সাময়িকী

কবি, প্রিয় কবি আল মাহমুদ

আগের সংবাদ

আরব আমিরাতে বাস দুর্ঘটনায় নিহত ২ , আহত ৩১

পরের সংবাদ

একজন ডানাঅলা মানুষ

প্রকাশিত হয়েছে: জুলাই ১১, ২০১৯ , ৮:২৪ অপরাহ্ণ | আপডেট: জুলাই ১১, ২০১৯, ৮:২৩ অপরাহ্ণ

কাগজ প্রতিবেদক

আল মাহমুদের রক্ত এবং অশ্রুজল পরিশ্রুত ভাষা হয়ে রূপান্তরিত হয়েছে কবিতায়। তিনি আবেগ ভরে কল্পনা করেন তার অশ্রুজল নদীর মরে যাওয়া স্রোতগুলোকে বিহ্বল করে ঘোলা পানির তোড় নিয়ে ধাবমান হয় সমুদ্রের দিকে। দৃশ্যের মায়া এখনো তার কাছে ফুরিয়ে যায়নি।

সুদূর সাইবেরিয়া থেকে শুরু হয়ে আমেরিকা মহাদেশের মধ্য দিয়ে তিয়েরা দেল ফুয়েগো পর্যন্ত বিস্তৃত জনপদের প্রাচীন সমাজে দৈব চেতনায় উদ্বুদ্ধ এক রহস্যময় মানব সম্প্রদায়ের পরিচয় পাওয়া যায়। এরা শামান নামে পরিচিত। শামান এমন এক ব্যক্তি- নারী হোক আর পুরুষই হোক, যে অর্জন করে দারুণ কোনো মনস্তাত্ত্বিক অভিজ্ঞতা। এর ফলে সে সম্পূর্ণভাবে অন্তর্মুখী হয়ে পড়ে। তার সমগ্র অবচেতনা খুলে যায় এবং শামান তাতে পতিত হয়।
নৃতত্ত্ববিদরা বলছেন, শামানরা তাদের বক্তব্য প্রকাশ করত এক রহস্যময় ভাষায়। এ ভাষা তাদের জাতিগোষ্ঠীর কাছে উন্মোচন করত এক অপার্থিব পৃথিবী! প্রকৃতি এবং চারপাশের নিসর্গ থেকে তারা আহরণ করত প্রতীকধর্মী শব্দ। মানুষকে স্বতঃস্ফূর্ত হওয়ার জন্য তারা উদাহরণ দিত তরঙ্গায়িত নদীতে সন্তরণমান মৎস্যকুলের। মীন সম্প্রদায় ডিম ফুটে বেরিয়েই ঢেউয়ের গতির সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ত করতে পারে। শামানরা খরাক্লিষ্ট ভূমিতে দাঁড়িয়ে ফসলের সম্ভাবনাকে জাগিয়ে তুলতে প্রবল বারিপাতের জন্য প্রার্থনা করত। তারা বৃক্ষের বাকলের নিচে প্রবাহিত রসধারার অনুসন্ধান করতে চাইত। যা কিনা ডালের ভেতর দিয়ে পুষ্পিত বিন্যাসে প্রস্ফুটিত হয়। শামানরা এমন এক অতিন্দ্রীয় শক্তির অধিকারী ছিল, যাতে তারা পৌরাণিক জীবনের ব্যাখ্যাকার হতে পারত। তারা সেই মানসিক অভিজ্ঞতা এবং উন্মাদনা লাভ করত, যাতে মানুষ অদৃশ্য বস্তুর ব্যাখ্যাকার হিসেবে পরিচিত হতো। একজন শামান বলেছিল, ‘বিশ্বের কেন্দ্রীয় পর্বতে, পাহাড়ের সর্বোচ্চ চূড়ায় দাঁড়িয়ে আছি। তখন আমার দিব্যদর্শন ঘটে। কারণ বিশ্বের পবিত্র পদ্ধতিতে আমি দেখেছিলাম।’
শামানদের রহস্যময় উক্তির ভেতর দিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে জনগোষ্ঠীর অধিবাসীরা অর্জন করত নতুন অভিজ্ঞতা। যেন শামানরা অর্জন করতে পেরেছে দিব্যদৃষ্টি। তাদের আয়ত্তে রয়েছে এক বোধগম্য পরিমণ্ডল। স্থানীয় লোকাচারের অন্তর্গত বিন্যাস থেকে তারা আবিষ্কার করতে পারত ছন্দ এবং সুষমা।
একজন শামান তার অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ করেছে এভাবে :
