গল্প জাদুকর হুমায়ূন আহমেদের সপ্তম প্রয়াণ দিবস আজ

আগের সংবাদ

চট্টগ্রামে কাল বিএনপির সমাবেশ

পরের সংবাদ

ভোগান্তির সঙ্গে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে আর্থিক কর্মকাণ্ড

চট্টগ্রামে ভয়াবহ জানজট

প্রীতম দাশ, চট্টগ্রাম অফিস :

প্রকাশিত হয়েছে: জুলাই ১৯, ২০১৯ , ১২:৫৮ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম বন্দর ও বিমানবন্দর সড়কে গত কয়েক দিন ধরে নজিরবিহীন ভয়াবহ যানজট নগরীর অন্যতম সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই যানজটের ফলে একদিকে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন অন্যদিকে বিমানবন্দরগামী বিভিন্ন ফ্লাইটের অনেক যাত্রী সময়মতো তাদের ফ্লাইট ধরতে পারছেন না। নাগরিক ভোগান্তি তো আছেই। এই সড়কে ৩০ মিনিটের পথ পাড়ি দিতে সময় লাগছে চার ঘণ্টা। সড়কটির বড় অংশ দখল করে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণকাজ, প্রধান সড়ক দখল করে ইচ্ছেমতো গাড়ি রাখা এবং জলাবদ্ধতার কারণে সড়কে সৃষ্ট খানাখন্দই যানজটের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
ভয়াবহ যানজটের এই পরিস্থিতিতে পণ্য পরিবহনে ব্যাঘাত সৃষ্টি হওয়ায় চট্টগ্রাম চেম্বার, মেট্রোপলিটন চেম্বার, বিজিএমইএসহ চট্টগ্রামের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ীরা গত কয়েকদিন ধরে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা জানিয়ে আসছেন। বিজিএমইএর তৈরি পোশাক সময়মতো বন্দরে ঢুকতে না পারলে তাদের রপ্তানি আদেশ বাতিলসহ বিপুল আর্থিক ক্ষতির শিকার হওয়ার শঙ্কা থাকে। অন্যদিকে বন্দর থেকে খালাসকৃত বিভিন্ন আমদানি পণ্য এবং বিভিন্ন কারখানার কাঁচামাল সময়মতো গন্তব্যে না যাওয়ার পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা তাদের উৎপাদন ও বিপণন বিঘ্নিত হবে বলেও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
চট্টগ্রাম বন্দর ও বিমানবন্দরমুখী যান চলাচলের একমাত্র সড়ক ও পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতমুখী সড়কের এই যানজট কাঠগড়, সিমেন্ট ক্রসিং, ইপিজেড মোড়, কাস্টমস মোড়, নিমতলা, বারিক বিল্ডিং, আগ্রাবাদ মোড় হয়ে জিইসি মোড় পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। এই যানজটের প্রভাব পড়েছে পুরো নগরীতেই। ভয়াবহ যানজটের কবলে পড়ে গত কয়েকদিনে বেশ কয়েকজন বিমানযাত্রী বিশেষ করে হজযাত্রীরা ফ্লাইট মিস করছেন। এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে কর্মরত বাংলাদেশ বিমানের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক আরিফুজ্জামান খান বলেন, ‘বিমান প্রস্তুত থাকলেও শহর থেকে হজযাত্রীরা নির্ধারিত সময়ে বিমানবন্দরে পৌঁছাতে না পারায় ফ্লাইট দুই ঘণ্টা দেরিতে ছেড়েছে। এরপরও অনেক যাত্রী নির্ধারিত ফ্লাইট ধরতে পারেননি।’ বিদেশগামী কয়েকজন যাত্রী বলেন, ‘বিমানবন্দরমুখী গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি খানাখন্দে ভরপুর। সিমেন্টক্রসিং এলাকায় সামান্য পানি হলে যানজট তৈরি হয়। বিমানবন্দরগামী অন্য রোডে চলছে ফ্লাইওভার নির্মাণের কাজ। এসব নির্মাণ করার আগে কীভাবে মানুষ নির্বিঘ্নে যাতায়াত করবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তার সমাধানের উদ্যোগ নেয়া উচিত।’
