সিঙ্গাপুর পৌঁছেছেন ওবায়দুল কাদের

আগের সংবাদ

পদত্যাগ করলেন পাঞ্জাবের কংগ্রেস নেতা সিধু

পরের সংবাদ

অতিবৃষ্টি ও বন্যা

মোকাবেলা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ

প্রকাশিত হয়েছে: জুলাই ১৪, ২০১৯ , ৯:৩৯ অপরাহ্ণ | আপডেট: জুলাই ১৪, ২০১৯, ৯:৩৯ অপরাহ্ণ

অনলাইন প্রতিবেদক

বর্ষাকালে অতিবর্ষণ এবং বন্যা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত স্বাভাবিক ঘটনা। কেবল বাংলাদেশ নয়, পুরো ভারতীয় উপমহাদেশই এশিয়া মহাদেশের সবচেয়ে বেশি বর্ষণমুখর এলাকা হিসেবে পরিচিত। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় যথাযথ প্রস্তুতি গ্রহণ করা দরকার। সরকার ইতোমধ্যে নানা উদ্যোগ নিয়েছে। আগাম প্রস্তুতি থাকলে ক্ষয়ক্ষতি অনেকটা হ্রাস পাবে।

জানা গেছে, ভারি বর্ষণ ও উজান থেকে নামা ঢলে দেশের প্রধান কয়েকটি নদ-নদীর পানি বেড়ে গেছে। রংপুর, কুড়িগ্রাম, জামালপুর, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনাসহ কয়েকটি জেলা নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র, ঘাঘট ও ধরলার পানি বাড়ায় প্লাবিত হয়েছে উত্তরাঞ্চলের বেশ কয়েকটি জেলার নিম্নাঞ্চল। সুরমা ও কুশিয়ারায় পানি বেড়ে যাওয়ায় তলিয়ে গেছে সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের বিস্তীর্ণ এলাকা।

যমুনার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জামালপুর ও বগুড়ায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। একই সঙ্গে রাজশাহী, টাঙ্গাইল, মুন্সীগঞ্জ, জামালপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও চট্টগ্রামে নদী ভাঙন শুরু হয়েছে। অন্তত ১৫টি জেলায় কয়েক লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে সিলেট, বান্দরবান, কক্সবাজার এবং উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোর পরিস্থিতি বেশি খারাপ। সড়ক তলিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় দুর্ভোগ বেড়ে গেছে বন্যাদুর্গতদের।

ভারি বর্ষণের কারণে রাঙ্গামাটির কাপ্তাইয়ে পাহাড়ধসে নিহত হয়েছেন দুজন। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের পূর্বাভাসে বলছে, আগামী ৭২ ঘণ্টায় প্রধান নদ-নদীর পানি আরো বাড়বে। এমন অবস্থা সাধারণ মানুষের মাঝে ভীতি ও উদ্বেগ সৃষ্টি করবে স্বাভাবিক। খবরে আসছে, বন্যাকবলিত এলাকায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির সংকট। ডায়রিয়াসহ পানিবাহিত রোগের লক্ষণ এখনো দেখা না গেলেও অচিরেই আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এখনই পদক্ষেপ নেয়া না হলে পরিস্থিতির অবনতি ঘটবে। বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এড়ানো আমাদের সাধ্যাধীন নয়। তবে যথাযথ প্রস্তুতি নিলে মানুষের দুর্ভোগ, ক্ষয়ক্ষতি নিশ্চয় নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। বন্যার্ত মানুষের জন্য আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা দরকার। বন্যার সময় বাঁধ একটা বড় আশ্রয়স্থল। যেভাবে বাঁধ ভাঙছে, তাতে সব বাঁধকে এখন নিরাপদ আশ্রয় মনে করা যাচ্ছে না। তারপর রয়েছে খাদ্য সংকট। সরকার থেকে বলা হয়েছে, চালের সংকট হবে না।

আমরা আশা করছি, বন্যার্তদের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য সহায়তা দেয়ার সংস্থান করছে সরকার। বিশুদ্ধ পানি, ওষুধপত্র এবং চিকিৎসাসেবার প্রস্তুতি নিয়ে বন্যাদুর্গতদের মাঝে যাওয়া জরুরি। বন্যা একটি প্রাকৃতিক বাস্তবতা এবং ভাটির দেশ হিসেবে পানি বাংলাদেশ দিয়েই নামবে।

এ অবস্থায় জানমাল রক্ষার সর্বোচ্চ উদ্যোগ নিতে মনোযোগী হওয়ার বিকল্প নেই। সামনে বন্যার ভয়াবহতা বাড়লে যোগাযোগ ব্যবস্থা চরম বিপর্যস্ত হয়ে পড়তে পারে। এসব নানা দিক বিবেচনায় নিয়ে সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে পরিস্থিতি মোকাবেলার কৌশল নিতে হবে। এটাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

  • আরও পড়ুন
  • লেখকের অন্যান্য লেখা