আদালতে নিরাপত্তাজনিত গাফিলতি থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আগের সংবাদ

জয় উদযাপনে শামিল স্ত্রীরাও

পরের সংবাদ

বিদেশি মরগানে বাজিমাত

প্রকাশিত হয়েছে: জুলাই ১৬, ২০১৯ , ১:৫৫ অপরাহ্ণ | আপডেট: জুলাই ১৬, ২০১৯, ১:৫৬ অপরাহ্ণ

Avatar

দারুণ রোমাঞ্চ ছড়ানো এক ফাইনালে বাউন্ডারি হাঁকানোর হিসেবে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের ইতিহাস গড়েছে ইংল্যান্ড। ইংলিশরা এর আগে আরো তিনবার ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলেছিল। তবে ১৯৭৯, ১৯৮৭ ও ১৯৯২ সালে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেও শিরোপা জিততে না পারার আক্ষেপ নিয়ে ফিরতে হয়েছিল তাদের। ওই তিনটি আসরেই ইংলিশদের নেতৃত্বে¡ ছিলেন স্বদেশি ক্রিকেটাররা। ১৯৭৯ সালে মাইক ব্রেয়ারলির নেতৃত্বে খেলেছিল ইংল্যান্ড। ১৯৮৭ সালের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের অধিনায়কত্বের দায়িত্বে ছিলেন মাইক গেটিং। আর ১৯৯২ সালের বিশ্বকাপে ইংলিশদের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন গ্রাহাম গুচ। মাইক ব্রেয়ারলি, মাইক গেটিং ও গ্রাহাম গুচ এই তিনজনই জন্ম ও বংশোদ্ভূতভাবে ইংল্যান্ডের নাগরিক। কিন্তু এই তিন কিংবদন্তি ক্রিকেটার ফাইনালে তুলেও ইংল্যান্ডকে শিরোপা জেতাতে পারেননি। তবে স্বদেশি কিংবদন্তিরা যা পারেননি সেটা পেরেছেন আয়ারল্যান্ডে জন্ম নেয়া ইয়ন মরগান। আইরিশ মরগানের নেতৃত্বেই অবশেষে বহুল আকাক্সিক্ষত বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পেল ইংল্যান্ড।
মাইক ব্রেয়ারলিকে মনে করা হয় ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সফল অধিনায়ক। ১৯৭৯ সালে তার অধীনে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু লর্ডসে অনুষ্ঠিত ওই ফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে পাত্তাই পায়নি স্বাগতিকরা। ম্যাচটি ব্রেয়ারলির দল হেরেছিল ৯২ রানের বড় ব্যবধানে।
১৯৮৭ সালে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছিল ইংল্যান্ড। সেবার ইংলিশদের নেতৃত্বে ছিলেন মাইক গেটিং। কলকাতার ইডেন গার্ডেনে অনুষ্ঠিত শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনালে গেটিংয়ের দল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হেরেছিল ৭ রানে।
কিংবদন্তি ক্রিকেটারদের প্রসঙ্গ উঠলে অনায়াসেই চলে আসে গ্রাহাম গুচের নাম। তার নেতৃত্বেই ১৯৯২ সালের বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু আরো একবার শিরোপা জিততে না পারার আক্ষেপ নিয়ে ঘরে ফিরতে হয়েছিল ইংলিশদের। অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত ওই ফাইনাল ম্যাচে ইমরান খানের পাকিস্তানের বিপক্ষে ২২ রানে হার মানতে হয়েছিল গ্রাহাম গুচের নেতৃত্বাধীন ইংল্যান্ডকে।
অবশেষে আগের তিন আসরের আক্ষেপটা ঘুচল আয়ারল্যান্ডে জন্ম নেয়া ইয়ন মরগানের নেতৃত্বে দ্বাদশ বিশ্বকাপে খেলতে এসে। ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত এই বিশ্বকাপ আসরের সেমিতে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ২৭ বছর পর আরো একবার ফাইনালের টিকেট পায় ইংল্যান্ড। এবার আর স্বপ্ন ভঙ্গ হয়নি। মরগানের নেতৃত্বে ফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে আরাধ্য শিরোপা জিতে নেয় ইংলিশরা। মরগানের হাত ধরেই প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ শিরোপা ঘরে তুলে ইংল্যান্ড।
১৯৮৬ সালের ১০ সেপ্টেম্বর আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে জন্মগ্রহণ করেন ইয়ন মরগান। তার বাবার নাম জডি মরগান। আর মায়ের নাম অলিভিয়া মরগান। পারিবারিকভাবেই ক্রিকেটের সঙ্গে সখ্য গড়ে ওঠে ইয়ন মরগানের। ৩ ভাই ও ২ বোনের সবাই খেলেছেন আয়ারল্যান্ডের জাতীয় দলে। ইয়ন মরগানেরও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছিল আয়ারল্যান্ড জাতীয় দলের জার্সিতে। ২০০৬ সালে আয়ারল্যান্ডের জার্সিতে ওয়ানডে অভিষেক হওয়া মরগান দেশটির হয়ে ৩ বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেছেন। আয়ারল্যান্ডের হয়েই তিনি ২০০৭ সালের বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিলেন। ২০০৯ সালে আয়ারল্যান্ডের সবুজ জার্সি ছেড়ে ইংল্যান্ডে পাড়ি জমান তিনি। ওই বছর থেকেই ইংল্যান্ডের হয়ে খেলা শুরু করেন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। ইংল্যান্ডের হয়ে তিনটি বিশ্বকাপ খেলেছেন তিনি।
তার নেতৃত্বেই ২০১৫ সালের বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল ইংল্যান্ড। তবে সেবার ইংলিশদের বাদ পড়তে হয়েছিল গ্রুপ পর্ব থেকেই। তবুও মরগানের ওপর আস্থা রাখে ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড। সেই আস্থার প্রতিদান ২০১৯ সালের বিশ্বকাপে দিলেন তিনি। ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন মরগান। তার নেতৃত্বেই প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ শিরোপা ঘরে তুলল ইংল্যান্ড।
এখন পর্যন্ত ইংল্যান্ডের হয়ে ২১০ ম্যাচে ৬৬০৪ রান করেছেন মরগান, যা ইংল্যান্ডের পক্ষে সর্বোচ্চ। আর দ্বাদশ বিশ্বকাপে ১১ ম্যাচে ১ সেঞ্চুরি ও ১ হাফ সেঞ্চুরিতে ৩৭১ রান করেছেন তিনি। তার নেতৃত্বে ১১১টি ওয়ানডে খেলে ৬৯টিতেই জিতেছে ইংল্যান্ড।