নৃত্য-ছন্দে অনন্য তাথৈ

আগের সংবাদ

আমার কাছে জরুরি হচ্ছে ইমোশনাল কানেকশন-ঋত্বিক রোশন

পরের সংবাদ

আর নয় জল খরচে দৃশ্যধারণ

প্রকাশিত হয়েছে: জুলাই ৭, ২০১৯ , ৪:৪২ অপরাহ্ণ | আপডেট: জুলাই ৭, ২০১৯, ৪:৪২ অপরাহ্ণ

Avatar

তামিলনাড়ুর রাজধানী চেন্নাইতে এক কলসি পানির জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। সেই পানিও আসছে পানির ট্যাঙ্কে করে। পানীয় জলের হ্রদগুলো শুকিয়ে গেছে। অন্যদিকে সিনেমায় বৃষ্টির একটা দৃশ্য শুট করার জন্য দরকার হয় এরকম বেশ কয়েকটি ট্যাঙ্কার ভর্তি পানি। সাধারণ মানুষ যখন পানির লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছেন, তখন পানির অপচয় করে বৃষ্টির দৃশ্য শুট করতে গিয়ে অনেক পরিচালকই বিবেকের দংশনে ভুগতে শুরু করেছেন। আর সে কারণে ছবিতে বৃষ্টির দৃশ্য একেবারেই না রাখার উদ্যোগ নিলেন নির্মাতারা।
এ প্রসঙ্গে তামিল ছবির পরিচালক এবং ‘ব্লু ওশান ফিল্ম এন্ড টেলিভিশন একডেমি’র পরিচালক জি ধনঞ্জয় বলেন, বৃষ্টির দৃশ্য আপাতত বাদ দেয়া হচ্ছে। পানির এমন সংকটের মধ্যে সিনেমার কাজে পানির অপচয় অপরাধের শামিল। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সাধারণ মানুষদের সচেতন করার একটা প্রয়াস চালানো হচ্ছে।
এই পরিচালক আরো জানান, সিনেমার বিষয়বস্তুর পরিপ্রেক্ষিতে বৃষ্টির দৃশ্য যদি অপরিহার্যও হয় তাহলে শুধুমাত্র জানালার একটি দৃশ্যের মাধ্যমে বৃষ্টির আবহ তৈরি করা হবে। যেখানে এক বালতি পানিতেই কাজ শেষ করা যাবে।
‘পেট্টা’ সিনেমার সহযোগী পরিচালক শ্রীনিবাসন বলেন, এটা খুবই ভালো একটা ভাবনা। কৃত্রিম বৃষ্টির যে দৃশ্য আমরা ছবিতে দেখাই, সেটা সহজেই কম্পিউটারের মাধ্যমে ভিজ্যুয়াল এফেক্টস দিয়ে করা যায়। যদিও গ্রাফিক্স দিয়ে বৃষ্টির দৃশ্য তৈরির খরচা চার থেকে পাঁচ গুণ বেশি। তবুও ভবিষ্যতের কথা ভেবে পানি অপচয় না করাই ভালো।
চলচ্চিত্র পরিচালক এম ভরত কুমার বলেন, চলমান সংকটের আগেও বৃষ্টির দৃশ্যের জন্য পর্যাপ্ত পানি তামিলনাড়–তে কখনো পাওয়া যেত না। পর্যাপ্ত পানি জোগাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হতো এখানকার প্রযোজকদের। এসব কারণে বৃষ্টির দৃশ্য ধারণ করতে হায়দ্রাবাদে পাড়ি জমান চিত্রপরিচালকরা।
আরেক তামিল চলচ্চিত্র পরিচালক এম এস রাজ বলেন, সিনেমার জন্য বৃষ্টির দৃশ্য অপরিহার্য হলেও এমন সংকটের সময়ে এমন দৃশ্যের চিত্রগ্রহণ বন্ধ রাখা উচিত। হয়তো অনেক টাকা ঢাললে পানি পাওয়া যাবে। একটি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির পক্ষে অতিরিক্ত টাকা ঢালাও কোনো সমস্যা নয়। তবে এই পরিস্থিতিতে আমরা কখনই সেটি করব না।
এদিকে জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘বিগ বস’-এরে পরিচালক কমল হাসান শুটিং সেট থেকে সুইমিংপুল সরিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এর বদলে কৃত্রিম প্রযুক্তি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
টেলিভিশন প্রযোজনা সংস্থাগুলোও ধারাবাহিক নাটক বা রিয়েলিটি শোগুলোতে বৃষ্টির দৃশ্য দেখানো বন্ধ করে দিয়েছে।
চেন্নাইয়ের পানি সংকট নজর কেড়েছে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র জগতেরও। লিওনার্দো দ্য ক্যাপ্রিও বিবিসির একটি প্রতিবেদন সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করে লিখেছেন, একমাত্র বৃষ্টিই চেন্নাই শহরকে রক্ষা করতে পারে।
উল্লেখ্য, বিভিন্ন গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ২০৩০ সাল নাগাদ ভারতের ৪০ শতাংশ মানুষের কাছে খাওয়ার যোগ্য পানি থাকবে না। গবেষকরা আশঙ্কা করছেন যে আগামী ১৫ মাসের মধ্যে দিল্লি, চেন্নাই, বেঙ্গালুরুসহ প্রধান প্রধান ২১টি শহরে পানির চরম সংকট দেখা দেবে।