বাছিররে জামিন না মঞ্জুর, কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

আগের সংবাদ

বিআইবিএমের কর্মশালায় বক্তারা ব্যাংকারদের সক্ষমতা বাড়াতে হবে

পরের সংবাদ

মা হত্যার বিচারের দাবি শিশুকন্যা তুবার

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: জুলাই ২৩, ২০১৯ , ৪:২১ অপরাহ্ণ

রাজধানীর উত্তর বাড্ডায় ‘ছেলেধরা’ সন্দেহে গণপিটুনিতে প্রাণ হারানো তাসলিমা বেগম রেনুর (৪০) হত্যাকারীদের বিচারের দাবি জানিয়ে মানববন্ধন করেছে স্থানীয় জনগণ। একই সঙ্গে মানববন্ধনে দাঁড়িয়ে মায়ের ছবির দিকে অপলক তাকিয়ে ছিল অবুঝ তুবা। এ সময় তার চোখে-মুখে ছিল মাকে ফিরে পাওয়ার আকুতি।

মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে লক্ষ্মীপুর-রায়পুর সড়কে রেনুর হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করে বিভিন্ন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, শ্রেণি-পেশাসহ সর্বস্তরের মানুষ।

এ সময় বক্তারা বলেন, ছেলেধরা গুজবেই রেনুকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এটা কোনো সভ্য সমাজে হতে পারে না। তার হত্যাকারীদের দ্রুত চিহ্নিত করে গ্রেফতার ও বিচারের দাবি জানান তারা।

রেনুর স্বজনরা জানায়, রেনুরা এক ভাই ও পাঁচ বোন। তিনি সবার ছোট। পড়ালেখা শেষে তিনি ঢাকায় আড়ং ও ব্র্যাকে চাকরি করেছিলেন। প্রাইভেটও পড়াতেন তিনি। পারিবারিক কলহের কারণে দুই বছর আগে বিবাহ বিচ্ছেদ হয় তার। আগামী বছরের জানুয়ারিতে বড় ভাই আলী আজগরের কাছে আমেরিকা যাওয়ার কথা ছিল রেনুর। আমেরিকা যাওয়া হল না তার। নির্মম মৃত্যুতে চলে গেলেন না ফেরার দেশে।

বিচ্ছেদের পর ছেলে তাসফিক আল মাহি (১১) বাবার সঙ্গে থাকে। মেয়ে তাসলিমা তুবা থাকতো মায়ের কাছে।

নিহত রেনুর বোন নাজমুন নাহার নাজমা বলেন, আদরের বোনটাকে এভাবে হারাতে হবে ভাবিনি। গুজব আমাদের সব শেষ করে দিয়েছে। গুজব ছড়িয়ে একজন নারীকে এভাবে প্রকাশ্যে হত্যা করা হয়েছে, এটি মেনে নেওয়া যায় না। আমরা এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের গ্রেপ্তার করতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি। যেন আর কোনো মানুষ এভাবে গুজবের বলি না হয়।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন-রায়পুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মারুফ বির জাকারিয়া, পৌর যুবলীগ নেতা হোসেন সরদার, তানভীর কামাল, স্বেচ্ছাসেবলীগ নেতা জাকির হোসেন প্রমুখ।

গত ২০ জুলাই সকালে ঢাকার উত্তর পূর্ব বাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে রেনুকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। মেয়েকে ভর্তির জন্য ওই স্কুলে খোঁজ নিতে যান তিনি। এ সময় তার কথাবার্তায় সন্দেহ হলে ছেলেধরা বলে গণপিটুনি দিলে মারা যান রেনু। ২১ জুলাই রাতে রায়পুর উপজেলার উত্তর সোনাপুর গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে বাবার কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।