এবার শেষ চারের লড়াই

আগের সংবাদ

চতুর্থ রাউন্ডে জোহান্না কন্তা

পরের সংবাদ

নিজের নৈপুণ্যে তৃপ্ত সাকিব

খেলা প্রতিবেদক :

প্রকাশিত হয়েছে: জুলাই ৮, ২০১৯ , ৩:৩৯ অপরাহ্ণ

দ্বাদশ বিশ্বকাপ শুরুর আগেই বড় এক সুঃসংবাদ পান টাইগার অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। ওয়ানডেতে অলরাউন্ডারদের র‌্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে ওঠে আসেন তিনি। নাম্বার ওয়ান অলরাউন্ডার হিসেবে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করা সাকিব পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই ছিলেন দুর্দান্ত। বাংলাদেশের জেতা সবকটি ম্যাচেই সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার উঠেছে বাঁ-হাতি এই অলরাউন্ডারের হাতে। এতেই বুঝা যায় সাকিব বিশ^কাপে কতটা ঈর্ষণীয় পারফরমেন্স করেছেন। ব্যাট হাতে ৬০৬ রানের পাশাপাশি বোলিংয়ে ১১ উইকেট শিকার করা সাকিব দ্বাদশ বিশ^কাপ দিয়ে নিজেকে নিয়ে গেছেন কিংবদন্তিদের কাতারে। গোটা বিশ^ নতুনভাবে চিনেছে তাকে, বুঝতে পেরেছে তার শ্রেষ্ঠত্ব, প্রমাণ পেয়েছে তার সামর্থ্যরে। তবে নিজের এমন চমকপ্রদ পারফরমেন্সে মোটেই চমকে যাননি সাকিব। এমন কিছুই করে দেখাতে চেয়েছিলেন তিনি।
দ্বাদশ বিশ^কাপে নিজের পারফরমেন্সে তৃপ্ত সাকিব গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, আমার নৈপুণ্য হয়তোবা অনেককে বিস্মিত করেছে। তবে আমি এমন কিছুই করে দেখাতে চেয়েছিলাম। আমি একটা লক্ষ্যকে সামনে রেখেই বিশ^কাপ খেলতে দেশ ছেড়েছিলাম। সেই লক্ষ্য পূরণের জন্য নিজের সামর্থ্যরে সবটুকু আমি দিয়েছি। চেষ্টার কোনো কমতি রাখিনি। এই পারফরমেন্স সেটারই ফল। নিজের পারফরমেন্স নিয়ে সন্তুষ্টির কথা জানাতে গিয়ে সাকিব বলেন, আমার মতে ব্যক্তিগত দিক থেকে আমি যেভাবে খেলেছি সেটা বেশ ভালো। আমি খুশি। যে ধরনের মন-মানসিকতা নিয়ে বিশ^কাপ খেলার উদ্দেশ্যে দেশ ছেড়েছিলাম, যে ধরনের প্রত্যাশা ছিল সবই পূরণ হয়েছে। সত্যি বলতে আমি সস্তুষ্ট।
দ্বাদশ বিশ্বকাপের জন্য অনেক আগেই থেকেই নিজেকে প্রস্তুত করা শুরু করেছিলেন সাকিব। গত আইপিএল চলার সময় ফিটনেস ও স্কিল নিয়ে নিবিড়ভাবে কাজ করেন তিনি। ইংল্যান্ড এন্ড ওয়েলস বিশ্বকাপে সাকিবের অসাধারণ পারফরমেন্সের পেছনে বড় প্রভাবক ছিল ফিটনেসে অভাবনীয় উন্নতি। প্রস্তুতি ভালো ছিল বলেই দারুণ কিছু করে দেখানোর ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী ছিলেন সাকিব। এ বিষয়ে তার অভিমত, প্রথম ম্যাচ থেকেই ভালো কিছু হবে বলে মনে হচ্ছিল। আমি আগে আরো তিনটি বিশ্বকাপ খেলেছি। ওই আসরগুলোতেও প্রথম ম্যাচে রান পেয়েছিলাম। কিন্তু পরের ম্যাচগুলোতে ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারিনি। এবার বিষয়টি নিয়ে আমি খুব সতর্ক ছিলাম। চেয়েছিলাম যে কোনোভাবেই ছন্দ ধরে রাখতে।
দ্বাদশ বিশ^কাপে বাংলাদেশের সামনে সুযোগ ছিল নিজেদের সামর্থ্যরে প্রমাণ দেয়ার। ট্রফি জিতলে কিংবা শেষ চারে ওঠতে পারলে ক্রিকেটবোদ্ধারা অনায়াসেই টাইগারদের বড় দলের মর্যাদা দিতেন। কিন্তু মাশরাফি বিন মুর্তজার দল সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি।
তবে বড় দল হতে হলে ট্রফি জেতার কোনো প্রয়োজন নেই বলে মনে করেন ওয়ানডেতে বাংলাদেশ দলের সহ-অধিনায়ক। উদাহরণ হিসেবে ইংল্যান্ডের নাম বলেন তিনি। সাকিবের ভাষায়, বড় দল হতে হলে ট্রফি জেতা দরকার কিনা সেটা বলা মুশকিল। ট্রফি তো সব দল পায় না। কিন্তু ট্রফি না পেলেও বড় দল হওয়া যায়। ইংল্যান্ড তো বিশ^কাপ জেতেনি। তবুও তো তারা বড় দল।
তবে সেমিতে খেলতে না পারায় আক্ষেপ রয়েছে সাকিবের মনে। তিনি জানেন যে এবার বাংলাদেশ দলের ওপর ভক্তদের প্রত্যাশা অনেক বেশি ছিল। কিন্তু সেমিতে খেলতে না পারায় মানুষের আশা ও প্রশংসার যথার্থ মূল্য দিতে পারেননি তারা। এই আক্ষেপটাই পোড়াচ্ছে দ্বাদশ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের সবচেয়ে সফল ক্রিকেটারকে। এ বিষয়ে সাকিব বলেন, সেমিতে খেলতে পারলে ভালো হতো। এতে পূরণ হতো ভক্তদের প্রত্যাশা।
২০২৩ সালে পাশের দেশ ভারতে বসবে ওয়ানডে বিশ্বকাপের ত্রয়োদশ আসর। সবকিছু ঠিক থাকলে ওই বিশ^কাপে খেলবেন সাকিব। সেবার নিশ্চয় পূরণ করবেন ভক্তদের প্রত্যাশা।

বিষয়: