ওয়াসার জলে মলের অস্তিত্ব

আগের সংবাদ

ভারতে যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে নিহত ২৯

পরের সংবাদ

মসলার বাজারে হঠাৎ অস্থিরতা

প্রকাশিত হয়েছে: জুলাই ৮, ২০১৯ , ১২:২২ অপরাহ্ণ | আপডেট: জুলাই ৮, ২০১৯, ১২:২২ অপরাহ্ণ

Avatar

ঈদুল আজহার বাকি এখনো প্রায় একমাস। অথচ এরই মধ্যে সিন্ডিকেট চক্রের কারসাজিতে ফের অস্থির হয়ে উঠছে পেঁয়াজ, আদা, রসুনসহ মসলার বাজার। একদিনের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে প্রায় ১৫ টাকা। দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা কেজি। আমদানিকৃত ভারতীয় পেঁয়াজ কিছুটা কমে ৪০-৪৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবে, দেশি পেঁয়াজের দাম বেড়েছে প্রায় ৪৬ শতাংশ। ভারতীয় পেঁয়াজের দামও ৫১ শতাংশ বেড়েছে।
প্রতি বছরই ঈদুল আজহার আগে অস্থির হয়ে ওঠে মসলার বাজার। এবারো তার ব্যতিক্রম হয়নি। সিন্ডিকেট চক্রের কারসাজিতে ফের অস্থির হয়ে উঠছে পেঁয়াজসহ আদা রসুনের বাজার। একদিনের ব্যবধানে কেজিপ্রতি ৪০ টাকা বেড়ে আদা বিক্রি হচ্ছে ১৪০-২০০ টাকায়। এ ছাড়া প্রায় ১০ টাকা বেড়ে রসুন বিক্রি হচ্ছে ১৪০-১৫০ টাকায়।
অভিযোগ উঠেছে, এসব পণ্যের সরবরাহ ও আমদানি মূল্য কম থাকার পরও বাড়তি মুনাফার লোভে সিন্ডিকেট করে দাম বাড়ানো হয়েছে। ভোক্তারা মনে করছেন, বাজার পর্যবেক্ষণ না থাকায় দাম বেড়েছে। এখনই বাজার পর্যবেক্ষণ জোরদার না করলে পেঁয়াজসহ অন্য মসলারও দাম বাড়বে।
এর আগে প্রস্তাবিত ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে সব মসলা পণ্যে ৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। ওই ঘোষণার পর অস্থির হয়ে ওঠে মসলার বাজার। বাজেটের পর বাজারে সব ধরনের মসলার দাম কেজিপ্রতি সর্বোচ্চ ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এখন নতুন করে আবার বাড়তে শুরু করেছে পেঁয়াজ, আদা ও রসুনের দাম। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঈদ সামনে রেখে এসব পণ্যের দাম আরেক দফা বাড়তে পারে।
এদিকে, রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, পেঁয়াজের আমদানি ও সরবরাহ ভালো। আড়তদার, পাইকার ও খুচরা দোকানগুলোতে পেঁয়াজের কোনো সঙ্কট নেই। শুধু দাম নিয়েই যত সমস্যা। দোকানদারদের চাহিদা মতো টাকা দিলেই মিলছে মণকে মণ পেঁয়াজ। গত কোরবানি ঈদের আগেও বাজারে কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করে দাম বাড়িয়েছিলেন পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরা। এবারো একই পন্থা দেখা যাচ্ছে।
জানা গেছে, দেশে গড়ে প্রতি মাসে পেঁয়াজের চাহিদা এক লাখ ২০ হাজার টন। এর মধ্যে নভেম্বর, ডিসেম্বর ও জানুয়ারি এই তিন মাস পেঁয়াজের চাহিদা বেশি থাকে। এ ছাড়া রমজান ও  কোরবানির সময় পেঁয়াজের দেড় থেকে ২ লাখ টন বাড়তি চাহিদা তৈরি হয়। এই চাহিদাকে পুঁজি করে সক্রিয় ওঠে সিন্ডিকেট চক্র।
এক মাস আগে দেশি পেঁয়াজের প্রতি কেজির দাম ছিল ৩০ থেকে ৩৫ টাকা। আর আমদানি করা পেঁয়াজের দাম ছিল ২৫ থেকে ৩০ টাকা। প্রতি কেজি রসুনের দাম ছিল ৭০ থেকে ৮০ টাকা। আদার দাম ছিল ১১০ থেকে ১২০ টাকা। এক মাসের ব্যবধানে রসুন ও আদার দাম প্রতি কেজিতে ৫০ থেকে ৬০ টাকা টাকা বেড়ে ১৫০ থেকে ২০০ টাকায় উঠেছে। দাম বাড়ার জন্য বৃষ্টিকে দায়ী করছেন ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, বৃষ্টির মধ্যে পরিবহনের সময় পেঁয়াজ পচে যাচ্ছে।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এ বছর দেশে পর্যাপ্ত পেঁয়াজ উৎপন্ন হয়েছে। আমদানি মূল্যও কম। এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ মে মাসের প্রতিবেদনের তথ্যে দেখা যায়, এক মাসে দেশে পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার ১৭৬ টন। প্রতি কেজি পেঁয়াজের আমদানি মূল্য ১৫ টাকা ২০ পয়সা। মে মাসে রসুন আমদানি হয়েছে ৮ হাজার ৭৩৯ টন। প্রতি কেজি রসুনের আমদানি মূল্য ৪৫ টাকার নিচে। আর প্রতি কেজি আদার আমদানি মূল্য ৫০ টাকার মতো। কিন্তু এসব পণ্য বিক্রি হচ্ছে তিনগুণের বেশি দামে।
কৃষিপণ্য হিসাবে এসব পণ্যের সব ধরনের শুল্কও মওকুফ। তারপরও কেন এত বেশি দামে এসব পণ্য বিক্রি হচ্ছে? এ প্রশ্নের সঠিক উত্তর নেই পাইকারদের কাছে। কাওরান বাজারের কয়েকজন খুচরা ব্যবসায়ী নাম না প্রকাশ করার শর্তে বলেন, খুচরা ব্যবসায়ীদের অতি মুনাফার মানসিকতার কারণে পণ্যের দাম বাড়ছে। এসব পণ্য আমদানি করে গোটা কয়েক প্রতিষ্ঠান। তারা নানাভাবেই প্রভাবশালী। সরকার একদিকে ব্যবস্থা নিলে অন্যদিকে আরেক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে তারা পণ্যের দাম বাড়ায়।
এ বিষয়ে কনজুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান ভোরের কাগজকে বলেন, ব্যবসায়ীদের অতি মুনাফার মানসিকতার কারণে পণ্যের দাম বাড়ছে। তাদের ক্ষেত্রে মুক্তবাজার অর্থনীতি আর গ্রাহকদের ক্ষেত্রে বন্দিদশার অবস্থা। ব্যবসায়ীরা যেভাবে খাওয়াচ্ছে ভোক্তারা বাধ্য হয়ে সেভাবে খাচ্ছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ হলো ভোক্তাদের সংগঠিত করে প্রতিকারে নামা। তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা যখন পণ্যের দাম বাড়ায় ভোক্তারা তখন সংগঠিত হয়ে পণ্যের ব্যবহার কমিয়ে দেবে, কেন দাম বাড়ছে তার কারণ জানতে চাইবে। এটা করতে পারলে পণ্যের দাম কমবে, পণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারও কঠোর হবে।

বিষয়: