বৈদেশিক বাণিজ্যের তিন খাতেই স্থবিরতা

আগের সংবাদ

ইবোলার প্রাদুর্ভাবকে 'বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা' ঘোষণা

পরের সংবাদ

কুলভূষণের মৃত্যুদণ্ড পাকিস্তানকে পুনর্বিবেচনা করতে হবে : আন্তর্জাতিক আদালত

প্রকাশিত হয়েছে: জুলাই ১৮, ২০১৯ , ১:০৪ অপরাহ্ণ | আপডেট: জুলাই ১৮, ২০১৯, ১:০৪ অপরাহ্ণ

Avatar

ভারতের প্রাক্তন নৌসেনা কুলভূষণ যাদবকে দেওয়া মৃত্যুদণ্ড পাকিস্তানকে পুনর্বিবেচনা করতে বলেছে ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিস। একই সাথে প্রাক্তন নৌসেনা আধিকারিককে কূটনীতিকদের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি দিয়েছে তারা।

হেগের এই আদালতের ১৬ বিচারকের প্যানেল বুধবার সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারকের মতামতের ভিত্তিতে এই রায় ঘোষণা করে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।

ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিস বলেছে, কুলভূষণ যাদবের মৃত্যুদণ্ড “ততক্ষণ পর্যন্ত স্থগিত থাকবে, যতক্ষণ পর্যন্ত না, পাকিস্তান তাদের রায়,পুনর্বার খতিয়ে দেখা এবং পুনর্বিবেচনা করবে”। ভারতের অভিযোগের সঙ্গে একমত হয়ে আন্তর্জাতিক আদালত জানায়, সামরিক আদালতে সাজাপ্রাপ্ত নৌসেনা আধিকারিককে কূটনীতিকদের সঙ্গে কথা বলতে না দিয়ে ভিয়েনা চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করেছে পাকিস্তান।

হেগের আন্তর্জাতিক আদালতে রায়দানের সময় আদালত আরও বলে, তাঁর অধিকার সম্পর্কে কুলভূষণ যাদবকে জানায়নি পাকিস্তান।

রাষ্ট্রসংঘের আদালত বলে, “কুলভূষণ সুধীর যাদবের সঙ্গে যোগাযোগ করা, আটক আবস্থায় তাঁর সঙ্গে দেখা করা এবং তাঁর জন্য আইনি পদক্ষেপ করার অধিকার থেকে ভারতকে বঞ্ছিত করেছে পাকিস্তান”।

মোট ১৬ জনের রায়ের মধ্যে ৫ জনের রায়ই ভারতের পক্ষে যায়। মাত্র একজন বিচারপতি ছিলেন পাকিস্তানের। এমনকী, চিনের বিচারপতিও ভারতের পক্ষেই রায় দেন, যা ইসালামাবাদের কাছে যথেষ্ঠ তাৎপর্যপূর্ণ।

এই রায়কে “পরিপূর্ণ জয়” বলে মন্তব্য করেছেন ভারত। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেন, “কুলভূষণ যাদবকে কনস্যুলার অ্যাক্সেস দেওয়ার জন্য পাকিস্তানকে নির্দেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক আদালত। কোনও সন্দেহ নেই, এটা ভারতের বিশাল জয়”।

ভারতীয় নৌবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কুলভূষণকে ২০১৬ সালের মার্চ মাসে গ্রেপ্তার করে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী। বেলুচিস্তানে বিচ্ছিন্নতাবাদী বিদ্রোহে মদদ দেওয়া এবং ভারতের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ আনা হয় তার বিরুদ্ধে।
অন্যদিকে ভারত দাবি করে, কুলভূষণ তার ব্যবসার কাজে ইরানে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে তাকে অপহরণ করে পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং মিথ্যা অভিযোগে তাকে ফাঁসানো হচ্ছে।

পাকিস্তানের সামরিক আদালত ২০১৭ সালের এপ্রিলে কুলভূষণকে মৃত্যুদণ্ড দিলে এই রায় কে চ্যালেঞ্জ করে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করে ভারত। আন্তর্জাতিক আদালতে ভারতের তরফে, কুলভূষণের মৃত্যুদণ্ড স্থগিত এবং ভারতের যাতে তিনি হাইকমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন, সেই রায় দেওয়ার আর্জি জানানো হয়।