চিকুনগুনিয়া

আগের সংবাদ

শিশুর যখন চিকুনগুনিয়া

পরের সংবাদ

এই বৃষ্টিতে আপনার স্বাস্থ্য

প্রকাশিত হয়েছে: জুলাই ২৬, ২০১৯ , ৪:২৮ অপরাহ্ণ | আপডেট: জুলাই ২৬, ২০১৯, ৪:২৮ অপরাহ্ণ

Avatar

জারুল, সোনালু আর কৃষ্ণচ‚ড়ার লালে রাঙা তপ্ত গ্রীষ্মে এবার বর্ষার আগমন যেন একটু তড়িঘড়িই। গ্রীষ্মের এই তৃষিত ধরণীতে থেকে থেকে ঈষাণ কোণ কাল করে আসা কালবৈশাখীর দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি যেন নিয়ে আসে নতুন প্রাণের ছোঁয়া। শহর, গ্রাম, অরণ্য, পাহাড় সর্বত্রই যেন সবুজ-শ্যামলীমার প্রাচুর্য। যদিও প্রাণ-প্রাচুর্যে ভরা এই বর্ষায় আমাদের নানা স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিতে পারে। প্রথমেই আসা যাক ডেঙ্গু আর গতবার আমাদের দেশে ঢাকাসহ বড় শহরগুলোতে মহামারী আকারে দেখা দেয়া চিকুনগুনিয়া জ্বর প্রসঙ্গে। এই বর্ষায় চলছে থেকে থেকে বৃষ্টির পতন। নদী-নালা-নর্দমা-ডোবা কিংবা জলাশয় সর্বত্র পানি ভরভর। পানি জমছে ঘরের ফুলের টব, এসি, পরিত্যক্ত টায়ার, বোতল, নারিকেল বা ডাবের খোসা সর্বত্র। যা এডিস মশার বংশবিস্তারের এক উপযুক্ত পরিবেশ। আর এই মশা ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া জ্বরের প্রধান বাহক হিসেবে স্বীকৃত। তাই এখনই এই মশার নিয়ন্ত্রণে যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে পূর্বে উল্লিখিত দুটি রোগ মহামারী আকারে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়তে পারে। সবুজ-শ্যামল আর রাঙা পথঘেঁষা পার্বত্য অঞ্চলে বেড়ে যায় ম্যালেরিয়ার প্রধান বাহক এনোফিলিস মশার বংশবিস্তার সেই সঙ্গে ম্যালেরিয়ার প্রকোপ। পথ-ঘাট সর্বত্রই নালা-নর্দমার উপচে পড়া ময়লা পানির অবস্থান। সেই সঙ্গে বিশেষত ঢাকা শহরে অপর্যাপ্ত পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা কিংবা অপরিকল্পিত নগরায়ন তৈরি করছে অল্প বৃষ্টিতে তীব্র জলাবদ্ধতা। সেই সঙ্গে নগরের পানি সরবরাহ ও পয়োনিষ্কাশনের প্রধান সংস্থা ওয়াসার অদক্ষতায় নালা-নর্দমার নোংরা পানি সহজেই মিশে যাচ্ছে মানুষের পান ও গৃহস্থলি কাজের জন্য সরবরাহকৃত পরিষ্কার পানির সঙ্গে। তাই বেড়ে যেতে পারে পানিবাহিত বিভিন্ন রোগ, যেমন- ডায়রিয়া, কলেরা, জন্ডিস, টাইফয়েড প্রভৃতি। তাছাড়া নোংরা পানির সরাসরি সংস্পর্শে মানুষের দেহে দেখা দিতে পারে ত্বকে ছত্রাকের সংক্রমণ কিংবা ল্যাপটোস্পাইরোসিস নামক মারাত্মক জ্বর রোগ। এখন চলছে হঠাৎ গরম কিংবা হঠাৎ ঠাণ্ডার প্রকোপ কিংবা তীব্র গরম থেকে হঠাৎ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষ কিংবা গাড়িতে অবস্থান প্রভৃতি কারণে বিশেষত বাচ্চাদের মধ্যে বেড়ে যেতে পারে জ্বর, ঠাণ্ডা, সর্দি-কাশি কিংবা নিউমোনিয়ার প্রকোপ। আর অন্যদিকে প্রাপ্তবয়স্ক ও বয়স্কদের মধ্যে বেড়ে যেতে পারে অ্যাজমা কিংবা সিওপিডি নামক শ্বাসকষ্টজনিত রোগের প্রকোপ। প্রধানত গ্রামাঞ্চলে এই বর্ষায় প্লাবিত বন্যার পানি সহজেই লোকালয়ে প্রবেশ করে। তাই বেড়ে যেতে পারে সাপে কাটা কিংবা বিশেষত শিশুদের ডুবে মরার মতো মারাত্মক স্বাস্থ্য সমস্যা। সেই সঙ্গে ঝড়ের সময় বজ্রপাতে আমাদের দেশে বিশেষত গ্রামাঞ্চলে মৃতের সংখ্যা যেন দিন থেকে দিন বেড়েই চলেছে।