‘অরণ্যে যখন ক্ষুদে কাঠবিড়ালি আর হুতোম পেঁচার সঙ্গে কেউ বড় হয় তখন ব্যাপারটাই আলাদা। আপনার চারপাশেই এরা রয়েছে মূর্তমান হয়ে। জীবনের শক্তি, ক্ষমতা আর জাদুসম্ভাবনার প্রতিনিধি এরা। এসব আপনার নয় বটে, তবে এরা জীবনেরই অংশ এবং আপনার সামনে এরা রহস্যের দরজা খুলে দেয়। তখন আপনি দেখেন যে আপনার ভেতরেও অনুরণন উঠেছে। কারণ, আপনিও তো প্রকৃতি।’
ধূসর পার্বত্য ভূমি কিংবা সমুদ্রের তীর সংলগ্ন কোনো কোনো অঞ্চলে শামানরা আভাহত হতো ডানাঅলা মানুষ হিসেবে। যেনবা এই সম্প্রদায়ের মানুষরা অতি সহজেই উড্ডীয়মান। অবস্থানে থেকে অবলোকন করতে পারে জনপদের কাঠামোকে। তাদের সুতীক্ষè দৃষ্টি পতিত হয় এমন সব অঞ্চলে, যেখানে থেকে দ্রুত উৎসারিত হয় মানুষের জন্য কল্যাণ ও অকল্যাণের সীমারেখা।
কবি আল মাহমুদ আমার বোধে অবিরাম একজন ডানাঅলা মানুষ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন। তিনি আমার কাছে সেই রহস্যময় শামান, যিনি তার পোশাকের ভেতর থেকে অবলীলায় বের করে আনতে পারেন পক্ষীকুলকে। অঙ্গুলি নির্দেশ করে বলতে পারেন, কোথায় নদী সিকস্তিতে উন্মূল হওয়া মানুষের গন্তব্যস্থল। তার লুকানো আস্তিন থেকে বেরিয়ে আসা পক্ষীকুলের পাখসাট আমাদের মনে করিয়ে দেয় উদ্ভিদের পাতার আড়ালে থাকা আশ্রয়স্থল নীড়কে। যেন দীর্ঘ পরিভ্রমণের পর অনিবার্যভাবে পাখিদের ফিরে আসতে হয় নিজ নিজ নীড়ে। আমাদের এই সাম্প্রতিক উদ্বাস্তু, উন্মূল সময়ে এই কবিই প্রবল প্রত্যয়ের সঙ্গে উচ্চারণ করেন, ‘আমাদের সকলের পায়ে লেগে আছে পলিমাটির দাগ।’
গাঙ্গেয় অববাহিকার এই পলল মাটির দেশে আল মাহমুদ আমাদের ফসলের সম্ভাবনার কথা জানিয়ে দেন। কখনো নদী তার কাছে সর্পিল মনে হয়। হৃদয় নিংড়ে তিনি লাল তরল বের করেন। পানি হয়ে যায় রক্তের মতো।
তিয়েরা দেল ফুয়েগা দ্বীপের এক শামান যখন উচ্চারণ করে, ‘আমি দুয়ার, তোমরা তাতে করাঘাত কর। আমি পথ, তোমরা পথিক।’
কবি আল মাহমুদের জন্ম তিতাসপাড়ের যে শহরটিতে আমারও জন্ম সে শহরে। আল মাহমুদের শৈশব যে পলল ভূমিতে কেটেছে, আমিও বড় হয়েছিলাম সেখানে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের মৌড়াইল গ্রামের মোল্লাবাড়িতে ১৯৩৬ সালের ১১ জুলাই তার জন্ম। আমার জন্ম মৌড়াইলের সন্নিকটের কাউতলীতে। যে পলল মাটিতে আল মাহমুদ পদচিহ্ন রেখে গেছেন, আমিও তার অনুসারী। আমিও তার মতো তরঙ্গায়িত তিতাসের কাছে গিয়ে জলধ্বনি শুনেছি। হরিণবেড়ের মাঠে গিয়ে ধু-ধু প্রান্তরের নিঃসঙ্গতা অনুভব করেছি। ঘোষাইপুরের ঘাটে দেখেছি রোদের সোনালি আভা ছড়ানো সবুজ সকাল।
যে নিসর্গের ভেতরে কলমিলতার মতো পুষ্ট হয়েছেন আল মাহমুদ, আমিও ওই অঞ্চলের জলজ গন্ধের ভেতের মাছের আঁশের মতো চিকচিকে চেতনায় বড় হয়েছি। আমিও তার মতো কাউতলী রেলব্রিজ পেরিয়ে দেখেছি মানুষের সাধ্যমতো ঘরবাড়ি। কিষাণের ললাটরেখার মতো নদী। লাউয়ের মাচায় ঝুলে থাকা সিক্ত নীল শাড়ি। তিতাসের অদূরের বিল থেকে কীভাবে পানকৌড়ি, মাছরাঙা অথবা বক পাখায় জলের ফোঁটা ফেলে দূরে উড়ে যায় তাই দেখতে চেয়েছি। এই নদী তার মতোই আমার হৃদয়ে গভীর জলধারা ছড়িয়ে দিয়েছে।
