কুষ্টিয়ায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ১

আগের সংবাদ

প্রিয়া সাহাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

পরের সংবাদ

বন্যায় লোকসানের শঙ্কা কুরবানির গরুর পর্যাপ্ত মজুদ

প্রকাশিত: জুলাই ২০, ২০১৯ , ১২:১২ অপরাহ্ণ আপডেট: জুলাই ২০, ২০১৯ , ১২:১৭ অপরাহ্ণ

এবারো কুরবানির মূল ভরসা দেশীয় গরু। এমনিতে গোখাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় গরু প্রস্তুতির খরচ বেশি পড়ছে। ভারতীয় গরু আমদানি না হওয়ায় কুরবানিতে দেশি গরুই ভরসা এমন সম্ভাবনায় বাড়তি লাভের আশায় বুক বেঁধেছেন গৃহস্থ ও খামারিরা। তবে ঈদের এক মাসেরও কম সময় বাকি থাকতে বন্যার পদধ্বনিতে গৃহস্থ ও খামারিরা নায্য দাম পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. হিরেশ রঞ্জন ভৌমিক বলেন, চাষি ও খামারিরা পশুর দাম বেশি পাচ্ছেন। ফলে পশু পালনে বাংলাদেশে সফলতা এসেছে। সরকার এ বিষয়ে নানা সহযোগিতা দিচ্ছে। কুরবানির ঈদের জন্য বর্তমানে চাহিদার তুলনায় বেশি পশু মজুদ আছে। ভারত থেকে কুরবানির পশু আমদানির কোনো প্রয়োজন নেই। এখন আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণ। গত কুরবানির ঈদে প্রস্তুত থাকা ১০ লাখ পশু অবিক্রীত ছিল। আশা করা হচ্ছে, এবারো চাহিদার তুলনায় কুরবানির পশু অবিক্রীত থাকবে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর বলছে, এ বছর দেশীয় পশু দিয়ে কুরবানির চাহিদা মেটানো সম্ভব। কুরবানির জন্য এক কোটি ১৭ লাখ গরু, ছাগল এবং মহিষ প্রস্তুত। এর মধ্যে গবাদি পশুর সংখ্যা ৪৫ লাখ। গত কুরবানির ঈদে এক কোটি ১৫ লাখ পশু প্রস্তুত ছিল। কিন্তু কুরবানিতে পশু জবাই করা হয়েছিল এক কোটি পাঁচ লাখ। ১০ লাখ পশুর জোগান বেশি ছিল চাহিদা থেকে। সে হিসেবে এবারো বাইরের পশু ছাড়া চাহিদা মেটানো সম্ভব।
বাংলাদেশ গবাদি পশু ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মজিবুর রহমান বলেছেন, দেশে বড় গরু মজুদ থাকলেও ছোট গরু পর্যাপ্ত নেই। এতে অনেকে কুরবানি দিতে পারবেন না। তিনি বলেন, ভারত থেকে বৈধভাবে গরু আসার কোনো সম্ভাবনা নেই, অবৈধভাবে আসার পথও বন্ধ। বন্যার কারণে এখনই যেসব গরু বিক্রি হবে তা দৈনন্দিন বাজারে জবাই হবে। অনেক পাইকার এই সুযোগে গরু কিনে রাখবে।
জানা গেছে, কুরবানির ছয় মাস আগ থেকে প্রস্তুতি নেয়া শুরু করে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর। খামারিদের নানা ধরনের পরামর্শ ও কুরবানির পশুর স্বাস্থ্যগত সেবা দেয়া হয়। মাঠ পর্যায়ে মনিটরিংয়ের জন্যও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা নেমে পড়েছেন। কেউ যাতে কুরবানির পশু মোটাতাজাকরণে ওষুধ ব্যবহার না করেন, সে বিষয়েও পরামর্শ দিচ্ছে তারা। এর জন্য দল বেঁধে খামারে যাচ্ছেন কর্মকর্তারা।
