সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, ১৬৮ স্কুল বন্ধ

আগের সংবাদ

বিভ্রান্ত হওয়া না হওয়া

পরের সংবাদ

বিপন্ন পরিবেশ ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন

প্রকাশিত হয়েছে: জুলাই ১১, ২০১৯ , ৯:১০ অপরাহ্ণ | আপডেট: জুলাই ১১, ২০১৯, ৯:১০ অপরাহ্ণ

অনলাইন প্রতিবেদক

কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে পাহাড় কেটে বন ধ্বংস করে একের পর এক রোহিঙ্গা শিবির গড়ে তোলা হচ্ছে। যে এলাকায় রোহিঙ্গা শিবিরগুলো গড়ে উঠেছে, সেখানে ছিল বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর বসতি। গোটা এলাকা ছিল জীববৈচিত্র্যে ভরপুর। রোহিঙ্গাদের বসতি স্থাপন ও জ্বালানির জন্য ইতোমধ্যে উজাড় হয়েছে ৬ হাজার একরের বেশি বনভূমি। প্রতিনিয়ত ধ্বংস হচ্ছে কৃষি জমি ও পাহাড়। এমন পরিস্থিতি দেশের জন্য খুবই উদ্বেগজনক।

গত বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘ঢাকা মিটিং অব দ্য গ্লোবাল কমিশন অন অ্যাডাপ্টেশন’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর পরিস্থিতি অনুধাবন করে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের অতি দ্রুততার সঙ্গে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর জন্য বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমারের ১১ লাখ বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছি। কিন্তু এর ফলে আমাদের ওই অঞ্চলের প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। সেখানে পাহাড়ি এলাকায় জঙ্গল কেটে বসতি হচ্ছে। ফলে ওই এলাকা অনিরাপদ ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যাচ্ছে। আমরা চাই তারা যত দ্রুত সম্ভব নিজের দেশে ফিরে যাক। সেটা বাংলাদেশের জন্য মঙ্গল হবে। আমরা মনে করি, রোহিঙ্গা শিবির স্থাপনের কারণে বন ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের দায় শুধু বাংলাদেশের একার নয়।

গোটা বিশ্বকেই এ ক্ষতিপূরণ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের সঙ্গে শামিল হয়ে কাজ করতে হবে। আশার বিষয়, বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে চীন দেশটির সরকারকে সম্মত করতে চেষ্টা করবে বলে আশ্বস্ত করেছে। বাংলাদেশ ও চীনের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে গত বৃহস্পতিবার দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে চীন এ আশ্বাস দিয়েছে। এ বিষয়টি আমাদের আশাবাদী করে। চীনের এ আশ্বাসের বাস্তবায়ন আমরা দেখতে চাই।

অতীতে দেখেছি, মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে বরাবরই গড়িমসি করেছে। রোহিঙ্গারা তাদের নিরাপত্তাজনিত ভয়-ভীতির কারণে মিয়ানমারে ফিরে যেতে চায় না। রোহিঙ্গা সংকটের কারণে দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত হচ্ছে। যতই সময় যাবে এ সমস্যা ততই বড় আকার ধারণ করবে। এই উদ্ভূত পরিস্থিতির পরও বাংলাদেশ সরকার যে ধৈর্য, সহনশীলতা, উদারতা ও দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছে তা প্রশংসনীয়।

তবে এর একমাত্র সমাধান রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবর্তন। রোহিঙ্গাদের প্রতি সমবেদনা এবং মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রতি সংহতি এবং রোহিঙ্গাদের স্বদেশে প্রত্যাবাসনের তাগিদ জানিয়ে আসছে বিশ্ব সম্প্রদায়। আমরা চাই, দ্রুত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু হোক। মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ফেরত যাওয়ার পাশাপাশি সে দেশে তাদের নিরাপদ বসবাসের পরিবেশ ও নাগরিক মর্যাদা নিশ্চিত হওয়ার বিষয়টিও জরুরি।

বিষয়টি এমন দাঁড়িয়েছে যে, রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বহুমাত্রিক ঝুঁকিতে পড়েছে বাংলাদেশ। আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক সমস্যাসহ বাড়ছে নিরাপত্তা ঝুঁকি। এসব সমস্যার মোকাবেলা করা এখন কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে জীববৈচিত্র্য রক্ষায় রোহিঙ্গাদের পাহাড় থেকে সরিয়ে আনা প্রধান কাজ। পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে ফিরে যাওয়ার বিষয়ে কাজ চালিয়ে যেতে হবে।