স্কুলগুলোতে নেই মশা নিধনের ব্যবস্থা

আগের সংবাদ

লিবিয়া উপকূলে নৌকাডুবিতে ১৫০ শরণার্থীর মৃত্যুর আশঙ্কা

পরের সংবাদ

ই-কমার্স ব্যবসা ঘিরে প্রতারক চক্র

প্রকাশিত হয়েছে: জুলাই ২৬, ২০১৯ , ১২:৪৮ অপরাহ্ণ | আপডেট: জুলাই ২৬, ২০১৯, ৫:২৭ অপরাহ্ণ

Avatar

সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে অনলাইনের প্রচার ও প্রসার। ফলে প্রচলিত বিক্রয় ব্যবস্থার পাশাপাশি অনলাইনের মাধ্যমে সাশ্রয়ী দামে গ্রাহক পর্যায়ে সরাসরি পণ্য পৌঁছে দিতে দেশে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে ই-কমার্স ব্যবসা। আর এই সুযোগটা কাজে লাগিয়ে ভুয়া অনলাইন পেজ খুলে গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে একটি চক্র। শুধু তাই নয়, প্রতারণা শিখিয়ে ক্রমেই দলের পাল্লা ভারী করছে তারা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কার্যকর ব্যবস্থার অভাবে ক্রেতারা ভরসা হারিয়ে ফেললে দ্রুতই মুখ থুবড়ে পড়বে সম্ভাবনাময় এ খাত।
ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) সভাপতি অভিনেত্রী শমী কায়সার জানান, অসাধুতা, শঠতা, চুরি, অন্যায্য আচরণসহ নানাবিধ অনলাইন অপরাধ ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থায় বিদ্যমান রয়েছে। এসব অপরাধ ই-কমার্স ব্যবসার প্রধান অন্তরায়। এ জন্য উপযুক্ত আইন ও বিধিবিধান প্রণয়ন এবং তা যথাসময়ে বাস্তবায়ন করা একান্ত জরুরি।
অনলাইনে পণ্য কিনে প্রতারণার শিকার মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান নামে এক ব্যক্তি বলেন, তার স্ত্রী হোসনে আরা খানম রোজী গত ২৫ এপ্রিল ‘ফ্যাশন টাচ’ নামের একটি অনলাইন শপ থেকে দুটি গাউন অর্ডার করেন। সে হিসেবে ২৭ এপ্রিল এলিফ্যান্ট রোডের গাউছিয়া সংযোগ সড়ক সংলগ্ন এসএ পরিবহনের মাধ্যমে গাউন দুটি পাঠালে ৪ হাজার ৫০০ টাকা পরিশোধ করা হয়। পরে বাসায় এসে প্যাকেট খুললে দুটি দেড়শ টাকার শাড়ি পাওয়া যায়। পরে আমার স্ত্রী অনলাইন শপের পেজে থাকা নম্বরে ফোন করে বিষয়টি তাদের অবহিত করেন। এরপর তারা এক সপ্তাহের মধ্যে সমাধান দেয়ার আশ্বাস দেয়। কিন্তু এক সপ্তাহ পরে তারা ফোন রিসিভ করা বন্ধ করে দেয়। পরে তাদের ক্যাশ মেমোতে উল্লিখিত মৌচাকের ১৫৪/২-এ নম্বর দোকানেরও কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে চলতি মাসের ২২ তারিখে প্রতারণার অভিযোগ এনে নিউমার্কেট থানায় একটি মামলা (নং-১২) দায়ের করা হয়।
তার এ মামলার ভিত্তিতে গত মঙ্গলবার রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও মৌচাক এলাকায় অভিযান চালিয়ে এ ধরনের সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের ১৩ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়েছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সিরিয়াস ক্রাইম বিভাগ। তারা হলেন চক্রের মূল হোতা ওমর আলী, মো. সজিব শেখ, মো. সোহেল রানা, মো. সৌরভ মজুমদার, মো. অমিত হাসান, মো. ইসাহাকুল ইসলাম আশিক, মো. আব্দুল করিম, রিয়াজুল জাহান জিনিল, মো. রাকিবুল হাসান, মো. রাব্বি, মো. শরিফুল ইসলাম, শ্রী বলরাম মণ্ডল, মো. হাবিব।
এ সময় তাদের কাছ থেকে ৯১টি মোবাইল, ৫টি ল্যাপটপ, একটি পিসি, ১টি প্রিন্টার, নিম্নমানের ৩০টি শাড়ি, ১০টি থ্রি পিসসহ বিভিন্ন নিম্নমানের পণ্য এবং প্যাকেজিং মালামাল জব্দ করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা পুলিশকে জানিয়েছে তারা ফেসবুকে মিম ফ্যাশন, নিউ ফ্যাশন বিডি, কেজেড ফ্যাশন, রোজ ফ্যাশন বিডি, বিক্রয় বাজার বিডি, ইন্ডিয়ান থ্রি পিস গ্যালারি, শাধমার্ট বিডি, এসএম ফ্যাশন, স্টাইল জোন, এমজেড ফ্যাশন, স্নিগ্ধা ফ্যাশন, সানজু ফ্যাশন, শাড়িস হাউস, বিশ্ববাজার, ব্র্যান্ড শপসহ বিভিন্ন নামে পেজ খুলে গুগল হতে ছবি ডাউনলোডের পর এডিট করে পেজে আপলোডের মাধ্যমে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করে। ক্রেতারা যে পণ্যেরই অর্ডার করুক না কেন প্রতারকরা তাদের কাছে থাকা নিম্নমানের পণ্য এবং অত্যন্ত কম দামি ইলেকট্রনিক পণ্য সরবরাহ করে। কখনো কখনো তারা খালি বাক্স স্কচটেপ পেঁচিয়ে পাঠিয়ে দেন। একটি পেজ দিয়ে বেশ কয়েক দিন প্রতারণা করে আবার নতুন পেজ খুলে নতুন উদ্যমে ব্যবসা চালিয়ে আসছিল।
অভিযানের নেতৃত্ব দেয়া সিরিয়াস ক্রাইম বিভাগের শূটিং ইনসিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ইউনিটের সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার আশরাফ উল্লাহ ভোরের কাগজকে বলেন, এ চক্রের মূল হোতা ওমর আলী। তারা মৌচাক মার্কেটের চতুর্থ তলায় একটি দোকান ভাড়া নিয়ে একেকজন একেকটি অনলাইন পেজ চালাত। আর পেজগুলোতে দেয়া হতো ভুয়া ঠিকানা। ক্রেতা আকৃষ্টের জন্য পণ্যের দামও দেয়া হতো খুবই অল্প। তাদের রকমারি পণ্যের মধ্যে কেউ যদি পোশাক অর্ডার করত তাহলে সেটি যত দামিই হোক না কেন কপালে জুটত দেড়শ টাকার কাপড়। একইভাবে আইফোন থেকে শুরু করে যে মোবাইলই অর্ডার করুক না কেন, দেয়া হতো ৪০০ টাকার চায়না মোবাইল। অনেক সময় আলু পেঁয়াজ এমনকি খালি বাক্সও সরবরাহ করত তারা।
সিরিয়াস ক্রাইম বিভাগের ডিসি মীর মোদাছছের হোসেন বলেন, এরা সবাই বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। এই চক্রটি অনলাইনে বিভিন্ন পেজ খুলে নানা কৌশলে প্রতারণা করে আসছিল। আমরা ইতোমধ্যে শতাধিক পেজ শনাক্ত করেছি। দ্রুতই এর সঙ্গে জড়িত অন্যদের আইনের আওতায় আনা হবে।