দ্রুত বিচার আইনের মেয়াদ আরো ৫ বছর বাড়লো

আগের সংবাদ

প্রবৃদ্ধি অর্জনে আঞ্চলিক বাণিজ্যের গুরুত্ব

পরের সংবাদ

চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা

এই দুর্ভোগের শেষ কোথায়?

প্রকাশিত হয়েছে: জুলাই ৯, ২০১৯ , ৯:৩৭ অপরাহ্ণ | আপডেট: জুলাই ৯, ২০১৯, ৯:৩৭ অপরাহ্ণ

কাগজ প্রতিবেদক

জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে মুক্তি মিলছে না চট্টগ্রামবাসীর। বৃষ্টিতে এখন নগরের অধিকাংশ এলাকা জলমগ্ন। অপরিকল্পিতভাবে নানা স্থাপনা গড়ে ওঠায় এ সমস্যা আরো প্রকট হয়েছে। গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে বিভিন্ন সড়কে হাঁটু থেকে কোমর পর্যন্ত পানি জমায় চরম দুর্ভোগে পড়েন নগরবাসী। নগরীর বাকলিয়া, ষোলশহর দুই নম্বর গেট ও হালিশহরসহ অধিকাংশ এলাকায় হাঁটু থেকে কোমর পরিমাণ পানি জমে গেছে। এ রূপ যেন নিত্যদিনের। উত্তরণের বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হলেও কোনোটাই কাজে আসছে না। এ দুর্ভোগ থেকে কি কোনোই মুক্তি নেই?

চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে সিডিএকে ৮ হাজার কোটি, পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দুই হাজার কোটি টাকার প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। কিন্তু দেড় বছরেও কাজের অগ্রগতি দৃশ্যমান হয়নি। নগরীর ৫৭ খালের মধ্যে এখন অস্তিত্ব আছে ৩৮টি খালের। বাকি খালগুলো উদ্ধার করে খনন করার পাশাপশি সবক’টি খালে রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ, ১২টি খালের মুখে স্লুইস গেট ও জলাধার নির্মাণসহ বেশকিছু বড় কাজ রয়েছে প্রকল্পের আওতায়। প্রকল্প মেয়াদের অর্ধেক সময়ে কয়েকটি খালের খননকাজ শুরু হলেও বাকি কাজগুলো অনিশ্চয়তায় আছে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয়হীনতার কারণে এমন অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে বলা যায়। জলাবদ্ধতা এখন বন্দর নগরীর প্রধান সমস্যা। চট্টগ্রামে বৃষ্টি হলেই নেমে আসে জলাবদ্ধতার অভিশাপ। কর্ণফুলীর জোয়ারে প্লাবিত হয় নগরীর নিম্নাঞ্চল। সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আগে মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা জলাবদ্ধতা নিরসনের প্রতিশ্রুতি দেন। নির্বাচিত হয়ে তাদের কেউ কেউ সমস্যার সমাধানে কিছু পদক্ষেপও নেন। কিন্তু সমন্বিত পদক্ষেপের অভাবে তা ফলপ্রসূ ভূমিকা রাখতে পারছে না। চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতার সঙ্গে রয়েছে জোয়ারের প্রভাব।

জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে বঙ্গোপসাগর ও কর্ণফুলী নদীর পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ায় চট্টগ্রাম মহানগরীর নিষ্কাশন ব্যবস্থা বাধার মুখে পড়েছে, যা জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ। এটা সত্যি যে, দেশের গুরুত্বপূর্ণ নগরীগুলোর বিশেষ করে রাজধানীর জলাবদ্ধতা প্রধান কারণ হলো জল নিষ্কাশনের যথাযথ ব্যবস্থার অভাব, ড্রেনগুলো বুজে যাওয়া, খাল-নালাগুলো ভরাট ও দখল হয়ে যাওয়া। নগরীর জলাবদ্ধতা নিয়ে গণমাধ্যমে লেখালেখি কম হয়নি। সরকারের নানামুখী উদ্যোগ, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পরামর্শ কোনোটাই যেন কাজে আসছে না।

চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে শুধু সিটি করপোরেশন নয়, সরকারকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। আমরা মনে করি, সমন্বয়হীনতার কারণেই বারবার এ দুরবস্থা তৈরি হচ্ছে। ওয়াসা, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর এবং সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কারো সঙ্গে কারো কোনো সমন্বয় নেই। তারা স্বাধীনভাবে এবং নিজেদের খেয়ালখুশিমতো কাজ করছে। এ সমন্বয়হীনতা দূর করতে না পারলে নগরীর জলাবদ্ধতা দূর করা সম্ভব হবে না।