তিন ফরম্যাটেই নেতৃত্বে কোহলি

আগের সংবাদ

ছুটিতে ধোনি

পরের সংবাদ

শিল্পী সংকট মেটাতে নতুন মুখ

প্রকাশিত হয়েছে: জুলাই ২১, ২০১৯ , ৩:০৬ অপরাহ্ণ | আপডেট: জুলাই ২১, ২০১৯, ৩:০৭ অপরাহ্ণ

Avatar

আশির দশকের শেষের দিকে, যখন পুরনো শিল্পীরা একঘেয়ে হয়ে উঠছিলেন, তখন দর্শকদের সিনেমা হলে ধরে রাখতে নতুন শিল্পীদের নিয়ে ছবি করার ধুম লেগেছিল। সেই জোয়ারে নাঈম, শাবনাজ, ওমর সানী, মৌসুমী, সালমান শাহ ও শাবনূরের মতো তারকার জন্ম হয়েছিল। একই প্রবাহে আসেন পপি, শাকিল খান, পূর্ণিমা, শাকিব খানরা। নতুনদের আগমনে সিনেমায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছিল। দীর্ঘদিন এই তারকাদের কাছ থেকে ইন্ডাস্ট্রি পেয়েছে হিট, সুপারহিট, দর্শকপ্রিয়, আলোচিত এমন নানা ধরনের ছবি। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে সিনেমায় নতুন তারকার আগমন থমকে গেছে। আগের মতো আর দর্শকধন্য তারকার আবির্ভাব হচ্ছে না। মুখচেনা কিছু তারকার কাছে সিনেমা হয়ে পড়েছে বন্দি। এজন্য ব্যবসায় পড়েছে মন্দাভাব। সেই মন্দা স্মরণকালের মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর। সিনেমা হলে হলে তালা পড়ছে। বাধ্য হয়ে প্রদর্শকরা ঝুঁকেছেন আমদানির দিকে। বিদেশ থেকে ছবি আমদানির সঙ্গে সঙ্গে আসছে শিল্পীও। দেশে শিল্পী সংকট প্রবল হওয়ায় কলকাতা থেকে শিল্পী এনে চাহিদা মেটানো হচ্ছে। তারপরও সংকট কাটছে না। দেশীয় তারকাদের প্রতি যেভাবে দর্শকরা দুর্বল থাকেন, সেরকম দুর্বলতা তারা ভিনদেশি তারকাদের প্রতি দেখাচ্ছেন না। ধরা যাক সিয়াম আহমেদ ও পূজা চেরীর কথা। ‘পোড়ামন-২’ ছবির মধ্য দিয়ে টিভি থেকে সিনেমায় সার্থক অবতরণ ঘটে সিয়ামের। গত বছর কিশোরী নায়িকা পূজার আত্মপ্রকাশ ঘটে ‘পোড়ামন’ ও ‘নূরজাহান’ ছবির মধ্য দিয়ে। তাকে দর্শকরা সাদরে গ্রহণ করেছেন। শিল্পী সংকটের মধ্যে এখন পূজার নাম উচ্চারিত হচ্ছে অন্যতম সমাধান হিসেবে। যে ব্যানার থেকে তিনি নিজের অভিষেক ঘটিয়েছেন, তার বাইরেও এখন অভিনয় পূজা চুটিয়ে অভিনয় করছেন। বাপ্পি চৌধুরী ও মাহিয়া মাহির আগমনের পরে যে হারে নতুনদের সাফল্য পাওয়ার কথা ছিল, তা না হওয়াতেই আজকের শিল্পী সংকট বলে সংশ্লিষ্টদের মত। গত কয়েক বছরে পরীমণি, নুসরাত ফারিয়া, নাবিলা, শবনম বুবলীসহ আরো কিছু মুখ আলোচনা এসেছেন। কিন্তু ইন্ডাস্ট্রির শিল্পী সংকটে এই কিছু তারকা মরুভূমিতে কয়েক ফোঁটা বৃষ্টির সমতুল্য। বিদ্যা সিনহা মিম, ইয়ামিন হক ববি, অপু বিশ্বাসরাও অভিনয় করছেন অনেকদিন ধরে। কিন্তু নতুন-পুরনোর মিশ্রণে অনেক নায়িকার মিছিলে ইন্ডাস্ট্রি সরব থাকলেও শিল্পী সংকটের কারণেই এফডিসি গত বছর নতুন শিল্পী খোঁজার কার্যক্রম শুরু করে। এফডিসির নতুন মুখের কার্যক্রম থেকে অতীতে বেরিয়ে এসেছে মান্না, দিতি, সোহেল চৌধুরী, অমিত হাসান, মিশা সওদাগরের মতো তারকারা। তারা লম্বা সময় ইন্ডাস্ট্রিতে দাপটের সঙ্গে অভিনয় করেছেন। সেই নতুন মুখের কার্যক্রম বন্ধ ছিল কয়েক যুগ। এর ফলে শিল্পী সংকট বেড়েছে। আগের মতো ব্যক্তি উদ্যোগেও নায়িকাদের অভিনয়ে