির আওতা এবং দক্ষতা বাড়াতে বহরে যুক্ত হয়েছে প্রযুক্তিসমৃদ্ধ ড্রোন। এ থেকে মশা মারার তেলও ছড়ানো যাবে উপদ্রুত এলাকায়। বিশেষত ডেঙ্গু রোগ চিহ্নিতকরণ এবং চিকিৎসার ব্যবস্থাও গড়ে তোলা হয়েছে শহরের ১৪৪টি ওয়ার্ডের প্রতিটিতে। ভারতের বেশিরভাগ ল্যাবরেটরি বেসরকারি। তাদের কাছ থেকে সবসময় সঠিক তথ্য পাওয়া দুষ্কর। এ কারণে শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডে একজন করে কর্মী রয়েছে যার একমাত্র কাজ ওই এলাকায় যত হাসপাতাল, নার্সিং হোম বা ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে, সেখানে সরজমিনে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা। কত রোগীর রক্ত পরীক্ষা হলো, কি কি পরীক্ষা হলো, পরীক্ষার ফল কি, সেগুলো নোট করে আনবেন তারা। এসব তথ্য অনলাইন ব্যবস্থায় সঙ্গে সঙ্গে পৌঁছে যাবে মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণ টিমের কাছে। ডেঙ্গু জ¦রে কারো মৃত্যু হয়েছে এটা জানা গেলে সব তথ্য ওই কমিটির কাছে পাঠাতে হয়। কমিটিতে শহরের নানা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আছেন। তারাই সিদ্ধান্ত নেন মৃত্যু ডেঙ্গুতে হয়েছে নাকি অন্য কোনো কারণে।
বাংলাদেশের নানা জায়গায় ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ার বিষয়ে তিনি বলেন, এটা আমাদের কাছেও একটা চিন্তার কারণ। বাংলাদেশ থেকে বহু মানুষ প্রতিদিন কলকাতায় আসেন। তাদের মধ্যে কেউ যদি ডেঙ্গুর ভাইরাস নিয়ে আসেন, সেখান থেকেও রোগ ছড়ানোর আশঙ্কা থাকে। এ কারণে বাংলাদেশ চাইলে যে কোনো ধরনের সহায়তা দিতে রাজি আছি আমরা। তারা চাইলে আমরা ঢাকা গিয়ে তাদের হাতেকলমে দেখিয়ে দিয়ে আসতে পারি কীভাবে বছরভর কলকাতায় ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কাজ করছি আমরা।