এক অন্তহীন হতাশার নাম মিয়ানমার

আগের সংবাদ

পর্তুগালের দাবানল নিয়ন্ত্রণে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অভিযান

পরের সংবাদ

সাম্প্রদায়িকতার আগুন নিয়ে খেলতে নেই

প্রকাশিত হয়েছে: জুলাই ২২, ২০১৯ , ৭:২৭ অপরাহ্ণ | আপডেট: জুলাই ২২, ২০১৯, ৭:২৭ অপরাহ্ণ

মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী

অধ্যাপক (অবসরপ্রাপ্ত), ইতিহাসবিদ ও কলাম লেখক।

বর্তমান বিশ্ব বাস্তবতায় অনেক অগ্রগতি থাকা সত্ত্বেও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের নানা অপচেষ্টা অনেকেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে করে থাকে। আবার অনেকে তা ভালোভাবে বুঝতে পারে না। আমরা চাইব সব দেশেই সাম্প্রদায়িক হানাহানি বিদ্বেষ দূর করার চেষ্টা রাষ্ট্র ও সমাজ থেকে অবিরত করা হবে। তাহলে সবদেশেই পরিস্থিতি শান্ত থাকবে। কেউ কারো দিকে আঙুল তুলে অভিযোগ করতে পারবে না।

