খালেদার রাজনৈতিক পতন জনরোষের প্রতিফলন: তথ্যমন্ত্রী

আগের সংবাদ

জামালপুরে বন্যার পানিতে ডুবে শিশুসহ ৫ জনের মৃত্যু

পরের সংবাদ

ডেঙ্গুর প্রকোপ

সতর্ক হোন, প্রতিরোধ করুন

প্রকাশিত হয়েছে: জুলাই ২১, ২০১৯ , ৯:০২ অপরাহ্ণ | আপডেট: জুলাই ২১, ২০১৯, ৯:০২ অপরাহ্ণ

অনলাইন প্রতিবেদক

রাজধানীতে ডেঙ্গু কতটা ব্যাপকতা ছড়িয়েছে আক্রান্তের সংখ্যা দেখলে অনুমান করা যায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বরাত দিয়ে ভোরের কাগজে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে ডেঙ্গুর ভয়াবহতার রূপও। এবার ডেঙ্গু হলে আগের মতো তীব্র জ্বর, মাথাব্যথা, গায়ে র‌্যাশ ও বমি বমি ভাব কোনোটাই দেখা যাচ্ছে না। সরাসরি রোগীর হার্ট, কিডনি ও ব্রেইন আক্রান্ত হচ্ছে। এমন পরিস্থিতি আমাদের জন্য উদ্বেগজনক। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যানুযায়ী, বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৫০ শতাংশ সাধারণ ও মারাত্মক ধরনের ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। বর্তমানে প্রতি বছর মারাত্মক ধরনের ডেঙ্গুজ্বরে কমপক্ষে ৫ লাখ মানুষ আক্রান্ত হন। প্রতি মিনিটে বিশ্বের কোথাও না কোথাও কেউ না কেউ ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। তাদের অধিকাংশই শিশু। আক্রান্তদের মধ্যে বছরে ২২ হাজার ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়। অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে চলতি মাসের গত ২০ দিনে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩ হাজার ৯৬০ জন। বেসরকারি হিসাবে মৃতের সংখ্যা ২২। তবে প্রকৃত মৃতের সংখ্যা কত তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলতে পারছেন না সংশ্লিষ্টরা। এর মধ্যে ৯ জন শিশু রয়েছে। ঝুঁকিতে আছেন নারীরাও। শিশুদের মতো প্রায় সমান হারে তারাও আক্রান্ত হচ্ছেন। রাজধানীর বাইরে দেশের অন্যান্য জনপদেও ডেঙ্গু আক্রান্তের খবর পাওয়া গেছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র যদিও রোগটি নিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন, কিন্তু আক্রান্তের এই হার আমাদের আতঙ্কিত না করে পারে না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন আক্রান্তদের হার্ট, কিডনি, লিভার ডেঙ্গুর কারণে স্বল্প সময়ে অকার্যকর হয়ে পড়ছে। যা আক্রান্ত রোগীকে মৃত্যুর দিকে ধাবিত করছে। এ ছাড়া এবার ডেঙ্গুর সেরোটাইপ আক্রান্ত ব্যক্তির মস্তিষ্কে আক্রমণ করছে। মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষে বা নিউরনে আক্রমণ করে মস্তিষ্কের তীব্র প্রদাহ বা এনক্যাফালাইটিস সৃষ্টি করে। উপযুক্ত সময়ে যথাযথ চিকিৎসা না পেলে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী মৃত্যুর দিকে ধাবিত হয়। ডেঙ্গু যেহেতু একটি ভাইরাসজনিত জ্বর, অন্যান্য অনেক ভাইরাস রোগের মতো সরাসরি এরও কোনো প্রতিষেধক নেই, টিকাও নেই। লক্ষণ অনুযায়ী চিকিৎসা দিয়ে এর মোকাবেলা করা হয়। আইইডিসিআরের তথ্য মতে, সাধারণত জুন-জুলাই থেকে শুরু করে অক্টোবর-নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে ডেঙ্গুর বিস্তার থাকে। তবে জুলাই-অক্টোবর পর্যন্ত পরিস্থিতি বেশি খারাপ থাকে। সাধারণত মশক নিধন কার্যক্রমের স্থবিরতা, গাইডলাইনের অভাব এবং মানুষের অসচেতনতাই ডেঙ্গুর প্রকোপের জন্য দায়ী। হঠাৎ থেমে থেমে স্বল্পমেয়াদি বৃষ্টিতে ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার লার্ভা খুব বেশি মাত্রায় প্রজনন সক্ষমতা পায়। ফলে এডিস মশার বিস্তারও ঘটে বেশি। এমতাবস্থায় রাজধানীর দুটি সিটি করপোরেশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির জন্য তাদের দায় নিতে হবে। মশা নিধনে ওষুধ ছিটানোতে গাফিলতিসহ মেয়াদোত্তীর্ণ অকার্যকর ওষুধের ব্যবহারের ফলে ওষুধ ছিটিয়েও লাভ হয়নি। করপোরেশন এলাকার বাইরেও স্থানীয় প্রশাসন ও দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ কাজে তৎপর হওয়া দরকার জরুরিভিত্তিতে। এ ছাড়া ডেঙ্গুর প্রতিরোধে জনসচেতনতা তৈরি, ডেঙ্গুর প্রাথমিক লক্ষণগুলো সম্পর্কে মানুষকে ওয়াকিবহাল করা, ডেঙ্গু হলে করণীয় সম্পর্কে প্রচার-প্রচারণা জোরদার করাও দরকার।

  • আরও পড়ুন
  • লেখকের অন্যান্য লেখা