গুগল-ফেসবুক-ইউটিউব থেকে ভ্যাট আদায় নিয়ে ধোঁয়াশা

আগের সংবাদ

স্বেচ্ছাবসর নয় তো বাদ!

পরের সংবাদ

কর ফাঁকি রোধে সফটওয়্যার ও অ্যাপ আনছে এনবিআর

প্রকাশিত হয়েছে: জুলাই ১৮, ২০১৯ , ২:৪২ অপরাহ্ণ | আপডেট: জুলাই ১৮, ২০১৯, ২:৪২ অপরাহ্ণ

Avatar

রাজস্ব ফাঁকি প্রতিরোধ ও করদাতার সংখ্যা বাড়াতে সফটওয়্যার এবং মোবাইল অ্যাপ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। আর এই উদ্যোগ দুটি বাস্তবায়ন হলে রাজস্ব প্রশাসনে গতি আসবে এবং করজালের বাইরে থাকা বিপুলসংখ্যক মানুষকে এক প্লাটফর্মে নিয়ে আসা যাবে বলে ধারণা সংস্থাটির।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সূত্রে জানা যায়, আয়কর অধ্যাদেশ আইন ১৮৪ (সি) উপ-ধারায় কোনো ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান বা সেবা প্রদানে নিয়োজিত ব্যক্তির কর শনাক্তকরণ নম্বরের (আইএন) সনদ নিজ দপ্তরে ঝুলিয়ে রাখা বাধ্যতামূলক। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা করা হয় না। ফলে আইএন সনদ সবার আছে কিনা সেটা নিয়েও ধোঁয়াশা রয়েছে। সেজন্য এই বিধান পরিবর্তন করে কর পরিশোধ সনদ ঝুলিয়ে রাখার নিয়ম চালুরও চিন্তা করছে এনবিআর।
অপরদিকে সফটওয়্যারের মাধ্যমে আয়কর বিভাগের ৬৪৯টি কর অঞ্চলকে মোবাইল অ্যাপের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। এই অ্যাপ ব্যবহার করে যে কেউ অথবা যে কোনো ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান বা সেবা প্রদানে নিয়োজিত ব্যক্তির কর পরিশোধ সনদ বৈধ কিংবা কার্যকর বা মেয়াদোত্তীর্ণ কিনা তা যাচাই করতে পারবেন মুহূর্তে। এমনকি কার্যকর না হলে এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট করাঞ্চলে অভিযোগও করা যাবে। এনবিআর আরও বলছে, মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে যখন কোনো ক্রেতা ব্যবসায়ী কর দিয়েছেন কিনা সেটা যাচাই করতে যাবেন তখন ব্যবসায়ীরাও কর পরিশোধে সচেষ্ট হবেন। ফলে রাজস্ব আহরণ বাড়বে এবং কর ফাঁকি রোধ সম্ভব হবে। এ কারণেই এনবিআর ওয়েবভিত্তিক নিজস্ব সফটওয়্যার ও মোবাইল অ্যাপ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে।
তবে এনবিআর বলছে, যে অ্যাপ তৈরি করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে তাতে শুধু কর পরিশোধ সনদ যাচাইয়ের সুযোগ থাকবে। কেননা কোনো ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান বা বাণিজ্যিকভিত্তিতে নিয়োজিত চিকিৎসক, প্রকৌশলী, আইনজীবীসহ অন্যান্য পেশায় যারা আছেন তারা নিয়মিত কর পরিশোধ না করলে কর সনদ এমনিতেই বাতিল হয়ে যায়। সুতরাং অকার্যকর সনদ মানেই তিনি কর পরিশোধ করেননি। তাই এর চেয়ে বাড়তি তথ্য অ্যাপে দেয়ার প্রয়োজন নেই বলে মনে করছে সংস্থাটি। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, ওয়েবভিত্তিক নিজস্ব সফটওয়্যার এবং মোবাইল অ্যাপ তৈরির উদ্যোগকে আমি স্বাগত জানাই। তবে এর সুফল অ্যাপটি পুরোপুরি চালু হলে। তারপরও একটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে যে, এনবিআর যে প্রযুক্তিকে ব্যবহার করছে সেটার যেন মিসইউজ না হয়। এ বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভ‚ঁইয়া বলেন, বর্তমানে দেশে ইটিআইএনধারীর সংখ্যা প্রায় ৪০ লাখ। কিন্তু এর মধ্যে আয়কর বিবরণী (রিটার্ন) দাখিল করেন মাত্র ২০ লাখ। এটা কখনো আশা করা যায় না। একটি দেশের উন্নয়ন নির্ভর করে সেই দেশের রাজস্ব আহরণের ওপর। তাই রাজস্ব বাড়াতে আমরা এই অ্যাপ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছি। এতে কর ফাঁকি অনেকাংশে কমে আসবে। এ ছাড়া রিটার্ন দাখিলকারীর সংখ্যাও বাড়বে। আগামী ২ বছরের মধ্যে দেশে করদাতার সংখ্যা ১ কোটিতে উন্নীত করার চেষ্টা করছি।
তিনি আরও বলেন, করদাতার সংখ্যা বাড়াতে কর জরিপ শুরু হয়েছে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে কর জরিপ চলছে। এজন্য আমরা অনলাইন কর ব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে কর ফাঁকি রোধ করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। এখন প্রযুক্তির সময়। তাই প্রযুক্তিতে যত সমৃদ্ধ হওয়া যায় ততই রাজস্ব প্রশাসনে গতি আসবে। বিশ্বের সব দেশ প্রযুক্তিকে প্রাধান্য দিয়ে কাজ করছে। সেখানে আমাদের পিছিয়ে থাকা যাবে না।