কমছে পানি ভাঙছে নদী ছড়াচ্ছে রোগবালাই

আগের সংবাদ

সিরাজগঞ্জে ছেলেধরা সন্দেহে যুবককে গণপিটুনি

পরের সংবাদ

হাসপাতালে ঠাঁই নেই ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি ৪০৩

প্রকাশিত হয়েছে: জুলাই ২৩, ২০১৯ , ১২:৪১ অপরাহ্ণ | আপডেট: জুলাই ২৩, ২০১৯, ১২:৪১ অপরাহ্ণ

Avatar

রবিবার রাজধানীর গোপীবাগ এলাকা থেকে জ্বরে আক্রান্ত ১২ বছর বয়সী মেয়েকে নিয়ে পুরান ঢাকার আজগর আলী হাসপাতালে যান নেপাল সাহা। সেখানে গিয়ে দেখেন তার মতো অনেকেই জ্বরে আক্রান্ত রোগীদের নিয়ে ভিড় করেছেন। কিন্তু বেড ফাঁকা না থাকায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগীদের ফিরিয়ে দিচ্ছেন। উপায়ান্তর না দেখে নেপাল সাহা মেয়েকে নিয়ে ছোটেন অন্য হাসপাতালে।
প্রতিদিনই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ায় রোগীদের নিয়ে স্বজনরা ভিড় করছেন সরকারি-বেসরকারি কিংবা স্বায়ত্তশাসিত হাসপাতাল ও ক্লিনিকে। কিছু হাসপাতাল ডেঙ্গু রোগীদের জন্য আলাদা কর্নার করলেও অধিকাংশ হাসপাতালে আক্রান্ত রোগীদের রাখা হচ্ছে সাধারণ রোগীদের সঙ্গে। এতে সাধারণ রোগী ও তার স্বজনরা রয়েছেন আতঙ্কে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছেন রিয়াজুল আলম। সেখানে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীও রয়েছেন। রিয়াজুলের ভয় ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর মাধ্যমে তিনিও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হতে পারেন।
চলতি বছরের পহেলা জানুয়ারি থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে ৭০৭৯ জন এবং পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তবে বেসরকারি হিসাবে মৃতের সংখ্যা আরো বেশি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার এন্ড কন্ট্রোল রুমের সহকারী পরিচালক ডা. আয়েশা আক্তার ভোরের কাগজকে জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ঢাকার সরকারি, বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪০৩ জন।
ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে গত রবিবার রাতে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন হবিগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. মো. শাহাদৎ হোসেন হাজরা। এর আগে রবিবার সকাল ১১টায় তাকে হবিগঞ্জ থেকে ঢাকায় আনা হয়। তার স্ত্রী শামসুন্নাহার ও ষষ্ঠ শ্রেণি পড়ুয়া মেয়ে আনিকা সুম্মিও গত ১০ দিন ধরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দিন ভোরের কাগজকে জানান, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিনই ডেঙ্গু রোগীরা আসছে। রোগীদের চিকিৎসায় চিকিৎসক, নার্স সবাই সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন। নতুন ভবনের মেডিসিন ওয়ার্ডে বিভিন্ন তলায় ও ওয়ার্ডে ডেঙ্গু রোগীরা ভর্তি আছেন। সেখানে তাদের পাশাপাশি অন্য রোগীরাও আছেন।
শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়া ভোরের কাগজকে জানান, জ¦রে আক্রান্ত রোগীদের জন্য হাসপাতালের বহির্বিভাগে খোলা হয়েছে ‘ফিভার ক্লিনিক’। এ ছাড়া ৫০ বেডের ‘ডেঙ্গু কর্নার’ করা হয়েছে। সেখানে ২৫টি বেড নারী ও ২৫টি পুরুষ রোগীদের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, ধারণক্ষমতার বাইরেও রোগীরা এখানে চিকিৎসা নিতে আসছে। ফলে বিভিন্ন ওয়ার্ডের অন্য রোগীদের সঙ্গে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের রাখা হচ্ছে। এতে করে অন্য রোগী এবং চিকিৎসক ও নার্সদের ঝুঁকি বাড়ছে বলে মনে করেন তিনি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি আছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৮৩ জন, হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪৫, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিডফোর্ড হাসপাতালে ৩৮, শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ৩৩, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৮, ঢাকা শিশু হাসপাতালে ১২ জন। বেসরকারি হাসপাতালের মধ্যে বেশি রোগী ভর্তি বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২১, সেন্ট্রাল হাসপাতালে ১৭, পপুলার মেডিকেল কলেজে ১৪, সালাউদ্দিন হাসপাতালে ১৩, ইবনে সিনা হাসপাতালে (ধানমন্ডি) ১১ জন।
রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদি সাব্রিনা ফ্লোরা ভোরের কাগজকে বলেন, অন্য বছরের তুলনায় এবার আক্রান্তের সংখ্যা বেশি। এ কথা অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে শুধু বাংলাদেশেই নয়, এর আশপাশের দেশগুলোতেও ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা নিয়ে দ্বিমত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেক ডেথ রিপোর্ট হচ্ছে। তবে সবই যে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে তা কিন্তু নয়। আমাদের একটি ডেথ রিভিউ কমিটি রয়েছে। কোনো রোগী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন কি না সেটি কমিটি নিশ্চিত হওয়ার পরই আমরা সেই সংখ্যা প্রকাশ করি।