শামানের রহস্যময় বোধে যেভাবে কীটপতঙ্গের জীবন স্পন্দমান হয়, কবি আল মাহমুদও আমার কাছে শৈশবে সেই জগতকে উন্মোচিত করে দিয়েছিলেন। রহস্যের বীজ হাতে নিয়ে তিনি অনায়াসে হয়ে যান স্বপ্নের কিষাণ।
কী প্রবল ক্ষমতায় তিনি নদীর ঢেউতে মুখ দেখতে বলেন। নির্ভুলভাবে বলতে পারেন, বৃক্ষের কী নাম। তাতে কোন ফুল ধরে।
একজন শামানের অভিজ্ঞতায় বর্ণিত আছে, ‘সে দেখে যে দুর্যোগগুলো পরস্পরকে সাহায্য করছে এবং তাবৎ জাতিগোষ্ঠী বিশাল মিছিল করে এগুচ্ছে। কিন্তু এরচেয়েও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এই যে, এই দিব্যদর্শন তার নিজের সম্পর্কেই অভিজ্ঞতা অর্জন, নিজের সংস্কৃতির আধ্যাত্মিক রূপকল্পের জগতে যাত্রা। এবং এসবের প্রভাবকে একীকরণ করার অভিজ্ঞতা লাভ।’
এই কবি একজন অভিভূত চাষির মতো আমাদের শিখিয়েছেন সমস্ত প্রাকৃতিক আয়াত। তিনি নির্ভুল জানতেন নদীতে কখন আসবে জোয়ার। কী ধরনের গর্জন হলে বৃষ্টিপাত হয়। ধূসর প্রকৃতি হয় প্রসন্ন। বাতাসে শস্যের ঘ্রাণ টেনে নিয়ে তিনি বলতে পারতেন ফসল ওঠার দিনক্ষণের সঠিক সময়। বৃক্ষ দেখে জানতে পারতেন তাতে ধরবে কোন ফল।
আমি আসলে বারবার আল মাহমুদের কবিতার ভেতর দিয়ে অনুসন্ধান করতে চেয়েছি আমার শৈশবকে। এবং এই অনুসন্ধানে ব্রতী হয়ে দেখেছি। তিনি আমার কাছে রূপান্তরিত হয়েছেন একজন ডানাঅলা মানুষে। আমার জন্ম নিয়াজ পার্কের কাছের একটি বাড়িতে। আল মাহমুদের কবিতায় বিধৃত হয়েছে নিয়াজ মাঠে শিশির লাগা ঘাসের কথা। চাঁদের সঙ্গে হাঁটার রাতগুলোর কথা। কীভাবে ভরা নদী হাঁসের খেলা ভাসায়, রক্তলোভী আলোছায়ার ফাঁদের কথা। তিনি চিনিয়েছেন লাল মোরগফুলকে। কীভাবে জীবনের জলাধারে তুুমুল রুহিত মৎস্যের মতো স্পন্দমান হতে হয় তার প্রত্যয়ের কথা বলেছেন। যে কুরুলিয়ার খালের ধারে আমার শৈশবের প্রতিটি প্রসন্ন ভোর কেটেছে, সেই খালের পুরনো কৈ মৎস্য ভেজে খাওয়ার ইচ্ছে পোষণ করেছেন। চরের মাটি কীভাবে শীতল পাটির মতো বিছিয়ে থাকে তাও জানিয়েছেন তিনি। আমাদের শিখিয়েছেন নিসর্গের নীতি। সংগঠিত করে তুলেছেন মানুষের ভেতরের মানুষকে। কথার ভেতরে কথা গেঁথে দিয়েছেন। নিজস্ব শস্যক্ষেত্রে স্বেচ্ছায় গমন করেছেন। হলুদ হয়ে যাওয়া কমলার বনপথের অনুসন্ধান করেছেন। নিজেকে মনে করেছেন ফসলের বীজ। প্রবল বারিপাতের ভেতরে পলল মাটিতে যে রোপিত বীজ চারাকে প্রস্ফুটিত করে তোলে। সময়ের শ্যাওলা তার ললাটকে ঢেকে ফেললেও তিনি হতোদ্যম হননি। পাখিদের কলগানে উৎসবের আনন্দকে অনুভব করেছেন। পাখিরা ঘুমিয়েছে কিনা সেই খবরের জন্য গিয়েছেন বনাঞ্চলে। নদী ভাঙনের ফলে জেগে ওঠা চরের কাছে গিয়ে, তার মাটিতে দাঁড়িয়ে প্রবল বিশ্বাসে অনুভব