এদিকে বাংলাদেশে মোট নিবন্ধিত খামার ৬৬ হাজার, অনিবন্ধিত ৭০ হাজার। সবমিলে খামারের সংখ্যা এক লাখ ৩৬ হাজার। এসব খামার থেকে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের হাতে এসে পৌঁছে গেছে কুরবানির পশুর তথ্য। এবার গবাদি পশু (গরু ও মহিষ) প্রস্তুত ৪৫ লাখ। ছাগল ও ভেড়া প্রস্তুত ৭২ লাখ। সবমিলে এক কোটি ১৭ লাখ পশু কুরবানির জন্য প্রস্তুত। সর্বোচ্চ এক কোটি ১০ লাখ পশু কুরবানি হতে পারে বলে ধারণা। ফলে এবারও সাত লাখ পশু অবিক্রিত থেকে যেতে পারে।
অন্যদিকে ভারতীয় গরু আমদানি বন্ধ থাকলেও অবৈধভাবে চোরাইপথে যা আসছে তা দৈনন্দিন চাহিদায় কাজে লাগছে। ঈদের কয়েকদিন আগে সীমান্ত পথে গরু আসবে এমন ধারণা থাকলেও ঈদের বাজার দাম কমাতে তা প্রভাব ফেলবে না।
খামারিদের দাবি, গত ঈদের চেয়ে এবার গোখাদ্যের দাম চড়া, তারপরও একটু লাভের আশায় খাদ্যের জোগান দিয়ে কুরবানির গরু প্রস্তুত করেছেন খামারিরা। এই লাভ পাবেন বলে বেশ আশাও করছেন তারা। যদি বিদেশ থেকে কুরবানির পশু দেশে না প্রবেশ করে, তাহলে তাদের সেই কাক্সিক্ষত লাভ হাতে আসবে।
দেশ এগ্রোর মালিক চিত্রাভিনেতা মনোয়ার হোসেন ডিপজল বলেন, ভারতীয় গরু আসলে দেশি খামারিরা লোকসানের শিকার হয়। বাড়তি লাভের আশায় খামারিরা গরু পালন করেন, কাক্সিক্ষত দাম না পেলে তারা আগ্রহ হারায়। নিজের খামারে ৫০টি গরু রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগামী বছর আরো বেশি গরু তিনি কুরবানির জন্য প্রস্তুত করবেন।
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের খামার সাদিক এগ্রো লিমিটেডে কুরবানির জন্য প্রস্তুত হয়েছে ১৫০০ পশু। চড়া দামে গো খাদ্য কিনে এসব পশু পালন করা হয়েছে। সাদিক এগ্রোর মালিক ইমরান হোসেন বলেন, ছয় মাস আগে এক বস্তা (৩৭ কেজি) ভুসি ছিল ৮০০ টাকা। সেটার দাম এখন ১৪০০। এবার গরু পালনে খরচ বেশি। তারপরও লাভের আশা করছি। তবে সেটা বাইরে থেকে গরু না এলে পাব। আমরা চাই, বিদেশ থেকে যেন কোনো গরু দেশে না প্রবেশ করে।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর ও ভারত আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য দিয়ে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র বলছে, বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল এবং সংলগ্ন ভারতের সিকিম, পশ্চিমবঙ্গের উওরাঞ্চল, আসাম ও মেঘালয় প্রদেশের বিস্তৃত এলাকায় আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় মাঝারি থেকে ভারি এবং কোথাও কোথাও অতিভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এতে চট্টগ্রাম, সিলেট ও রংপুর বিভাগের সুরমা, কুশিয়ারা, কংস, সোমেশ্বরী, ফেনী, হালদা, মাতামুহুরী, সাঙ্গু, ধরলাসহ প্রধান নদীগুলোর পানি সমতলে দ্রুত বেড়ে নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, সিলেট, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, জামালপুর ও গাইবান্ধা জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। যা কৃষক, গৃহস্থ ও গরু খামারিদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়