অভিনয়ে ফিরলেন শখ

আগের সংবাদ

অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন হিমেশ রেশমিয়া

পরের সংবাদ

প্রতারকদের খেলাপি বলার সুযোগ নেই : আতিউর রহমান

কাগজ প্রতিবেদক :

প্রকাশিত হয়েছে: জুলাই ৪, ২০১৯ , ১:২৪ অপরাহ্ণ

প্রতারণার মাধ্যমে যারা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে আর ফেরত দেয় না তাদের খেলাপি বলতে নারাজ বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান। ব্যবসা খারাপের জন্য হঠাৎ খেলাপিদের সহায়তা আর প্রতারক বা ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের পক্ষে মত দেন এই অর্থনীতিবিদ।
হলমার্কের ঋণ জালিয়াতির ঘটনা উল্লেখ করে আতিউর রহমান বলেন, এই ঋণের প্রস্তাব সোনালী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদেও উপস্থাপন করা হয়নি। অর্থাৎ যোগসাজশে ব্যাংক থেকে ঋণের নামে এই টাকা লুট করা হয়েছে। পরে আর ঋণের টাকা ফেরত দেয়নি। এদের কোনোভাবেই খেলাপি বলা যাবে না। এ ধরনের ঘটনা যারা ঘটিয়েছে তারা ক্রিমিনাল। তাদের সঙ্গে সেই ধরনের আচরণ করতে হবে। সরকার সেটাই করেছে। তবে ব্যবসা করতে গিয়ে কোনো কারণে ক্ষতির মুখে পড়ে ঋণের টাকা ফেরত না দিতে পারলে তাদের বিভিন্ন ধরনের সহায়তার মাধ্যমে আবার মূল ধারায় ফিরিয়ে আনতে হবে। যাতে তারা আবার ঋণের টাকা ফেরত দেয়ার সক্ষমতা অর্জন করতে পারে। আর সেটা করা গেলে শিল্পায়ন বাধাগ্রস্ত হবে না। এগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকই করতে পারে। শুধু তাদের সেটা করার সুযোগ দিতে হবে।
গতকাল বুধবার উন্নয়ন সমন্বয় আয়োজিত ‘এবারের বাজেট ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন’ শীর্ষক নাগরিক সম্মেলনে সভাপতি বক্তব্যে ড. আতিউর রহমান এসব কথা বলেন। উন্মুক্ত আলোচনায় আরো অংশগ্রহণ করেন ইস্ট-ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. এ কে এনামুল হক, বিআইবিএমের সাবেক মহাপরিচালক তৌফিক আহমেদ চৌধুরী, বিআইডিসের জ্যেষ্ঠ গবেষক নাজনীন আহমেদ, ড. এস এম জুলফিকার আলী, ড. মোহাম্মদ ইউনুস এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. নাসিরুদ্দিন আহম্মেদ প্রমুখ।
ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়ার ক্ষেত্রে সরকারকে নমনীয় থাকতে হবে উল্লেখ করে আতিউর রহমান বলেন, এর কারণে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যেতে পারে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ শুধু বাংলাদেশ ব্যাংকের একার কাজ নয়। সবাইকে মিলে এটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়নে এনবিআর বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে জানিয়ে সাবেক এ গভর্নর বলেন, ভ্যাটের বহু স্তর থাকায় ফাঁকি দেয়ার প্রবণতা থাকতে পারে। আবার অনেকেই আর্থিক প্রতিবেদনে কারসাজি করতে পারে। নতুন আইন বাস্তবায়নে অটোমেশন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এসব ঝুঁকি মোকাবেলায় এনবিআরকে প্রস্তুত থাকতে হবে।
বাজেটে পুঁজিবাজারের জন্য বেশ কিছু প্রণোদনা দেয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কথা চিন্তা করে সরকার তালিকাভুক্ত কোম্পানির রিটেইনড আর্নিংস এবং রিজার্ভের ওপর কর বসানো হয়েছে। তবে এত ক্ষুদ্র আর্থিক পরিমÐলে সরকারের হাত না দেয়াই উচিত। আবার তালিকাভুক্ত ব্যাংক এ ধরনের ব্যবস্থার কারণে দ্বৈত করের আওতায় পড়তে পারে। কারণ ব্যাংকের নগদ লভ্যাংশ দেয়ার বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদনের বিষয় রয়েছে। এ ক্ষেত্রে বিএসইসি এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের মধ্যে সমন্বয় থাকা দরকার। বাজেটে বেশ কিছু ভালো দিক আছে জানিয়ে আতিউর রহমান বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। স্টার্ট আপের জন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া আর্থিক অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি রয়েছে। এগুলো বাজেটের ভালো দিক।