এ মুহূর্তে প্রিয়া সাহা নামক একজন নারীর কথা বাংলাদেশে তো বটেই পৃথিবীর অনেক দেশেই আলোচিত হচ্ছে। তবে তিনি আগে মানুষের কাছে খুব একটা পরিচিত ছিলেন না। এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে একটি তথ্য-উপাত্তহীন আজগুবি নালিশ জানানোর কারণে হঠাৎ তিনি সর্বত্র আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছেন। অনলাইনে শুধুই কেবল প্রিয়া সাহার নাম এবং নানা ধরনের পোস্ট। গণমাধ্যমে তার সম্পর্কে আলোচনা ও সংবাদের বিষয় প্রাধান্য পাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত তার বিষয়ে আইনানুগ প্রক্রিয়ার বাইরে না যাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে খোদ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদও প্রতিক্রিয়া জানাতে বাধ্য হয়েছে। প্রিয়া সাহা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য, অসমর্থনযোগ্য এবং বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্য বিব্রতকর একটি পরিস্থিতি তৈরি করেছেন। সে কারণে নিজের পরিচিতজনদের বাইরে গিয়ে তিনি এখন হঠাৎ করেই ‘পরিচিত’ হয়ে উঠেছেন। অথচ কেউই এই মানুষটিকে আগে খুব একটা চিনত না, জানত না, জানার মতো পরিচয়ও তার ছিল না। তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে অনুষ্ঠিত সভায় নিজের বাড়ি পুড়িয়ে দেয়া এবং দেশের ৩ কোটি ৭০ লাখ মানুষ নিখোঁজ হওয়ার যে অভিযোগ করেছেন সেটি কতটা দায়িত্বজ্ঞানহীন হয়েছে সেটি যে কোনো বিবেকবান মানুষই এক কথায় বলে দেবেন। আসলে প্রিয়া সাহা যদি নিজের কোনো স্বার্থকে মাথায় রেখে এমন একটি কথা বলেন তাহলে ভিন্ন কথা। নতুবা কোনো সাংগঠনিকভাবে অভিজ্ঞ নেতাকর্মী হলে এ ধরনের বক্তব্য অন্তত মার্কিন প্রেসিডেন্টের সামনে গিয়ে কেউ বলত বলে আমাদের মনে হয় না। তা ছাড়া তার সংগঠন ঐক্য পরিষদ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেয়া হয়েছে ওই সম্মেলনে সংগঠনের তিনজন প্রতিনিধি অংশ নিলেও তাকে সংগঠন থেকে প্রেরণ করা হয়নি। সুতরাং তার বক্তব্য কোনো অবস্থাতেই ঐক্য পরিষদের নয়, এটি সংগঠনের বিবৃতি থেকে স্পষ্ট হয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে, প্রিয়া সাহা সেখানে গেলেন কীভাবে। এটি তদন্তের বিষয়। সেই তদন্ত অবশ্যই সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর করবে না করছে। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার জন্য তিনি যে ভিসা পেয়েছেন- সেটি কি এই সম্মেলনে যাওয়ার উদ্দেশ্যে দেয়া, নাকি ব্যক্তিগতভাবে ভিসা সংগ্রহ করে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন। তারপরও প্রশ্ন থাকে যুক্তরাষ্ট্রের ওই প্রেসিডেন্টের ওই সম্মেলনে যাওয়ার আমন্ত্রণ তিনি কীভাবে পেলেন, কারা তাকে আমন্ত্রণ জানালেন? কেন জানালেন? ইত্যাদি প্রশ্ন এখন তার এই যাওয়া এবং বক্তব্যকে কেন্দ্র করেই উঠেছে, হয়তো সেগুলো সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর খুঁজে পাবেও।
আপাতত তার বক্তব্য নিয়ে সাধারণ মানুষ থেকে নীতিনির্ধারণী পর্যায় পর্যন্ত সবাই ক্ষুব্ধ এবং এমন অনাকাক্সিক্ষত বক্তব্য দেশে সৃষ্ট সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পরিবেশকে নষ্ট করার জন্য মহলবিশেষকে উসকে দেয়ার কলকাঠি নাড়ছে বলে রাজনীতি সচেতন মানুষ মনে করছে। বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সমস্যা নিয়ে কথা বলা যায় না এমন তো নয়। মাঝেমধ্যে দু-চারটি ঘটনা যখন মানুষের দৃষ্টিতে আসে তখন সেসব ঘটনা নিয়ে অসাম্প্রদায়িক মহল প্রয়োজনে নিন্দা জানান, কথা বলেন, লেখালেখি করেন এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিরও দাবি করে থাকেন। বাংলাদেশে মাঝেমধ্যে ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মন্দিরে প্রবেশ করে মূর্তি ভাঙার কিছু ঘটনার কথা শোনা যায়। সে সব ঘটনার পেছনে যারা জড়িত তাদের কেউ কেউ ধরাও পড়ে, শাস্তির মুখোমুখি হয়। আবার অনেকেই ধরা পড়ে না। সেসব নিয়ে সচেতন মহল কথা বলেন এবং দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য সরকারের কাছে দাবিও করে থাকেন। ২০০৯ সাল থেকে দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা করার জন্য সরকার দৃঢ়ভাবে তার অঙ্গীকার রক্ষার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। তারপরও অনাকাক্সিক্ষত কিছু ঘটনা কোনো কোনো অশুভ শক্তি রাতের আঁধারে ঘটনোর চেষ্টা করেই থাকে। সরকার যদি এক্ষেত্রে শৈথিল্য প্রদর্শন করত তাহলে অবস্থা কোন পর্যায়ে যেত সেটি ভাবতেও আমরা হয়তো এখন পারছি না। আমরা কিছুতেই অস্বীকার করব না যে আমাদের দেশে সাম্প্রদায়িক কোনো শক্তি নেই। তারা আছে, অনেকে ধর্মীয় বিশ্বাস থেকে এটিকে লালন করে আবার অনেকে স্বার্থ সিদ্ধির জন্য এই কাজে অংশ নিয়ে থাকে। আমাদের সমাজে নানা ধরনের মানুষ আছে, অপরাধীও আছে। যে কোনো নাগরিকের ধর্মীয় বিশ্বাস, প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তিগত সম্পত্তি রাখার অধিকার বাংলাদেশ রাষ্ট্রে সবাই সংরক্ষণ করেন। ধর্মীয় বিশ্বাস থেকে কেউ মুসলমান হতে পারেন, কেউ বৌদ্ধ হতে পারেন, কেউ খ্রিস্টান হতে পারেন, কেউ হিন্দু হতে পারেন বা অন্য যে কোনো ধর্মেরই হতে পারেন। কিন্তু বাংলাদেশের সংবিধান প্রতিটি নাগরিকের অধিকারের নিশ্চয়তা দিয়েছে। এর আইনগত ভিত্তি রয়েছে। অথচ এমন রাষ্ট্র রাজনীতি ও আইনের বিষয় কেউ কেউ উপেক্ষা করছে, মানছে না, অন্য ধর্ম হওয়ার কারণে তাকে হেয় করার মানসিকতা পোষণ করছে। অন্য ধর্ম সম্পর্কেও কেউ কেউ অনাকাক্সিক্ষত মন্তব্য করে থাকে, যা ধর্মীয় দৃষ্টিতেও সমর্থনযোগ্য নয়। প্রত্যেকের কাছেই তার নিজের ধর্ম মহৎ, শ্রেষ্ঠও। কিন্তু তাই বলে অন্য ধর্মকে হেয় করা যাবে না- এটি ধর্মীয়ভাবেই বলা আছে। তা ছাড়া ধর্মের ওপর কোনো ব্যক্তির নিজের কোনো ক্ষমতা নেই। যে ব্যক্তি যে ধর্মের পরিবারে জন্মগ্রহণ করে থাকে তিনি সেই ধর্মেরই অনুসারী হিসেবে সেই ধর্মের প্রকৃত নিয়মকানুন ও আদর্শ অনুসরণ করাই তার ধর্মের শিক্ষা। অন্য ধর্ম সম্পর্কে তার জ্ঞান রাখা ভালো। কিন্তু অন্য ধর্মকে হেয় করা কিংবা ধর্মানুসারীকে নিয়ে মনগড়া কথা বলা কোনো অবস্থাতেই বর্তমান যুগে কোনো রাষ্ট্র, সমাজ ও বিবেকবান মানুষ সমর্থন করে না। আমরাও তাই করছি। কিন্তু আমাদের দেশে সবাই এমন পর্যায়ে গিয়ে এখনো চিন্তা করতে পারছে না। যখন পারবে তখন প্রত্যেকেই আমরা যার যার ধর্ম বিশ্বাস, অধিকার এবং সম্পদ, রুটি-রুজি নিয়ে বসবাস করতে পারবে। এই বিশ্বাস থেকেই আমাদের রাষ্ট্র ব্যবস্থার সংবিধানের অন্যতম নীতি হচ্ছে ধর্মনিরপেক্ষতা তথা অসাম্প্রদায়িক চিন্তা-চেতনায় রাষ্ট্রের নাগরিককে বেড়ে ওঠার সুযোগ করে দেয়া। এটি পশ্চাৎপদ যে কোনো সমাজ থেকে গড়ে ওঠা আধুনিক কল্যাণধর্মী যে কোনো রাষ্ট্রের অত্যন্ত মহৎ একটি আদর্শ। রাষ্ট্র অনেকগুলো আদর্শকে বাস্তবায়ন করার জন্যই গঠিত হয়। সে সব আদর্শের মূল লক্ষ্যই থাকে মানুষের কল্যাণ করা, উন্নত জীবনযাপনে তার প্রয়োজনীয় অধিকার সংরক্ষণ করা। বঙ্গবন্ধু আমাদের যে রাষ্ট্রটি দিয়ে গেছেন তার সংবিধানটি এসব লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্যই তিনি দিয়ে গেছেন। আমাদের কাজ হচ্ছে আমাদের রাষ্ট্রের সেইসব আদর্শের বাস্তবায়ন ঘটানো। তাহলে বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকেই তার অধিকার নিয়ে বেঁচে থাকতে পারবে। তেমন পরিবেশ সৃষ্টি করা গেলেই রাষ্ট্র হয়ে ওঠে কল্যাণবাদী। আমরা এমন কোনো রাষ্ট্র চাই না যেখানে নাগরিককে নানা পরিচয়ে হেনস্থা করা হয়। তাহলে সেই নাগরিক হয় অসন্তুষ্ট হবে না হয় রাষ্ট্রকে তারা আপন মনে করে নিতে পারবে না। প্রতিটি কল্যাণবাদী রাষ্ট্র চায় তার প্রতিটি নাগরিককে সমানভাবে দেখা এবং সেই নিশ্চয়তা বিধান করা। যে রাষ্ট্র তা পারে না সেই রাষ্ট্র আধুনিক হতে পারে না, কল্যাণবাদীও নয়, এমনকি মানুষের পবিত্র ধর্মকেও রক্ষা করতে পারে না। তেমন রাষ্ট্রে হানাহানি লেগেই থাকে। আমাদের চোখের সম্মুখেই এখনো পৃথিবীতে অনেক রাষ্ট্র রয়েছে যেখানে হানাহানি, মারামারি, সম্পদ ধ্বংসের মতো তাণ্ডব প্রতিনিয়ত চলছেই। এমনকি একই সম্প্রদায়ের মধ্যেও চলছে নানা রক্তাক্ত পরিস্থিতি। এসবই হচ্ছে পশ্চাৎপদ চিন্তাধারা ও বিশ্বাসে পরিচালিত জনগোষ্ঠী এবং তাদের নেতৃত্বে পরিচালিত রাষ্ট্র ব্যবস্থার অবিমৃশ্যকারিতা। আমরা নিশ্চয় তেমন রাষ্ট্র চাইনি। চাইনি, এখনো চাচ্ছি না। আমরা চাই একটি সুখী, সমৃদ্ধ রাষ্ট্র ব্যবস্থা- যেখানে নাগরিক পরিচয়ে যে কোনো জাতি ধর্ম নির্বিশেষে যে কেউ রাষ্ট্রকে নিয়ে গর্ব করবে। কোনো অবস্থাতেই কোনো সম্প্রদায়ের অধিকারে আঘাত আনে এমন কোনো আচরণ আমরা চাই না। রাষ্ট্র সেই নিশ্চয়তা বিধান করবে, সেটাই হবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশ।
