রাজধানীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু

আগের সংবাদ

জিজ্ঞাসাবাদের জন্য জেলা পুলিশ কার্যালয়ে মিন্নি

পরের সংবাদ

রংপুরের পথে এরশাদের মরদেহ

প্রকাশিত হয়েছে: জুলাই ১৬, ২০১৯ , ১১:৩৩ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: জুলাই ১৬, ২০১৯, ১১:৩৩ পূর্বাহ্ণ

Avatar

জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মরদেহ আজ মঙ্গলবার রংপুরে আনা হবে। বেলা ১১টায় এরশাদের মরদেহ বহনকারী হেলিকপ্টার রংপুর সেনানিবাসের হ্যালিপ্যাডে অবতরণ করার কথা রয়েছে। সেখান থেকে তার মরদেহ নেয়া হবে রংপুর কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে। সেখানে সর্বস্তরের মানুষ তার কফিনে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন এবং তাকে শেষ দর্শন করবেন। বাদ জোহর তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

জানাজায় ইমামতি করবেন রংপুর করিমিয়া নুরুল উলুম মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা মুহম্মদ ইদ্রিস আলী। তাকে সমাহিত করতে পল্লীনিবাসের লিচু বাগানে প্রস্তুত করা হয়েছে কবর। তবে দলের পূর্বসিদ্ধান্ত অনুযায়ী জানাজা শেষে এরশাদের মরদেহ ঢাকায় নিয়ে গিয়ে বনানীর সামরিক কবরস্থানে দাফন করার কথা রয়েছে। রংপুর মহানগর জাতীয় পার্টির দফতর সম্পাদক জাহিদ হোসেন লুসিড জানান, জানাজায় ও দাফন কার্যে রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের ১৬ জেলার জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের পাশাপাশি লক্ষাধিক মানুষ অংশ নেবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ জন্য সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

রংপুর মহানগর জাতীয় পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লোকমান হোসেন বলেন, জানাজা শেষে স্যারের (এরশাদ) মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে পল্লীনিবাসে। সেখানে লিচুতলায় তাকে দাফন করা হবে। এজন্য সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

রংপুর মহানগর জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক এসএম ইয়াসির বলেন, এরশাদ স্যারের পল্লীনিবাসের ভেতরে গড়া পিতা মকবুল হোসেন মেমোরিয়াল ডায়াবেটিক হাসপাতলের লিচু বাগানের উত্তরপূর্ব পাশে সমাধির স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে।

সোমবার বিকেল ৩টায় দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও রংপুর সিটি মেয়র মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফার নেতৃত্বে জেলা ও মহানগর নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে কবর খনন শুরু করা হয় । নগরীর দর্শনা মোড় এলাকার জাতীয় পার্টি কর্মী মোহাম্মদ নুরুজ্জামান, আশরাফ আলী ও রোকনুদ্দিন এবং বালাপাড়া এলাকার জাকির হোসেন ও সবুজ আহমেদ কবরটি পুরোপুরি প্রস্তুত করেন। এখন কবরটি প্রস্তুত রয়েছে।

রংপুর জেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাফিউল ইসলাম শাফী বলেন, পল্লীনিবাসের লিচু বাগানটি এরশাদ স্যারের আগ্রহে তৈরি হয়েছে। তিনি নিজেই গাছ লাগিয়েছেন। রংপুর আসলেই ভোরে তিনি গাছে পানি দিতেন। পরিচর্যা করতেন। সেখানেই তিনি সমাহিত হবেন। কবর খননের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।

রংপুরের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক সৈয়দ ফরহাদ হোসেন জানান, এরশাদের জানাজা কিংবা সমাহিত করার ব্যাপারে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির কাছ থেকে এখনও কোনো চিঠি পাওয়া যায়নি। চিঠি পেলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। জেলা প্রশাসনের এ সংক্রান্ত সব প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানান তিনি।

গত রবিবার (১৪ জুলাই) ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। তার বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। তিনি রক্তে সংক্রমণসহ লিভার জটিলতায় ভুগছিলেন। রোববার বাদ জোহর ঢাকা সেনানিবাস কেন্দ্রীয় মসজিদে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর সোমবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় দ্বিতীয় এবং বাদ আসর বায়তুল মোকাররম মসজিদে তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।