কাকরাইলে জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে এরশাদের মরদেহ

আগের সংবাদ

বিলিয়ন ডলারের স্বপ্ন দেখাচ্ছে কৃষিপণ্য

পরের সংবাদ

ব্যাট হাতে ব্যর্থ ওপেনাররা

প্রকাশিত হয়েছে: জুলাই ১৫, ২০১৯ , ১:৫৩ অপরাহ্ণ | আপডেট: জুলাই ১৫, ২০১৯, ১:৫৩ অপরাহ্ণ

Avatar

নিউজিল্যান্ড ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার ফাইনাল ম্যাচ দিয়ে গতকাল শেষ হলো ওয়ানডে বিশ্বকাপের দ্বাদশ আসর। ব্যাট হাতে অসাধারণ পারফরমেন্সের মাধ্যমে বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার এবারের বিশ্বকাপে নিজেদের নিয়ে গেছেন অন্য উচ্চতায়। বাংলাদেশের সাকিব আল হাসান, ভারতের রোহিত শর্মা, নিউজিল্যান্ডের কেন উইলিয়ামসন, ইংল্যান্ডের জো রুট, জেসন রয় ও জনি বেয়ারস্টো এবং অস্ট্রেলিয়ার ডেভিড ওয়ার্নার ও অ্যারন ফিঞ্চের নাম এ ক্ষেত্রে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। রয়, বেয়ারস্টা, ওয়ার্নার, ফিঞ্চ, রোহিত শর্মারা তো প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই দলকে দারুণ শুরু এনে দিয়েছেন। তবে অনেক ওপেনার নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি। ব্যর্থ হয়েছেন ব্যাট হাতে সমর্থকদের প্রত্যাশা পূরণে, পারেননি দলকে ভালো শুরু এনে দিতে। দ্বাদশ বিশ্বকাপে ব্যর্থ ওপেনাররা হলেন- নিউজিল্যান্ডের মার্টিন গাপটিল, পাকিস্তানের ফখর জামান, উইন্ডিজের ক্রিস গেইল, আফগানিস্তানের হজরতউল্লাহ জাজাই, বাংলাদেশের সৌম্য সরকার, শ্রীলঙ্কার কুশল মেন্ডিস, দক্ষিণ আফ্রিকার হাশিম আমলা ও বাংলাদেশের তামিম ইকবাল।

প্রথমেই নিউজিল্যান্ডের ওপেনার মার্টিন গাপটিলের পারফরমেন্সের দিকে তাকানো যাক। ৯ ম্যাচে ৫৪৭ রান নিয়ে ২০১৫ সালের বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিলেন তিনি। এর মধ্যে ছিল অপরাজিত ২৩৭ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস। তাই মারকুটে এই ওপেনারের কাছে দ্বাদশ বিশ্বকাপে কিউই ভক্তদের প্রত্যাশাও ছিল অনেক বেশি। কিন্তু গাপটিল সেই প্রত্যাশা পূরণে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছেন। দ্বাদশ বিশ্বকাপে তিনি ৯ ম্যাচে করেছেন মাত্র ১৮৬ রান। সর্বোচ্চ অপরাজিত ৭৩ রানের ইনিংসটি খেলেছেন শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। দ্বাদশ বিশ্বকাপে গাপটিলের গড় ২০.৮৮।
২০১৭ সালে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি দিয়ে নিজের জাত চিনিয়েছিলেন পাকিস্তানের ওপেনার ফখর জামান। তবে ইংল্যান্ড এন্ড ওয়েলস বিশ্বকাপে ব্যাট হাতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছেন বাঁহাতি এই ওপেনার। ৮ ম্যাচে তার ব্যাট থেকে এসেছে ১৮৬ রান। সর্বোচ্চ ৬২ রানের ইনিংসটি খেলেছেন ভারতের বিপক্ষে। এ ছাড়া আর একটি ম্যাচেও হাসেনি তার ব্যাট।
অভিজ্ঞ হাশিম আমলার কাছে দক্ষিণ আফ্রিকার সমর্থকদের প্রত্যাশা ছিল অনেক বেশি। কিন্তু দ্বাদশ বিশ্বকাপে হতাশ করেছেন আমলা। ৭ ম্যাচ খেলে অর্ধশতক পেয়েছেন মাত্র ২টি। সর্বোচ্চ ৮০। সব মিলিয়ে এবারের আসরে আমলার ব্যাট থেকে এসেছে মাত্র ২০৩ রান। ইংল্যান্ড এন্ড ওয়েলস বিশ্বকাপে প্রোটিয়াদের ব্যর্থতার পেছনে হাশিম আমলার হতাশাজনক ব্যাটিংও দায়ী।
টুর্নামেন্ট শুরুর আগে উইন্ডিজ ওপেনার ক্রিস গেইল বলেছিলেন যে, ক্যারিয়ারের শেষ বিশ^কাপ আসরটা তিনি স্মরণীয় করে রাখতে চান। কিন্তু পারেননি। এবারের আসরে মারকুটে এই ওপেনারের ব্যাট থেকে ৯ ম্যাচে এসেছে ২৪২ রান। অর্ধশতক পেয়েছেন মাত্র ২টি। সর্বোচ্চ ৮৭।
ব্যাট হাতে দুঃস্বপ্নের মতো একটি বিশ্বকাপ আসর কেটেছে বাংলাদেশের ওপেনার সৌম্য সরকারের। দ্বাদশ বিশ্বকাপে ৮ ম্যাচে মাত্র ১৬৬ রান করেছেন এই বাঁহাতি ওপেনার। সর্বোচ্চ ৪২ রানের ইনিংসটি খেলেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে।
বিশ্বকাপের আগে দারুণ ফর্মে ছিলেন আফগান ওপেনার হজরতউল্লাহ জাজাই। আফগান সমর্থকদের প্রত্যাশা ছিল দ্বাদশ বিশ্বকাপ আসরটা দুর্দান্ত কাটবে তার। কিন্তু বিশ্বকাপে ছন্দ ধরে রাখতে পারেননি এই ওপেনার। ইংল্যান্ড এন্ড ওয়েলস বিশ্বকাপে ৫ ম্যাচে জাজাইয়ে ব্যাট থেকে এসেছে মাত্র ৯৬ রান। সর্বোচ্চ ৩৪। আর গড় ১৯.২০। কুশল মেন্ডিসকে ভাবা হয় লঙ্কান ক্রিকেটের ভবিষ্যতের সবচেয়ে বড় তারকা। কিন্তু দ্বাদশ বিশ্বকাপে নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি তিনি। ৭ ম্যাচ খেলে ফিফটি পেয়েছেন মাত্র ১টি। ২০.৪৩ গড়ে করেছেন ১৪৩ রান।