বর্তমান বিশ্ব বাস্তবতায় অনেক অগ্রগতি থাকা সত্ত্বেও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের নানা অপচেষ্টা অনেকেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে করে থাকে। আবার অনেকে তা ভালোভাবে বুঝতে পারে না। আমরা চাইব সব দেশেই সাম্প্রদায়িক হানাহানি বিদ্বেষ দূর করার চেষ্টা রাষ্ট্র ও সমাজ থেকে অবিরত করা হবে। তাহলে সবদেশেই পরিস্থিতি শান্ত থাকবে। কেউ কারো দিকে আঙুল তুলে অভিযোগ করতে পারবে না। সেই পরিবেশ হয়তো এখনো সর্বত্র হয়নি, তবে অনেক জায়গায় তেমন পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার সম্পর্ক রয়েছে। আমাদের এই উপমহাদেশে গত শতকে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা নিয়ে অনেক কিছু হয়েছে, রাষ্ট্রও হয়েছে। কিন্তু পুরোপুরি সাম্প্রদায়িকতা মুক্ত রাষ্ট্র ব্যবস্থা এখনো সর্বত্র কায়েম করা যায়নি। সাম্প্রদায়িক শক্তি এক রাষ্ট্রে শক্তিশালী হলে অন্য রাষ্ট্রে সেই শক্তির দিকে আঙুল দেখিয়ে নিজেদের অবস্থানকে শক্তিশালী করার চেষ্টা অনেকেই করে থাকেন। এটি মোটেও সমর্থনযোগ্য নয়।
প্রিয়া সাহা এমন একটি সময়ে যে অভিযোগগুলো নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কথা বললেন সেটি একেবারেই তার দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয় বহন করে। তিনি সম্যক সমস্যাটি নিয়ে যদি সচেতন হতেন তাহলে তিনি বিদ্যমান সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকে এগিয়ে নেয়ার পক্ষেই কাজ করতেন। কিন্তু তিনি তা না করে যা করলেন তাতে সাম্প্রদায়িক শক্তিই যেন মওকা পাওয়ার মতো সুযোগ পেয়েছে। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমরা এ মুহূর্তে তার বক্তব্যের দুই ধরনের প্রতিবাদ পাচ্ছি। একটি গঠনমূলক, যা সচেতন মহলকে আকৃষ্ট করে। অপরটি সাম্প্রদায়িকতাকে আরো বেশি উসকে দেয়। বুঝাই যায় সেই মহলটি যেন এটিকেই এই মুহূর্তের বিরাট বিষয় হিসেবে মানুষের সম্মুখে নিয়ে আসতে চায়- যেখানে ঢাকা পড়ে যাচ্ছে বন্যায় মানুষের দুর্ভোগের কথা, নানা সামাজিক সমস্যার কথা, গুজবে উত্তেজিত মানুষের আইন ভেঙে মানুষ মারার মতো ঘটনা ঘটনোর কথা। এ ছাড়া আরো অনেক জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে। যেগুলোকে চাপিয়ে একটি মহল দেশে সাম্প্রদায়িকতাকে নতুনভাবে জাগিয়ে তোলার চেষ্টা করছে। এতে বিপন্ন বোধ করবে সংখ্যালঘু বলে পরিচিতি সাধারণ মানুষজন। সেটি অবশ্যই আমাদের কাম্য হবে না।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে বার্তাটি দিয়েছেন সেটি রাষ্ট্র ও সরকারের বিজ্ঞচিত বলে আমরা মনে করি। সে পথেই রাষ্ট্রের হাঁটা উচিত। কেউ অন্যায় করে মোটেও আইনের ঊর্ধ্বে যাওয়ার হতে পারে না। প্রিয়া সাহাও নয়। তার বিচার রাষ্ট্রের আইনেই হওয়া উচিত। তিনি দেশে ফিরে আসবেন কিনা জানি না, তবে এলে তাকে অবশ্যই আত্মপক্ষ সমর্থনের মাধ্যমে বিচার প্রক্রিয়ায় যুক্ত হতেই হবে। এখানে তাকে ছাড় দেয়ার কোনো কারণ নেই। তবে এ কথা মনে রাখতে হবে তিনি যা বলেছেন তার ফলে বাংলাদেশের সবকিছু শেষ হয়ে গেছে এমনটি ভাবার কোনো কারণ নেই। বাংলাদেশ এত দুর্বল দেশ নয় যে একজন অখ্যাত প্রিয়া সাহার কথায় আমাদের এতখানি নিজেদের দুর্বল ভাবতে হবে। আমরা অনেক কিছুই অর্জন করেছি, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বিষয়টিও আমাদের অর্জনের তালিকায় আছে। কিন্তু এটিকে চূড়ান্ত পরিণতিতে নেয়াই হচ্ছে আমাদের মূল কাজ।

মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী : অধ্যাপক (অবসরপ্রাপ্ত), ইতিহাসবিদ ও কলাম লেখক।

  • আরও পড়ুন
  • লেখকের অন্যান্য লেখা