সূচনার খবর সীমিত। আরিফিন শুভ, সাইমন সাদিক, বাপ্পি চৌধুরীরা শিল্পী সংকটে ভূমিকা রাখলেও দরকার আরো শিল্পী। দর্শকরা চান নতুন নতুন শিল্পী। নতুন নতুন ছবিতে নতুন নতুন শিল্পীদের বৈচিত্র্যময় অভিনয়ে চাঙ্গা হসে সিনেমা শিল্পী, এই স্বপ্নেই সিনেমাওয়ালারা বিভোর। কিন্তু ঢাকাই সিনেমায় কিছু শিল্পী বৃত্তের মধ্যে ঘুরপাক খেতে থাকেন বলেই যত গণ্ডগোল। ইন্ডাস্ট্রির শীর্ষ নায়ক শাকিব খান শিল্পী সংকট কাটাতে প্রথমে ঢুঁ মারেন টালিগঞ্জে। সেখান থেকে তার জন্য নায়িকা আনা হয় শ্রাবন্তী, শুভশ্রী, নুসরাত ও সায়ন্তিকাকে। দেশের মধ্যে থেকে শবনম বুবলীকে আবিষ্কার করেন শাকিব খান। এই নায়িকার সঙ্গে একঘেয়ে হয়ে যাওয়ার ভয়ে নায়ক এখন ঝুঁকেছেন নতুন মুখের দিকে। তার অভিনীত ‘শাহেন শাহ’ ছবিতে শাকিব খান প্রথমবারের মতো নুসরাত ফারিয়ার সঙ্গে অভিনয় করছেন। একই সঙ্গে তিনি নতুন নায়িকা রোদেলা জান্নাতকেও সুযোগ দিচ্ছেন প্রথমবার বড় পর্দায়। ‘শাহেন শাহ’ ঈদুল আজহায় মুক্তি পেতে পারে। রোদেলা ঝলসে ওঠার আগেই বুবলীর মতো আরেক নায়িকাকে নিয়ে অগ্নিপরীক্ষায় অবতীর্ণ হতে চাচ্ছেন কিং খান। এই নায়িকার নাম জাহারা মিতু। তিনি অভিনয় করবেন শাকিবের নতুন প্রযোজনায়। বদিউল আলম খোকন পরিচালিত ‘আগুন’ ছবিতেই শাকিবের বিপরীতে উত্তাপ ছড়াবেন মিতু। চলতি সপ্তাহে এফডিসিতে সাড়ম্বরে শুরু হচ্ছে ‘আগুন’র শুটিং। মিতুর ব্যাকগ্রাউন্ড দেখে অনেকেই মিতুর ব্যাপারে আশাবাদী। মেধাবী ছাত্রী ছিলেন মিতু। এসএসসি ও এইচএসসি দুটোতেই ছিল গোল্ডেন জিপিএ ৫। তারপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিন্যান্সে ভর্তি হয়েছিলেন। কিন্তু মন পড়ে ছিল ফ্যাশন ডিজাইনিংয়ে। তাই পরে বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন এন্ড টেকনোলজি থেকে অনার্স করেন। এরপর স্কলারশিপ নিয়ে চীন থেকে মাস্টার্স করে আসেন। ফিরে এসে ইসলাম গ্রুপের ডিজাইন এন্ড ডেভেলপমেন্ট বিভাগের প্রধান হিসেবে কাজ শুরু করেন। এরপর কোনো এক বান্ধবী মিতুকে না জানিয়ে সুন্দরী প্রতিযোগিতার জন্য রেজিস্ট্রেশন করে দিল। আর তারপর হঠাৎ বদলে গেল মিতুর জীবন। মিতু ‘সুপার মডেল বাংলাদেশ-২০১৭’ বিজয়ী। এরপর ভারতে অনুষ্ঠিত ‘সুপার মডেল ইন্টারন্যাশনাল-২০১৭’ এরও তিনি একজন ফাইনালিস্ট। তিনি একই বছর মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশের প্রথম আসরের প্রথম রানারআপ। সেই মঞ্চেই তিনি জিতেছিলেন ‘মিস ফ্যাশন আইকন’ ও ‘মিস ন্যাশনাল কস্টিউম’র খেতাব। মডেলিং ছাড়াও ৪০টির বেশি নাটক আর মিউজিক ভিডিওতে দেখা গেছে চট্টগ্রামের মেয়ে মিতুকে। বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ, বঙ্গমাতা অনূর্ধ্ব ১৯ নারী আন্তর্জাতিক গোল্ডকাপ, ট্রাই ন্যাশনাল সিরিজ, বিপিএল আর এবার বিশ্বকাপ ক্রিকেট বিটিভি ও ৫টি বেসরকারি টিভির জন্য এই সমস্ত খেলার অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেছেন তিনি। এত গুণের অধিকারী মিতু সিনেমার শিল্পী সংকটে কতটুকু ভূমিকা রাখতে পারবেন সেই পরীক্ষার ফল দেখতেই আগ্রহী ইন্ডাস্ট্রি।