নারী এমপি রুশেমা ইমামের দাফন সম্পন্ন

আগের সংবাদ

রোজভ্যালি কাণ্ডে এবার ঋতুপর্ণাকে তলব

পরের সংবাদ

রাজধানীতে সড়ক শৃঙ্খলা

রিকশা নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে

প্রকাশিত হয়েছে: জুলাই ১০, ২০১৯ , ৯:৩৪ অপরাহ্ণ | আপডেট: জুলাই ১০, ২০১৯, ৯:৩৪ অপরাহ্ণ

কাগজ প্রতিবেদক

রাজধানীর প্রধান তিন সড়কে রিকশা চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দেয় ঢাকা সিটি করপোরেশনের দুই মেয়র। কিন্তু এ নিষেধাজ্ঞাকে সাধারণ মানুষ স্বাগত জানালেও রিকশা মালিক ও চালকরা তোয়াক্কা না করেই প্রধান সড়কে চালাচ্ছেন রিকশা ও ভ্যান। পুলিশ বলছে এটা দেখভালের দায়িত্ব তাদের একার না, সিটি করপোরেশনেরও। এটি বাস্তবায়নে পুলিশকে মূল ভূমিকায় থাকতে হবে বলে মনে করি। তা না হলে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো সম্ভব না।

গত ৭ জুলাই থেকে রাজধানীর তিনটি প্রধান সড়কে রিকশা চলাচল বন্ধের ঘোষণা দেন ঢাকার দুই মেয়র। গাবতলী থেকে মিরপুর রোড হয়ে আজিমপুর ও সায়েন্সল্যাব থেকে শাহবাগ পর্যন্ত এবং কুড়িল থেকে বাড্ডা, রামপুরা, খিলগাঁও হয়ে মালিবাগ পর্যন্ত প্রধান সড়কে রিকশা চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। একইসঙ্গে অবৈধ ভ্যান, অটোরিকশাসহ অবৈধ এবং অনুমোদনবিহীন অন্য যানবাহনও প্রধান দুটি সড়কে চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়।

ফলে এসব সড়কে যান চলাচলে অনেকটা শৃঙ্খলা ফিরে আসতে শুরু করেছে। মূলত রিকশা না চলাচল করায় যানবাহনের গতিও অনেকটা ফিরে এসেছে। কিন্তু দেখা গেছে গত দুদিন রিকশা বন্ধের প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ করে চরম নৈরাজ্য চালিয়েছে রিকশাচালক ও মালিকরা। তাদের উচ্ছৃঙ্খলতার কারণে চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছে রাজধানীবাসী। দীর্ঘ যানজটের কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়কে আটকে থাকতে হয়েছে হাজার হাজার যাত্রীকে।

অনেকে উপায় না পেয়ে হেঁটেই গন্তব্যে রওনা দিতে বাধ্য হন। এ ছাড়া স্কুলশিক্ষার্থী, অফিসগামীরাও ভোগান্তির শিকার হন। রিকশা শ্রমিকদের এই ধরনের আচরণ দুঃখজনক। গতকাল বুধবার রাজধানীর কুড়িল বিশ্বরোড-নতুনবাজার-বাড্ডা-রামপুরা সড়কের শাহজাদপুর বাড্ডা এলাকায় অনেকগুলো রিকশা ও ভ্যান চলাচল করেছে বলে জানা গেছে। এতে যান চলাচল আগের মতোই বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে হলে রিকশা চলাচল বন্ধ করতে হবে।

ঢাকার রাস্তায় আতঙ্কের এক নাম যান্ত্রিক এবং অযান্ত্রিক রিকশা। কোনো ধরনের প্রশিক্ষণ এবং নিবন্ধন না থাকায় উল্টো চলাসহ ট্রাফিক আইন না মানা এসব বাহনের কারণে প্রতিনিয়ত ঝুঁকি বেড়েই চলছে রাজধানীর সড়কে। সড়ক পথে শৃঙ্খলা ফেরাতে দুই সিটি করপোরেশনের নেয়া উদ্যোগকে নাগরিকরা স্বাগত জানিয়েছে। রাজধানীতে বহু বছর পর প্রথমবারের মতো অনেকটা নির্বিঘ্নে বাস প্রাইভেটকারসহ সব প্রকার যানবাহন এসব রোডে অনেকটা বিরতিহীনভাবে চলাচল করতে দেখা গেছে।

সাময়িক সমস্যা হলেও প্রধান সড়কে রিকশা বন্ধের জন্য এ কষ্ট মানতে রাজি যাত্রীরাও। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ বা বিলস সম্প্রতি এক গবেষণার পর বলছে ঢাকায় রিকশার সংখ্যা ১১ লাখের মতো। দিনে একটি রিকশা দুই শিফটে চলে। এর চালকের সংখ্যা সেই হিসেবে আনুমানিক ২২ লাখের মতো। তবে এত বিশাল সংখ্যক মানুষের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থান ভাবতে হবে। সরকার ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছে নগরীর প্রধান সড়কে আলাদা লেন করার, এই উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।