নেইমারকে ক্ষমা চাইতে হবে: মেসি

আগের সংবাদ

ফেরার সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে

পরের সংবাদ

ভূমিধসের আশঙ্কা

ঝুঁকিপূর্ণ রোহিঙ্গা বসতি সরিয়ে নিতে হবে

প্রকাশিত হয়েছে: জুলাই ৬, ২০১৯ , ৯:৪৪ অপরাহ্ণ | আপডেট: জুলাই ৬, ২০১৯, ৯:৪৪ অপরাহ্ণ

কাগজ প্রতিবেদক

কয়েক দিনের টানা বর্ষণে কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে দেখা দিয়েছে পাহাড়ধসের আতঙ্ক। গত বুধবার রাতে কুতুপালং ক্যাম্পে পাহাড়ের একটি অংশ ধসে পড়লেও কোনো ক্ষতি হয়নি। তবে এটি সতর্কতা সংকেত বলা যায়। কক্সবাজারের ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়গুলো থেকে রোহিঙ্গা বসতি এখনি সরিয়ে না নিলে ভূমিধসে বড় ধরনের দুর্যোগ দেখা দিতে পারে।

জানা যায়, উখিয়া-টেকনাফের ৩৪টি ক্যাম্পে অস্থায়ীভাবে বাস করছে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা। এদের বেশিরভাগই পাহাড়ের টিলায় ঝুপড়ি ঘরে বাস করছে। কয়েক দিনের টানা বর্ষণে উখিয়া-টেকনাফের পাহাড়ে বাঁশ ও পলিথিনে তৈরি অনেক ঝুপড়ি ঘর বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। বৃষ্টি ও ঝড়ো বাতাস রোহিঙ্গা শিবিরে দুর্ভোগ বাড়িয়েছে। বেশিরভাগ ত্রিপলের চাল থেকে বৃষ্টির পানি পড়ছে। শত শত পরিবার দুর্ভোগে পড়েছে।

বাতাসে অনেক পরিবারের ঘরের ছাউনি উড়ে গেছে। ভূমিধসের জন্য প্রধানত পাহাড়ি এলাকায় জুমচাষ, পাহাড় কাটা, বন নিধন, উচ্চতা, ভূমির ঢাল, ভূমির গঠন, ভূকম্পন, অধিক বৃষ্টিপাত ও দুর্বল ভূমি ব্যবস্থাপনার কারণগুলো চিহ্নিত করা হয়। তিন দশক ধরে ভূমিধসের সংখ্যা যেমন ক্রমে বেড়ে চলেছে, তেমনি হতাহতের সংখ্যাও বাড়ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে রোহিঙ্গা বসতি এলাকায় পাহাড় কেটে ঘরবাড়ি নির্মাণের ফলে ভূমিধসের আশঙ্কা প্রবলভাবে দেখা দিয়েছে। অন্তত দেড় লাখ মানুষ বন্যা এবং ভূমিধসের মারাত্মক ঝুঁকিতে আছে। তাদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেয়া দরকার। এত বিপুলসংখ্যক মানুষের জন্য পাহাড়-জঙ্গলে নিরাপদ আবাসন নির্মাণের বিষয়টি চ্যালেঞ্জের। ভূমিধস ও বন্যা ঠেকাতে সরকারসহ বিভিন্ন সহযোগী সংস্থা যে তৎপরতা চালাচ্ছে, তা সার্বিক সংকটের তুলনায় সামান্য।

কারণ ক্যাম্পের যেসব অস্থায়ী ঘরে লাখ লাখ রোহিঙ্গার বসবাস সেটিকে কোনোভাবেই নিরাপদ বলা যায় না। এ অবস্থায় সরকার পর্যায়ক্রমে রোহিঙ্গাদের নোয়াখালীর ভাসানচরে সরিয়ে নেয়ার একটি প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করছে। দুই হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের সাময়িক বসবাসের জন্য সব সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করেছে সরকার। গত এপ্রিল মাসের মধ্যেই এই স্থানান্তর প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার কথা ছিল।

তবে কিছু এনজিওসহ জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক কমিশন (ইউএনএইচসিআর) নিরাপত্তা ঝুঁকির অজুহাত তুলে এর বিরোধিতা করার কারণে স্থানান্তর প্রক্রিয়া ঝুলে আছে। প্রাথমিক পর্যায়ে এক লাখ রোহিঙ্গা ভাসানচরে নেয়ার কথা জানানো হলেও ঠিক কবে নাগাদ সেটি শুরু হবে সেটি এখনো স্পষ্ট নয়। রোহিঙ্গাদের স্থানান্তরের বিষয়ে সরকারকেই উদ্যোগী হয়ে মুখ্য ভূমিকা পালন করতে হবে।