জাপার চেয়ারম্যান জি এম কাদের

আগের সংবাদ

কর ফাঁকি রোধে সফটওয়্যার ও অ্যাপ আনছে এনবিআর

পরের সংবাদ

গুগল-ফেসবুক-ইউটিউব থেকে ভ্যাট আদায় নিয়ে ধোঁয়াশা

প্রকাশিত হয়েছে: জুলাই ১৮, ২০১৯ , ২:৩৫ অপরাহ্ণ | আপডেট: জুলাই ১৮, ২০১৯, ২:৩৫ অপরাহ্ণ

Avatar

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউব ও গুগল থেকে কী উপায়ে ভ্যাট আদায় হবে তা নিয়ে এ খাত সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ধোঁয়াশা দেখা দিয়েছে। যারা এসব ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে বিজ্ঞাপন দিয়ে থাকেন তারা এখনো জানেন না ঠিক কী উপায়ে বা পদ্ধতিতে তাদের ভ্যাট দিতে হবে। যদিও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বলছে সরকারকে ভ্যাট দেয়ার জন্য ‘ভ্যাট এজেন্ট’ নিয়োগ দিতে পারবে এসব কোম্পানি। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো ভ্যাট নিবন্ধনও নিতে পারবে।
এনবিআরের কর্মকর্তারা বলছেন, অফিস চালু না করলে ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউব ও গুগল ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ভ্যাট আদায় করা বেশ জটিল। তবে শুরু হিসেবে সংশ্লিষ্টরা বিষয়টিকে ইতিবাচক অর্থেই দেখছেন। ভ্যাট এজেন্ট নিয়োগ বিষয়টিকে সহজ করবে বলে তারা মনে করেন। গুগল-ফেসবুক-ইউটিউব হাজার কোটি টাকা এ দেশ থেকে নিয়ে গেলেও সরকারকে কোনো কর দেয় না। এ দেশে নিবন্ধিত না হওয়ায় বা কোনো অফিস না থাকায়, তাদের করের আওতায় আনতে পারেনি সরকার। বৈধ চ্যানেল না থাকার কারণে ঠিক কী পরিমাণ অর্থ প্রতি বছর দেশের বাইরে চলে যায়, তার কোনো সঠিক পরিসংখ্যানও পাওয়া যায় না সরকার, তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এমনকি তথ্যপ্রযুক্তি সংগঠনগুলোর কাছেও। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, বিজ্ঞাপন খাত ও বুস্টিংয়ের মাধ্যমে হাজার কোটি টাকার বেশি দেশের বাইরে চলে যায়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সদস্য মিফতাহ উদ্দিন খান বলেন, আমাদের ফরেনসিক ল্যাবরেটরি আছে। যুক্তরাজ্য সরকারের উন্নয়ন সংস্থা ডিএফআইডি সেই ল্যাব বছর পাঁচেক আগে তৈরি করে দিয়েছে। আমাদের অনেক কর্মকর্তা এই ল্যাব পরিচালনার জন্য প্রশিক্ষণ নিয়ে এসেছেন। ফলে আমরা এখন এই ল্যাব পরিচালনার জন্য প্রশিক্ষিত। আমরা গুগল, ফেসবুক, ইউটিউবসহ এ জাতীয় সব মাধ্যমকে মনিটর এবং ট্র্যাক করতে পারব। কোথায় কী হচ্ছে, কী লেনদেন হচ্ছে, কোথায় বিজ্ঞাপন যাচ্ছে তা বের করতে আমাদের এখন আর খুব বেশি কষ্ট করতে হবে না। প্রসঙ্গত, এবারের বাজেটে (২০১৯-২০ অর্থবছরে) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত বিজ্ঞাপনের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ফেসবুক, ইউটিউব, গুগলসহ সমজাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভ্যাট নিবন্ধনের নির্দেশ দিয়েছে। সামাজিক গণমাধ্যমবিষয়ক গবেষক ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক প্রতিষ্ঠান প্রেনিউর ল্যাবের প্রধান নির্বাহী আরিফ নিজামী বলেন, ভ্যাট আরোপ করে যতটা পাওয়া যায়, ততটাই লাভজনক। তবে এভাবে কতটা আদায় করা যাবে, সে বিষয়টা সময়ের ওপরই ছেড়ে দেন তিনি। আরিফ নিজাম বলেন, প্রাতিষ্ঠানিকভাবে যেগুলো হয়, সেসব হয়তো চিহ্নিত করা যাবে, কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে যেগুলো হয়, সেগুলো তো ধরা কঠিন হবে। অনলাইনে বিশেষ করে ফেসবুকে ডলার কেনাবেচা হয়, ব্যবসা হচ্ছে (ফরেক্স ট্রেড)। এসব থেকে পেমেন্ট দেয়া হলে তা চিহ্নিত করা যাবে না। আরিফ নিজামী এই বাজারকে গ্রে মার্কেট অভিহিত করে বলেন, এই মার্কেট নিয়ন্ত্রিত নয়, অনিয়ন্ত্রিত। ফলে বিষয়টির নিয়ন্ত্রণ বেশ কঠিনই হবে। ভ্যাট এজেন্ট বিষয়ে তিনি বলেন, আমি যতদূর জানি, ভ্যাট এজেন্ট নিয়োগ দেয়া যায়। ভারতেও এমনটা আছে। এ প্রক্রিয়ায় বিজ্ঞাপনদাতাদের খরচ বাড়বে, ফলে বিষয়টি নিয়ে আরো লুকোচুরি হবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
নাম ও পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি ডিজিটাল বিজ্ঞাপনী সংস্থার শীর্ষ নির্বাহী বলেন, আমরা গুগল, ফেসবুকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন প্রকাশের ব্যবস্থা করি। বিনিময়ে কমিশন পেয়ে থাকি। চুক্তি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিল তৈরির সময় হয়তো এখন থেকে ভ্যাট যুক্ত করে বিল তৈরি করতে হবে। তবে তিনি এখনো নিশ্চিত নন, পুরো প্রক্রিয়াটি কীভাবে সম্পন্ন হবে। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, এখনো তিনি জানেন না গুগল, ফেসবুক, ইউটিউবের ভ্যাট কীভাবে ধরা হবে, জমা দিতে হবে কোথায়, কমিশনের ওপর কোনো ভ্যাট আরোপ করা হবে কিনা ইত্যকার বিষয়।
এখন পর্যন্ত এসব প্রতিষ্ঠান কোনো ভ্যাট এজেন্ট নিয়োগ করেনি বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এ দেশে এফএম কনসাল্টিং ইন্টারন্যাশনাল নামের একটি প্রতিষ্ঠান ভ্যাট এজেন্ট হিসেবে কাজ করছে। তবে ফেসবুক, গুগল বা ইউটিউবের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো ভ্যাট এজেন্ট হিসেবে এফএম কনসাল্টিং ইন্টারন্যাশনাল বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ দিয়েছে বলে জানা যায়নি।