প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মাজেদুলের পরিবারকে ইসির অর্থ সহায়তা

আগের সংবাদ

নার্সিং পেশার উন্নয়ন ও সম্ভাবনা

পরের সংবাদ

ওয়াসার পানিতে মলের জীবাণু

উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অবশ্যই পালন করতে হবে

প্রকাশিত হয়েছে: জুলাই ৮, ২০১৯ , ৯:৪০ অপরাহ্ণ | আপডেট: জুলাই ৮, ২০১৯, ৯:৪০ অপরাহ্ণ

কাগজ প্রতিবেদক

ঢাকা ওয়াসার সরবরাহকৃত পানির মান নিয়ে বরাবরই প্রশ্ন রয়েছে। রাজধানীবাসীর পানি সরবরাহের একমাত্র প্রতিষ্ঠান ঢাকা ওয়াসার পানির ওপর ন্যূনতম ভরসা করার কোনো উপায় নেই। পানি দুর্গন্ধযুক্ত। পানিতে ময়লা-আবর্জনা-কেঁচো, মলমূত্র ইত্যাদি পাওয়া যাচ্ছে। এ নিয়ে গণমাধ্যমে লেখালেখি, সরকারের নানা উদ্যোগও কম হয়নি। কিন্তু ফলাফল শূন্য।

রাজধানীর কিছু কিছু এলাকার ঢাকা ওয়াসার সরবরাহ করা পানিতে মল ও জীবাণুর অস্তিত্ব পাওয়ার ঘটনায় কী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, তা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। আগামী ২৪ জুলাই এ বিষয়ে শুনানির দিন ঠিক করেছেন আদালত। রাজধানীতে ওয়াসার পানির নমুনা পরীক্ষা সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর রবিবার হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

জানা যায়, রাজধানীর প্রায় দেড় কোটি মানুষের জন্য প্রতিদিন ২৩০ কোটি লিটার পানির চাহিদা থাকলেও এর বিপরীতে ওয়াসার উৎপাদন ক্ষমতা ২১০ কোটি লিটারের মতো। এর ৭৮ শতাংশ তোলা হয় গভীর নলকূপ দিয়ে, বাকিটা বুড়িগঙ্গা ও শীতলক্ষ্যার পাঁচটি শোধনাগারে শোধনের মাধ্যমে। যা শোধনের পরও দূষিত ও মানহীনই থাকছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ওয়াসার ১০টি জোনের মধ্যে চারটি মডস জোন এবং সায়েদাবাদ ও চাঁদনীঘাট এলাকা থেকে সংগৃহীত আটটি নমুনা পানিতে দূষণ পেয়েছে হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত কমিটি। এসব এলাকার পানিতে ব্যাকটেরিয়া, উচ্চমাত্রার অ্যামোনিয়া পাওয়া গেছে। এ ছাড়া কিছু কিছু নমুনায় মলের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।

গত ২১ মে এক আদেশে ঢাকা ওয়াসার পানির উৎস, ১০টি বিতরণ জোন, গ্রাহকদের অভিযোগের ভিত্তিতে ১০টি ঝুঁকিপূর্ণ স্থান এবং দৈবচয়নের ভিত্তিতে ১০টি স্থান থেকে নমুনা সংগ্রহ করে তা পরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। এক গবেষণায় দেখা গেছে, ৬২ ধরনের ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদানে বিষাক্ত হয়ে পড়া বুড়িগঙ্গা ও শীতলক্ষ্যার পানি শোধন করতে হিমশিম খাচ্ছে ঢাকা ওয়াসা।

এ দুটি নদীর পানিতে বিভিন্ন ক্ষতিকর উপাদান এতই বেশি যে ব্যবহারযোগ্য করে তোলার জন্য শোধনের সময় মেশানো হচ্ছে মাত্রাতিরিক্ত ক্লোরিন, এলাম (চুন) ও লাইন (ফিটকিরি)। তারপরও দুর্গন্ধ থাকছে পানিতে। অনেক সময় শোধিত পানি থেকে বের হয় ক্লোরিনের গন্ধ। যদিও ওয়াসার দাবি, শোধিত পানিতে সমস্যা নেই। বিভিন্ন স্থানের পাইপলাইনে রয়েছে অসংখ্য ফুটো বা লিকেজ। এসব ফুটো দিয়ে বর্জ্য ঢুকছে পাইপলাইনের মধ্যে।

একইভাবে বর্জ্য যুক্ত হচ্ছে স্যুয়ারেজ লাইনেও। এ পানি অতিমাত্রায় ফুটানোর পরও পানযোগ্য করতে পারছেন না নগরবাসী। ওই পানি ব্যবহারে চোখ জ্বলা, গা চুলকানোসহ নানা উপসর্গ দেখা যাচ্ছে। কলেরা হাসপাতালেও বেড়ে যায় রোগীদের ভিড়। পানির মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়ে কোনো ধরনের অবহেলার অবকাশ নেই।

রাজধানীতে পানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পানির বিকল্প উৎস যেমন সন্ধান ও ব্যবহার করতে হবে তেমনি ঢাকা ওয়াসার কার্যক্রম আরো বাড়াতে ও গতিশীল করতে হবে। এই মুহূর্তে ঢাকা ওয়াসাকে সরবরাহকৃত পানির বিশুদ্ধতা সংরক্ষণে মনোযোগ দিয়ে প্রয়োজনীয় কার্যব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। যে কোনো মূল্যে বিশুদ্ধ পানির নিশ্চয়তা বিধান করতে হবে। উচ্চ আদালত পানির মান পরীক্ষার যে নির্দেশ দিয়েছেন সেটি যথাযথভাবে পালন হওয়া দরকার।