এই বর্ষায় সুস্বাস্থ্যের লক্ষ্যে কিছু পরামর্শ
# খেয়াল রাখুন ঘরের পরিত্যক্ত টাঙ্কি, বোতল, টায়ার কিংবা ডাবের খোল কিংবা ফুলের টবে পানি যেন না জমে। সেই সঙ্গে ব্যক্তি পর্যায়ে মশার কামড় থেকে নিজেকে রক্ষাকল্পে শোয়ার সময় বিশেষত রাতে ও বিকেলে মশারি ব্যবহারের অভ্যাস করুন। মশা তাড়ানোর লক্ষ্যে ব্যবহার করা যেতে পারে কয়েল, স্প্রে কিংবা শরীরে ব্যবহার করা যেতে পারে মশা নিবারক ক্রিম। পার্বত্য অঞ্চলে সন্ধ্যার পর বাইরে অবস্থান না করাই ভালো। কিংবা পার্বত্য বনাঞ্চলে চলার সময় লম্বা হাতাযুক্ত শার্ট-প্যান্ট ও পায়ে জুতা পরিধান করা যেতে পারে। স্বাস্থ্যসম্মত পানি ও পয়োনিষ্কাশনে ওয়াসাকে হতে হবে আরো আন্তরিক। ঢাকা সিটি করপোরেশনসহ অন্যান্য নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে মশক নিবারণে নিতে হবে আশু পদক্ষেপ।
# সব সময় পানি ফুটিয়ে পান করুন। বাইরের খাবার বিশেষত স্ট্রিট ফুড যতটা সম্ভব পরিহার করুন। এসির তাপমাত্রা সব সময় ২৫০ সেন্টিগ্রেড বা এর আশপাশে রাখার চেষ্টা করুন। হঠাৎ তীব্র গরম থেকে এসে ফ্রিজের ঠাণ্ডা পানি সরাসরি পান করবেন না। আপনার ত্বক নোংরা পানির সংস্পর্শে এলে তা যথাসম্ভব পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ত্বক শুষ্ক ও পরিষ্কার রাখুন।
# দুগ্ধ পোষ্য শিশুদের নিয়মিত মায়ের বুকের দুধ প্রদানে উৎসাহিত করুন। কেননা এটি শিশুদের ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়া প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করে।
# ধূমপান বিষপান। তাই ধূমপান আজই বাদ দিন। কেননা এই ধূমপানের ফলে অ্যাজমাসহ অন্যান্য সব ধরনের শ্বাসকষ্টজনিত রোগের প্রকোপ ও তীব্রতা অনেক বেড়ে যায়।
# ঝড় বিশেষত বজ্রপাতসহ ঝড়ের সময় ঘর থেকে বের হবেন না কিংবা ফাঁকা মাঠে কাজ করবেন না। ঝড়ের সময় রাস্তায় বা মাঠে থাকলে নিরাপদ কোনো গৃহে আশ্রয় নিন। বজ্রপাতসহ ঝড়ের সময় গাছের নিচে আশ্রয় নিবেন না। কিংবা মোবাইল ব্যবহার করবেন না।
# বাড়ির শিশু ও বয়স্কদের প্রতি যত্ন ও সেবার মান বাড়িয়ে দিন। নজর দিন তাদের স্বাস্থ্যের ওপর।
# প্রয়োজন রোগের বিভিন্ন লক্ষণ যেমন- ডায়রিয়া, জ্বর, চুলকানো, চামড়ায় ফুসকুড়ি, জন্ডিস, বমি, শ্বাসকষ্ট, সাপে কামড় কিংবা বজ্রপাতে হতাহতের ক্ষেত্রে আজই শরণাপন্ন হোন কোনো অভিজ্ঞ চিকিৎসকের কিংবা যোগাযোগ করুন নিকটবর্তী কোনো স্বাস্থ্য কেন্দ্রে।

মেডিসিন ও মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ
জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট
শেরে বাংলা নগর, ঢাকা-১২০৭

  • আরও পড়ুন
  • লেখকের অন্যান্য লেখা