গত কয়েকদিনের যানজটের কারণে বন্দরে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ থাকায় আর্থিক কর্মকাণ্ড বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জানিয়ে চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, অতি বৃষ্টি, যানজট, জলজট ইত্যাদি কারণে যে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে তাতে ব্যবসায়ীরা অত্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বিমানবন্দর থেকে মূল শহর পর্যন্ত মাত্র ১৫ কি.মি. রাস্তা পার হতে প্রায় ৪ ঘণ্টা সময় লাগছে ফলে অনেক বিদেশি ক্রেতা কার্যাদেশ না দিয়ে ফিরে যাচ্ছেন এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। এ ধরনের পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ এবং বন্দরের গতিশীলতা বজায় রাখতে নগরীর ওপর চাপ কমিয়ে অতিসত্তর বে-টার্মিনাল এলাকায় ডেলিভারি ইয়ার্ড
ও ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণ ফাস্টট্র্যাক প্রকল্প হিসেবে বাস্তবায়নের দাবি জানান চেম্বার সভাপতি। ফ্লাইওভার নির্মাণ কাজের জন্য যানজট সৃষ্টি হচ্ছে উল্লেখ করে চেম্বার সহ-সভাপতি তরফদার মো. রুহুল আমিন অতি দ্রুত অর্থনীতির লাইফলাইনখ্যাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের বিকল্প ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানান।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ-সিএমপির বন্দর এলাকার সহকারী কমিশনার (ট্রাফিক) মোশাররফ হোসেন সব ধরনের উন্নয়ন প্রকল্প ও সংস্কার কাজ পরিকল্পিত উপায়ে করার প্রতি গুরুত্বারোপ করে বলেন, বিশেষ করে বারিক বিল্ডিং থেকে এয়োরপোর্ট পর্যন্ত একমাত্র সড়কে নির্মাণাধীন ফ্লাইওভারের কাজ চলায় এই যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। বিদ্যমান সড়কের সম্প্রসারণের মাধ্যমে এবং বিকল্প সড়ক হিসেবে কাটগড়, র‌্যাব-৭ সংলগ্ন এলাকা, ইপিজেড, হালিশহর-বড়পোল ও জহুর আহমদ স্টেডিয়াম সংলগ্ন সংযোগ সড়কসহ রিং রোডের কাজ দ্রুত শেষ করতে পারলে এই যানজট নিরসন সম্ভব। এছাড়া সিডিউল অনুযায়ী ক্রম অনুসারে ট্রাক, প্রাইম মুভার বন্দরে প্রবেশের ব্যবস্থা গ্রহণ করলে এবং সড়কে কোন খালি গাড়ি অপেক্ষমাণ না থাকলে যানজটের হার অনেকাংশে হ্রাস পাবে বলে তিনি মনে করেন।
কয়েকদিনের তীব্র যানজটে আমদানি-রপ্তানি পণ্য পরিবহনে ব্যাঘাত হচ্ছে উল্লেখ করে শিল্প-বাণিজ্য নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বার সভাপতি খলিলুর রহমান বলেন, এ অবস্থা চলতে থাকলে আমদানি পণ্য যথাসময়ে শিল্পাঞ্চলে না পৌঁছালে উৎপাদন ব্যাহত হবে। অন্যদিকে রপ্তানি পণ্য বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্পের কনটেইনার নির্ধারিত সময়ে জাহাজীকরণ সম্ভব না হলে বিদেশি ক্রেতা অর্ডার বাতিল করতে পারে। উভয় ক্ষেত্রেই দীর্ঘ যানজটের কারণে বন্দরমুখী পণ্য যাওয়া এবং বন্দর থেকে খালাস করা পণ্য অফডক কিংবা শিল্পাঞ্চলে চলাচল ব্যাহত হলে আমদানি রপ্তানি বাণিজ্য বড় ক্ষতির সম্মুখীন হবে।