ঢাবিতে ছাত্রলীগ নেতা গুলিবিদ্ধ

আগের সংবাদ

প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে দুই মামলা

পরের সংবাদ

দুই বলয়ের ঐক্য ধরে রাখাই জাপার বড় চ্যালেঞ্জ

প্রকাশিত হয়েছে: জুলাই ২১, ২০১৯ , ১১:৩৬ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: জুলাই ২১, ২০১৯, ১১:৩৬ পূর্বাহ্ণ

Avatar

সামরিক শাসক থেকে রাজনীতিবিদ হয়ে ওঠা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুর পর পরই তার জাতীয় পার্টি (জাপা) নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। একক কর্তৃত্ব, মেজাজ-মর্জি আর কারিশমায় ৩৬ বছর ধরে পরিচালিত পার্টির ভবিষ্যৎ নিয়ে চলছে হিসাব-নিকাশ। পাঁচটি রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে গড়া জাপা এখন সংসদে প্রধান বিরোধী দল। তিন দশকের উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে ক্ষমতার রাজনীতির ভারসাম্যে বড় নিয়ামক। এর ওপর বিএনপির নাজুক অবস্থায় জাপার ভবিষ্যৎকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন কেউ কেউ।
প্রতিষ্ঠাকালে ভিড় জমানো সেনা-কর্মকর্তা, আমলা, ব্যবসায়ী, ভাগ্যান্বেষী দলছুট রাজনীতিকরা সুবিধা করতে না পেরে কেউ পার্টি ছেড়েছেন। কেউ পার্টি ভেঙে একাংশের প্রধানও হয়েছেন। আর নানা বিতর্কের মধ্যেই রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে একাংশকে অনিবার্য করে তুলছিলেন এরশাদ। তবে জাপাকে ‘ওয়ানম্যান শো’ করায় এরশাদের সমকক্ষ কোনো নেতাই তৈরি হয়নি। তার মৃত্যুর পর পার্টির অস্তিত্ব রক্ষায় হাল ধরা নিয়ে তাই প্রশ্ন উঠছে।

নেতাকর্মীরা এরশাদের যে ছোটভাই ও স্ত্রীকে নিয়ে আগামীর ছক আঁকছেন তাদের মধ্যেও আছে দ্ব›দ্ব, টানাপোড়েন। রওশনপন্থি নেতারা সরকারের অংশ হিসেবে বিগত সংসদে দায়িত্ব পালন করেছেন। আর কাদেরকে ঘিরে থাকা নেতারা তাকে এরশাদের বিকল্প হিসেবে দেখছেন। এ দুই বলয়ের নেতাদের মধ্যে ঐক্য তৈরিই আগামীর বড় চ্যালেঞ্জ। চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পাওয়া জি এম কাদের এ ব্যাপারে সফল না হলে জাপার ভবিষ্যৎ অন্ধকারে ঢেকে যাবে। ইতোমধ্যে সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচন নিয়ে রওশনপন্থি ও কাদেরপন্থিরা মুখোমুখি।
অভিজ্ঞ মহলের ধারণা, জনগণ তথা তরুণ প্রজন্মকে কাছে টানার মতো গ্রহণযোগ্য কোনো নীতি-আদর্শ আজও সামনে আনতে পারেনি জাপা। এরশাদ ধর্মকে ব্যবহার করে ধর্মভিত্তিক রাজনীতির যেপথ রচনা করে গেছেন, তা নিয়ে বিতর্ক আছে। সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম সংযোজন, জুমার দিনে ছুটি, মসজিদ-মন্দিরের বিল মওকুফ, দাখিল-আলিমকে মূলধারার সমমান, এসএসসি পর্যন্ত ধর্মীয় শিক্ষা বাধ্যতামূলকসহ বহুমুখী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন এরশাদ। ধর্মভিত্তিক দলগুলো কৌত‚হলী হলেও এরশাদের অস্থিরতা, সকাল-বিকেল সিদ্ধান্ত বদলের কারণে আস্থা রাখতে বা রাজনৈতিক সম্পর্ক দৃঢ় করায় উদ্যোগী হয়নি।
আবার রাষ্ট্রপতি থাকাকালে এরশাদ যে আটরশী ও শর্শিনা দরবার শরিফে নিয়মিত যাতায়াত করতেন সেসব দরবারও ছিল বরাবরই বিতর্কিত। এমনকি দশম সংসদ নির্বাচনের আগে মহাজোটে ছাড়ার ঘোষণা দিয়েই এরশাদ হেফাজতের আমির আহমেদ শফির কাছে যে দোয়া চাইতে গিয়ে তাদের ১৩ দফা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছিলেন, তা নিয়ে তুমুল বির্তকের জন্ম দিয়েছিলেন। এরশাদের রাজনৈতিক আদর্শ নিয়ে ধোঁয়াশা থাকার প্রভাব পড়েছে তার পার্টির ওপর। এরশাদবিহীন জাপায় সুবিধা করতে না পারলে অনেক নেতাই পিঠটান দিতে পারেন।
পার্টির পরিচালনার জন্য নিজস্ব তহবিল, পার্টির চাঁদা আর দান থেকে বছরে প্রায় ৩ কোটির বেশি টাকার জোগান দিতে হতো এরশাদকে। তার মৃত্যুর পরে এ বিষয়টা নিয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা চলছে। এমনিতে মৃত্যুর আগেই সমস্ত স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ট্রাস্ট ও দান করে গেছেন এরশাদ। এ ঘটনার পর এরশাদের চিকিৎসায় অর্থ সংকটের কথা সংসদে প্রকাশ্যেই বলেছিলেন পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা। এমন পরিস্থিতিতে ভবিষ্যতে পার্টি পরিচালনার অর্থ সংস্থান নিয়ে অভ্যন্তরীণ সংকট তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, জাপার ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে ক্ষমতাসীন দলের প্রভাব থেকে বের হয়ে স্বাধীন ও প্রকৃত বিরোধীদলের ভূমিকা পালনের ওপর। নির্ভেজাল জি এম কাদের রাজনীতির জটিল-কুটিল পরিস্থিতি এরশাদের মতো কতটা সামাল দেবেন, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। তবে ‘গণধিক্কার’ নিয়ে ক্ষমতা থেকে ছিটকে পড়লেও জনপ্রিয়তায় এরশাদকে ধাক্কা খেতে হয়নি। ১৯৯১ সালে সংসদীয় গণতান্ত্রিক পদ্ধতির নির্বাচনে কারাগার থেকেই জিতেছিলেন ৫টি আসনে। তার পার্টি পেয়েছিল ৩৫টি আসন। পতিত স্বৈরশাসকের পার্টির ক্ষেত্রে বিরল এই ঘটনার পেছনে কারণ ছিল উত্তরবঙ্গে তার তুমুল জনপ্রিয়তা। অনেকেরই ভাষ্য, জাপার দেশি-বিদেশি অনেক লবিং আছে, যার সঙ্গে ক্ষমতা বলয়ের বিভিন্ন অংশও আছে। এসব কারণে জাপার ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনই শেষ কথা বলা যাবে না।
জানতে চাইলে প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, ঐক্যবদ্ধ থেকে ভবিষ্যতে পার্টিকে আরো শক্তিশালী করার সম্মিলিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। হতাশ হওয়ার কিছু নেই। প্রয়াত এরশাদের একান্ত সচিব মেজর (অব.) খালিদ আকতার মনে করেন, পার্টির ভবিষ্যৎ একান্তভাবেই নির্ভর করছে জি এম কাদেরের ব্যক্তিগত কারিশমার ওপর।