সোনারগাঁয়ে ৪ ডাকাত গ্রেপ্তার

আগের সংবাদ

উইম্বলডনের রাজা-রানী

পরের সংবাদ

ভাড়াটেদের নিয়ে চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড

খেলা প্রতিবেদক :

প্রকাশিত হয়েছে: জুলাই ১৬, ২০১৯ , ২:৪৭ অপরাহ্ণ

রুদ্ধশ্বাস এক লড়াই শেষে বাউন্ডারি হাঁকানোর হিসাবে এগিয়ে থাকায় দ্বাদশ বিশ্বকাপের ফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে ইংল্যান্ড। আর ইংলিশদের শিরোপা জেতানোর নায়ক বেন স্টোকস। চরম বিপর্যয়ে ব্যাট হাতে অপরাজিত ৮৪ রানের দায়িত্বশীল এক ইনিংস খেলে ইংল্যান্ডকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন তিনি।

তার অনবদ্য এই ইনিংসের কারণেই নির্ধারিত ৫০ ওভার শেষে ম্যাচটি টাই করতে সমর্থ হয় ইংলিশরা। সুপার ওভারেও ঝলক দেখান স্টোকস। সেখানে ইংল্যান্ডের সংগ্রহ করা ১৫ রানের মধ্যে ৮ রানই আসে এই অলরাউন্ডারের ব্যাট থেকে। অর্থাৎ স্টোকসের নায়কোচিত পারফরমেন্সের কারণেই প্রথমবারের মতো বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হতে পেরেছে ক্রিকেটের জন্মভূমি ইংল্যান্ড। আর সেই বেন স্টোকসের জন্ম নিউজিল্যান্ডে। শুধু বেন স্টোকসই নন, প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জয়ী ইংল্যান্ড দলে আছে একঝাঁক বিদেশি ক্রিকেটার। এক্ষেত্রে বেন স্টোকস ছাড়া অন্যরা হলেন ইয়ন মরগান, মঈন আলি, আদিল রশিদ, জোফরা আরচার, টম কুরান ও জেসন রয়। সে হিসেবে বলাই যায়, ভাড়াটে ক্রিকেটারদের নিয়েই দ্বাদশ বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছে ইংল্যান্ড।
যার অসাধারণ নেতৃত্বে এবারের বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছে ইংল্যান্ড সেই ইয়ন মরগানের জন্ম আয়ারল্যান্ডে। ১৯৮৬ সালের ১০ ডিসেম্বর আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার ওয়ানডে অভিষেক হয় আয়ারল্যান্ডের জার্সিতেই। তবে দল পরিবর্তন করে ২০০৯ সাল থেকে ইংল্যান্ডের হয়ে খেলা শুরু করেন তিনি। দ্বাদশ বিশ্বকাপে ১১ ম্যাচে ১ সেঞ্চুরি ও ১ হাফসেঞ্চুরিতে ৩৭১ রান করেছেন মরগান।
এবারের বিশ্বকাপে বোলিংয়ে ইংল্যান্ডের অধিনায়ক ইয়ন মরগানের সবচেয়ে বড় অস্ত্র ছিলেন পেসার জোফরা আরচার। বর্তমানে ২৪ বছর বয়সী এই পেসারের জন্ম ওয়েস্ট ইন্ডিজের বারবাডোজে। উইন্ডিজ জাতীয় দলের হয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপেও খেলেছেন তিনি। তবে এক পর্যায়ে তিনি ইংল্যান্ডের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন। ২০১৯ সাল থেকে আরচার ইংল্যান্ড জাতীয় দলের হয়ে খেলা শুরু করেন। আর এখন তো তিনি ইংলিশদের বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম নায়ক। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ফাইনালে সুপার ওভার করার জন্য অধিনায়ক মরগান তার হাতেই বল তুলে দেন। আর কিউইদের ১৫ রানের মধ্যে আটকে রেখে ঠিকই দলের জয় নিশ্চিত করেন তরুণ এই পেসার। ইংল্যান্ডের হয়ে এখন পর্যন্ত ১৪টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলে ২৩ উইকেট পেয়েছেন তিনি। আর দ্বাদশ বিশ্বকাপে নিয়েছেন ১১ ম্যাচে ২০ উইকেট।