করেছেন, এ যেন নিজের জমিন। নদীর উপর দিয়ে ইলিশের নাওগুলো কীভাবে পাল উড়িয়ে যায়, তা অবলোকন করেছেন। উড়ন্ত বালিহাঁসের দল হাওরে কীভাবে নেমে আসে, তার গতিপথকে আবিষ্কার করতে চেয়েছেন। ভাঙা কবরের ভেতর থেকে একটি ঘুঘুপাখি কীভাবে বেরিয়ে এসে জারলের ডালে গিয়ে বসে, তা দেখে আলোড়িত হয়েছেন। এই কবি নিখুঁতভাবে জানেন, নদীতীরের রাই-সরিষার ভূমিখণ্ডে কীভাবে চাষিরা বীজ বুনে আসে। আদিম মাটির বুকে তিনি দাঁড়িয়ে থাকেন অনন্তের বীজ হাতে।
একজন কবি অনুভব করতে পারেন সময়ের সঙ্গে চিরায়তের সম্পর্ক। প্রতিটি বস্তুর মাঝে চিরায়তকে অভিজ্ঞতায় ধারণ করাই হচ্ছে জীবনের কাজ। চলমান জীবনের একটি নৃতাত্ত্বিক ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, কী দেহে, কী মনে কোনোটিতেই আজ আর আমরা পুরনো প্রস্তর যুগের শিকারি মানুষের জীবনযাপন করি না। তবে তাদের জীবনযাত্রার কাছে আমাদের শরীর আর মনের গঠনের ঋণ স্বীকার না করে উপায় নেই। আজো কোনো না কোনো প্রকারে আমাদের মনের গভীরে তাদের পশুদূতের স্মৃতি সুপ্ত রয়েছে। যখন নিরুদ্দেশের উদ্দেশে পা বাড়াই তখন তারা যেন একটু নড়েচড়ে ওঠে। আর তারা বেশি করে জাগে।
কবি আল মাহমুদ জানেন তার গন্তব্য কোথায়? তিনি মোটেই দিকভ্রান্ত নন। তার ভ্রƒজোড়া কখনো গাঙচিলের মতো তাকে ছাড়িয়ে যেন উড়ে যায়। তিনি জানেন, নোঙর তোলার ধাতব শব্দ তাকে জাগিয়ে রাখবেই। স্বপ্নের জাহাজ কীভাবে তাকে নিয়ে যাবে নিঝুম দ্বীপে। বন্দরের সকল উৎকণ্ঠাকে পেরিয়ে তিনি সেখানে পৌঁছে যান।
আল মাহমুদের রক্ত এবং অশ্রুজল পরিশ্রুত ভাষা হয়ে রূপান্তরিত হয়েছে কবিতায়। তিনি আবেগ ভরে কল্পনা করেন তার অশ্রুজল নদীর মরে যাওয়া স্রোতগুলোকে বিহ্বল করে ঘোলা পানির তোড় নিয়ে ধাবমান হয় সমুদ্রের দিকে। দৃশ্যের মায়া এখনো তার কাছে ফুরিয়ে যায়নি। প্রবহমান বাতাস এবং প্রকৃতির গন্ধ তার মনে প্রেরণা দেয় শ্লোক সৃষ্টির।
আগামী দিনের দিকবলয়ের দিকে তিনি হেঁটে যেতে চান। তিনি গভীরভাবে বিশ্বাস করেন, নদীগুলো আবার সমুদ্রমুখী হবে। তিনি কান পেতে শোনেন ফসলের প্রান্তরে পরিভ্রমণরত চারণ কবিদের সঙ্গীত, যারা উজ্জ্বল ভবিষ্যতের কথা বলেন। তিনি বিশ্বাস করেন এভাবেই জেগে থাকে আশা। এভাবেই শস্যক্ষেত্রগুলো শ্যামল হয়ে উঠবে। তিনি প্রচণ্ড আগ্রহের সঙ্গে আবিষ্কার করতে চান কীভাবে পৃথিবীর পেট চিরে নদীগুলো সহসা বেরিয়ে এসেছে। পাখিরা কীভাবে উড়ছে সুখাদ্যের সন্ধানে। জীবনের দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় এখন হয়তো তার কাছে মনে হচ্ছে নিস্তেজ আলোর গন্ধ পেয়ে সন্ধ্যের আকাশ কীভাবে প্রায় পাখিশূন্য হয়। এই জগতের পরিচিত সমস্ত বর্তমানকে অতিক্রম করে তিনি হেঁটে যেতে চান। তিনি সেই অন্তর্দৃষ্টির অধিকারী, যাতে প্রান্তরকে আলোকিত মনে হয়।

  • আরও পড়ুন
  • লেখকের অন্যান্য লেখা