রেলের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু ২৯ জুলাই

আগের সংবাদ

হাসপাতালে ঠাঁই নেই ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি ৪০৩

পরের সংবাদ

কমছে পানি ভাঙছে নদী ছড়াচ্ছে রোগবালাই

প্রকাশিত হয়েছে: জুলাই ২৩, ২০১৯ , ১২:৩৩ অপরাহ্ণ | আপডেট: জুলাই ২৩, ২০১৯, ১২:৩৩ অপরাহ্ণ

Avatar

উত্তরাঞ্চলে কমতে শুরু করেছে বন্যার পানি। কিন্তু পদ্মা ও যমুনায় বাড়ছে পানির চাপ। এরই মধ্যে মধ্যাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় তীব্র হয়েছে নদী ভাঙন, তলিয়ে গেছে ফসলি জমি ও বিভিন্ন স্থাপনা। পর্যাপ্ত ত্রাণ না পাওয়ায় মানবেতর জীবনযাপন করছে বানভাসি মানুষ। আর পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে পানিবাহিত রোগের প্রকোপও বাড়ছে। ঘরে ফিরতে না পেরে দুর্গতরা মানবেতর জীবনযাপন করছে। এদিকে বন্যায় সারা দেশে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭১ জনে। তবে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন বলছেন, পর্যাপ্ত ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় সামগ্রী মজুত রয়েছে। সার্বিক বিষয়ে খেয়াল রাখা হচ্ছে। অন্যদিকে, দেশের প্রধান নদীগুলোতে পানিপ্রবাহ নতুন করে বিপদসীমা অতিক্রম না করায় টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, জামালপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধাসহ উত্তরাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে। কিছু এলাকা থেকে পানি নামতে শুরু করেছে।
মানিকগঞ্জের আরিচা পয়েন্টে যমুনার পানি বিপদসীমার ৩১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে হাজারো মানুষ। এছাড়া, পদ্মা ও যমুনার পানি কমলেও কালিগঙ্গা, ইছামতি, ধলেশ্বরীসহ অন্যান্য শাখা নদীর পানি বাড়ছে। গাইবান্ধায় ঘাঘট ও ব্রহ্মপুত্রের পানি কমতে শুরু করায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মহিমাগঞ্জের বালুয়ায় বাঙালি নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে তলিয়ে গেছে বিস্তীর্ণ এলাকার ফসলি জমি। পানি উঠতে শুরু করেছে ব্যস্ততম গোবিন্দগঞ্জ-মহিমাগঞ্জ সড়কে। নতুন করে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ওই এলাকার বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষ।
বগুড়ার সারিয়াকান্দি, সোনাতলা ও ধুনট উপজেলায় যমুনা নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। শেরপুর জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। বন্যার পানিতে ডুবে শ্রীবরদীর ঝগড়ারচর নয়াপাড়ায় এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সিরাজগঞ্জের পাঁচটি উপজেলায় ৩৯টি ইউনিয়নের ৩৮৮টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এসব পরিবার ১৮৫টি আশ্রয়কেন্দ্র্রসহ বাঁধ ও উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। গত তিন দিনে তাড়াশ উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে, তলিয়ে গেছে বোরো ধানের ক্ষেত।
ফরিদপুরের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। পদ্মা নদীর পানি গোয়ালন্দ পয়েন্টে বিপদসীমার ৫৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সদরপুর উপজেলার আড়িয়াল নদে পানি বাড়তে থাকায় তিনটি চরাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে পাঁচ হাজার পরিবার।
কুড়িগ্রামের বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে দুর্ভোগ বেড়েছে কয়েকগুণ, নেই খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানি ও পয়ঃসুবিধা। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়ে নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা। কারো ঘরে ভাত রান্না হলেও নেই তরকারি। অনেকে লবণ ভাত খেয়ে দিন পার করছেন। এ দুর্ভোগ জেলার প্রায় সাড়ে আট লাখ বানভাসি মানুষের।
জামালপুরে যমুনা ও ব্রহ্মপুত্রের পানি কিছুটা কমায় জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। পানি ছড়িয়ে পড়ছে সদর উপজেলার কেন্দুয়া, তুলশীরচর, লক্ষ্মীরচর ইউনিয়ন ও পৌরসভার কয়েকটি ওয়ার্ডে। দুর্গত এলাকায় ত্রাণের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে, ছড়াচ্ছে পানিবাহিত রোগ। রেল লাইন তলিয়ে যাওয়ায় বন্ধ রয়েছে দেওয়ানগঞ্জ-জামালপুর রেল যোগাযোগ। ঝুঁকি এড়াতে জামালপুর থেকে যমুনা সেতুর পূর্ব পাড় পর্যন্ত রেল যোগাযোগও বন্ধ রাখা হয়েছে। এ পর্যন্ত জেলায় পানিতে ডুবে আটজনের প্রাণহানি হয়েছে।
সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে যমুনা নদীর পানি কিছুটা কমলেও বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানিবন্দি সিরাজগঞ্জ সদর, কাজিপুর, বেলকুচি, চৌহালী ও শাহজাদপুর উপজেলার ৩৬টি ইউনিয়নের ২ লক্ষাধিক মানুষ। সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধের দুটি স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। সিসি ব্লক ও বালির বস্তা দিয়ে দ্রুত ফাটল মেরামত করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
কুড়িগ্রামে বন্যার পানি নামতে শুরু করলেও বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে ব্রহ্মপুত্র নদ ও ধরলা। বিশুদ্ধ পানির অভাব এবং পানিবাহিত রোগে বেড়েছে জনদুর্ভোগ। গত ১১ দিনে জেলায় পানিতে ডুবে মৃতের সংখ্যা ১৩ জনে পৌঁছেছে।
গাইবান্ধায় বিপদসীমার উপরে থাকা ব্রহ্মপুত্র নদ ও ঘাঘট নদীর পানি কমতে শুরু করলেও বাঁধের ভেঙে যাওয়া অংশগুলো দিয়ে পানি ঢুকে প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার নিচে থাকলেও বাড়ছে করতোয়া নদীর পানিও। জেলায় এ পর্যন্ত মারা গেছে ৬ জন।