ফাইনালে জয়ের নায়ক বেন স্টোকসের জন্ম ১৯৯১ সালের ৪ জুন নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে। জন্মভূমি নিউজিল্যান্ডের পাশাপাশি একসময় ইংল্যান্ডেরও নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন তিনি। আর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটও খেলা শুরু করেন ইংল্যান্ডের জার্সিতেই। দ্বাদশ বিশ্বকাপে ১১ ম্যাচে ৪৬৫ রান করেছেন তিনি। পাশাপাশি বল হাতে নিয়েছেন ৭ উইকেট।
এবারের বিশ্বকাপে প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই ওপেনিংয়ে দলকে দারুণ শুরু এনে দিয়েছেন ইংলিশ ওপেনার জেসন রয়। ডানহাতি এই ব্যাটসম্যানের জন্ম ইংল্যান্ডে নয়, দক্ষিণ আফ্রিকায়। ১৯৯০ সালের ২১ জুলাই দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে জন্মগ্রহণ করেন রয়। মাত্র ১০ বছর বয়সে তিনি ইংল্যান্ডে পাড়ি জমান। প্রোটিয়া ক্রিকেটের অলিখিত কোটা প্রথার কারণে ইংল্যান্ডের হয়ে খেলা শুরু করেন তিনি। ইংল্যান্ডের হয়ে এ পর্যন্ত ৮৪টি ওয়ানডে খেলে ৩৩৮১ রান করেছেন রয়। দ্বাদশ বিশ্বকাপে ৮ ম্যাচে ১ সেঞ্চুরি ও ৪ হাফসেঞ্চুরিতে তার ব্যাট থেকে এসেছে ৪৪৩ রান। সে হিসেবে ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ জয়ের নেপথ্যে রয়ের অবদান কোনো অংশেই কম নয়।
বিশ্বকাপে রঙ ছড়ানোর কথা ছিল পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত অলরাউন্ডার মঈন আলির। তবে এবারের বিশ্বকাপে নিজেকে মেলে ধরার খুব একটা সুযোগ পাননি তিনি। পেসবান্ধব উইকেটের কারণে অধিকাংশ ম্যাচে সাইডবেঞ্চে বসেই কাটাতে হয়েছে এই স্পিন বোলিং অলরাউন্ডারকে। এরমধ্যে যে কয়টি ম্যাচে সুযোগ পেয়েছেন সেগুলোতে ঠিকই আস্থার প্রতিদান দিয়েছেন তিনি। ৫ ম্যাচে ব্যাট হাতে ৭৫ রান করার পাশাপাশি বোলিংয়ে ৫ উইকেট নিয়েছেন মঈন।
তবে সুযোগ পেয়ে দারুণভাবে কাজে লাগিয়েছেন আরেক পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ক্রিকেটার আদিল রশিদ। দ্বাদশ বিশ্বকাপে ১১ ম্যাচে ১১ উইকেট পেয়েছেন এই স্পিনার। ইংল্যান্ডের প্রতিটি ম্যাচেই প্রতিপক্ষের রানের গতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন তিনি।
দ্বাদশ বিশ্বকাপের ইংল্যান্ড দলে ছিলেন জিম্বাবুইয়ান বংশোদ্ভূত টম কুরান। তার বাবা কেভিন কুরান জিম্বাবুয়ে জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন। জিম্বাবুইয়ান বংশোদ্ভূত হলেও টম কুরানের জন্ম হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকায়। তবে দলে থাকলেও বিশ্বকাপের একটি ম্যাচেও ইংল্যান্ডের জার্সিতে মাঠে নামার সুযোগ হয়নি ১৯৯৫ সালের ১২ মার্চ দক্ষিণ আফ্রিকার কেপ টাউনে জন্ম নেয়া কুরানের।