মাদকে বুঁদ কিশোর গ্যাং

আগের সংবাদ

রংপুরের পল্লীনিবাসে নয়, ঢাকাতেই এরশাদের দাফন : জিএম কাদের

পরের সংবাদ

দুই কিংবদন্তি শিল্পীকে স্মরণ

প্রকাশিত হয়েছে: জুলাই ১৬, ২০১৯ , ১২:২৭ অপরাহ্ণ | আপডেট: জুলাই ১৬, ২০১৯, ১২:২৭ অপরাহ্ণ

Avatar

‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি আমি কি ভুলিতে পারি।’ মহান একুশের গান। একটি জাতিসত্তার সঞ্জীবনী শক্তি। আর এ শক্তির ভিত্তি গড়বেন বলে একজন জন্ম নিয়েছিলেন এ বাংলায়। তিনি আলতাফ মাহমুদ। একজন ক্ষণজন্মা প্রবাদ পুরুষ, মহান সুর সৈনিক। বায়ান্নর একুশে ফেব্রুয়ারি পরবর্তী বছরগুলোয় সংগ্রামের কণ্ঠস্বর হিসেবে গণসঙ্গীতের যে বজ্রনিশান বেজে উঠেছিল, তার এক অমর নায়ক আলতাফ মাহমুদ।
আরেক কালজয়ী শিল্পী শেখ লুতফর রহমান। যিনি করাচি থেকে ফিরে গান লেখা, সুর করা এবং গান গাওয়া শুরু করেন। শেখাতেনও। সে সময়ে তিনি বহু জনপ্রিয় গান রচনাও করেন। একই সময়ে বেশ কিছু বিখ্যাত কবিতার সুরারোপও করেন। এই গানগুলো হলো সিকান্দার আবু জাফর রচিত ‘জনতার সংগ্রাম চলবেই’, সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের রচিত ‘ফুল খেলবার দিন নয় অদ্য’, আবুবকর সিদ্দিক রচিত ‘বিপ্লবের রক্তরাঙা ঝাণ্ডা ওড়ে’, সুকান্ত ভট্টাচার্যের রচিত ‘হিমালয় থেকে সুন্দরবন হঠাৎ বাংলাদেশ’, মতলুব আলী রচিত ‘লাঞ্ছিত নিপীড়িত জনতার জয়’।
ভাষার লড়াই, জাতীয়তাবাদী আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ এবং মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে গণসঙ্গীতে রয়েছে এই দুই কালজয়ী শিল্পীর অসামান্য ভূমিকা।
সাংস্কৃতিক সংগ্রামের এ দুই কিংবদন্তি শিল্পী শহীদ আলতাফ মাহমুদ ও শেখ লুতফর রহমানকে বাংলাদেশ গণসঙ্গীত সমন্বয় পরিষদ এ মহান শিল্পীদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং তাদের সৃষ্টিকে তরুণ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার প্রত্যয়ে আয়োজন করল স্মরণানুুষ্ঠানের। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় পাবলিক লাইব্রেরির শওকত ওসমান স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বরেণ্য সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কামাল লোহানী। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব লেখক গোলাম কুদ্দুছ এবং শিল্পী শিমূল ইউসুফ।
সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ গণসঙ্গীত সমন্বয় পরিষদের সভাপতি বিশিষ্ট গণসঙ্গীত শিল্পী ফকির আলমগীর। শহীদ আলতাফ মাহমুদ ও শেখ লুতফর রহমানের সঙ্গীত পরিবেশন করে ঋষিজ শিল্পীগোষ্ঠী, ক্রান্তি শিল্পীগোষ্ঠী, বহ্নিশিখা, সত্যেন সেন শিল্পীগাষ্ঠী, স্বভূমি লেখক শিল্পী কেন্দ্র, আনন্দন, ভিন্নধারা ও সমস্বর।
শিল্পকলায় বাঙলা নাট্যদলের ‘মেঘ’ : তারুণ্যনির্ভর নাটকের সংগঠন বাঙলা নাট্যদল শিল্পকলা একাডেমিতে মঞ্চায়ন করেছে দলটির দর্শকনন্দিত প্রযোজনার নাটক ‘মেঘ’। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার স্টুডিও থিয়েটার হলে মঞ্চায়ন হয় এই নাটকটি। উৎপল দত্তের রচনায় নাটকটির নির্দেশনায় ছিলেন হ ম শহিদুজ্জামান।
সমরেশ স্যানাল কলকাতা শহরের একজন নামকরা সাহিত্যিক। সদ্য সিজোফ্রেনিয়া থেকে সেরে উঠেছে। তার সাহিত্যের লেখনীর মায়াজালে আবদ্ধ হয়ে প্রেমে পড়েন মাধুরী। তারা বিয়ে করেন। কিন্তু অসুস্থ সমরেশকে সুস্থতার জন্য নিজের সুখ বিসর্জন দিয়ে সংসারের দায়িত্ব নিজের কাঁধে নেন মাধুরী। বন্ধুসম ডাক্তারের বারবার নিষেধ সত্ত্বেও জটিল ও মনস্তাত্ত্বিক রহস্যময় লেখার মাঝেই নিজেকে হারিয়ে ফেলে সমরেশ। অনিদ্রা ও মানসিক চাপে আরো অসুস্থ হয়ে পড়ে সে। অন্যদিকে হঠাৎ উপস্থিত হয় সমরেশের কলেজ জীবনের সাবেক প্রেমিকা সুজাতা। পুরনো প্রেম এবং তাদের একান্ত ঘনিষ্ঠতার অনেক
চিহ্ন দেখিয়ে সমরেশকে ব্ল্যাকমেইল করে অর্থ দাবি করে সুজাতা। উপায়ান্তর না দেখে সুজাতাকে হত্যার পরিকল্পনা করে সমরেশ। প্রতিবেশী তারাপদ বাড়ুয্যের ছেলে প্রণব এসে উপস্থিত হয় সমরেশের বাড়ি। নিজের বোকামিতে সুজাতাকে হত্যার কথা প্রণবের কাছে অকপটে স্বীকার করে বসে সমরেশ। সুজাতাকে হত্যার প্রমাণ নিশ্চিহ্ন করতে প্রণবকেও হত্যার সিদ্ধান্ত নেয় সমরেশ। অপরদিকে সুজাতাকে না পেয়ে পুলিশ অফিসার যতীন নন্দী এসে হাজির হয় সমরেশের বাড়ি। তীক্ষ্ণ বুদ্ধিসম্পন্ন পুলিশ অফিসারের কৌশলী প্রশ্নে এবং ছোটখাটো ক্লুতে ধরা পড়ে ঘটনাটি আরও রহস্যময় করে তোলে সমরেশ। এভাবেই এগিয়ে যায় নাটকটির কাহিনী।
নাটকটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন-আবিদ আহমেদ, সুবর্ণা মীর, সেলিম বহুরূপী, সৈয়দ গোলাম মুর্তুজা, জামিল উদ্দিন খান লোটাস, নাসির আহমেদ দুর্জয়, লিটন খান, আফসানা আক্তার যুথি প্রমুখ।