ব্যর্থতার দৃশ্যমান এক চিত্র

আগের সংবাদ

শিশু শাহীনের ভ্যানটি উদ্ধার, আটক ৩

পরের সংবাদ

এত ছোট দেশ, এত অধিক মানুষ

প্রকাশিত হয়েছে: জুলাই ১, ২০১৯ , ৮:৫৬ অপরাহ্ণ | আপডেট: জুলাই ১, ২০১৯, ৮:৫৬ অপরাহ্ণ

মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী

অধ্যাপক (অবসরপ্রাপ্ত), ইতিহাসবিদ ও কলাম লেখক।

মানসম্মত শিক্ষা ছাড়া, দক্ষ জনগোষ্ঠী গড়ে তোলা ছাড়া, মেধাবী, সৃজনশীল, চিন্তাশীল, উদ্ভাবনী ক্ষমতাসম্পন্ন তরুণ প্রজন্ম গড়ে তোলা ছাড়া দেশে জনসম্পদ তৈরির সুযোগ থাকবে না। সুতরাং আমাদের মৌলিক এই প্রশ্নের সমাধানের পথ শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যেই খুঁজে নিতে হবে। সেজন্য শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে একুশ শতকের উপযোগী, জ্ঞান ও দক্ষতা, দৃষ্টিভঙ্গি গড়ার ব্যবস্থা, মেধা-মনন সৃষ্টির সব আয়োজন ও উপাদান সম্পন্ন করতেই হবে।

বাংলাদেশ এই মুহূর্তে পৃথিবীর সবচেয়ে জনবহুল দেশ। যদিও বলা হয়ে থাকে আমাদের জনসংখ্যা এখন ১৬ কোটি ছাড়িয়ে গেছে, কিন্তু জনসংখ্যা নিয়ে যারা কাজ করেন তাদের দাবি এরচেয়ে অনেক বেশি মানুষ বাংলাদেশে বসবাস করছে। বাংলাদেশে এই মুহূর্তে রোহিঙ্গা এবং বিহারি বলে পরিচিতদের মিলিয়ে ২০ লাখ বিদেশি আশ্রয় শিবিরে অবস্থান করছে। আমাদের শহরগুলো এখন বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠেছে। এক কোটির বেশি মানুষ আমাদের পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে কাজ করছেন। এমন একটি জনসংখ্যার বাস্তবতায় আমরা বেশ হিমশিম খাচ্ছি। তারপরও গত এক-দেড় দশকে আমাদের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা বেশ উৎসাহব্যঞ্জক। পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির প্রশংসা করছে। আমাদের কৃষি অর্থনীতি এখন বেশ তুঙ্গে। গার্মেন্টস শিল্পে আমরা বিশ্বে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছি। ওষুধ, মিঠাপানির মাছ চাষসহ আরো কিছু উৎপাদনে বাংলাদেশের অর্জন দেশে-বিদেশে প্রশংসিত হচ্ছে। এর ফলে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হতে যাচ্ছে, অচিরেই উন্নত সমৃদ্ধিশালী দেশে রূপান্তরিত হওয়ার স্বপ্ন আমরা দেখতে পাচ্ছি। মূলত বাংলাদেশ একটি পশ্চাৎপদ আর্থসামাজিক অবস্থা থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ ঘটানোর ব্যাপক পরিবর্তনশীলতার মধ্যে অবস্থান করছে। এর পেছনে একদিকে আমাদের সরকারে নীতি কৌশল প্রণয়নের ভূমিকা রয়েছে, অন্যদিকে কৃষি, শ্রমজীবী মানুষ এবং উদ্যোক্তাদের হাড়ভাঙা খাটুনি রয়েছে। এই দুইয়ের সমন্বয়ে বাংলাদেশ একটা দ্রুত বর্ধনশীল দেশের পরিচিতি লাভ করেছে।
মনে রাখতে হবে এমন বর্ধনশীল আর্থসামাজিক রাষ্ট্রব্যবস্থা বড় ধরনের সংকটে পড়ার সম্ভাবনাও থাকে। সেই সংকটটি একাধিক আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্র থেকে সংঘটিত হতে পারে। আমাদের মনে হচ্ছে বাংলাদেশে স্বাধীনতার ৪৮ বছরে জনসংখ্যা যে হারে বৃদ্ধি পেয়েছে তা আমাদের জন্য একদিকে সম্পদ সৃষ্টিতে অবদান রাখার সুযোগ সৃষ্টি করলেও এটি বৃহত্তর অর্থে বাংলাদেশের সমৃদ্ধিতে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে। কেননা জনসংখ্যা তখনই জনসম্পদে পরিণত হতে পারে যখন বেশিরভাগ মানুষই সম্পদ সৃষ্টিতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অবদান রাখে কিংবা এই প্রক্রিয়ায় সব মানুষকে যুক্ত রাখার ক্ষেত্রে অবদান রাখে। আমাদের দেশে নীতিনির্ধারক মহলে একটি ধারণা বেশ প্রচলিত ছিল যে আমাদের জনসংখ্যা সম্পদ সৃষ্টিতে অবদান রাখছে। দেশের ভেতরে মানুষ কাজ করে সম্পদ উৎপাদন ও বণ্টনে অবদান রাখতে আবার বিপুলসংখ্যক মানুষ বিদেশ থেকে রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছে, দেশীয় গার্মেন্টস ও অন্যান্য রপ্তানিযোগ্য পণ্য থেকে বিপুল অর্থ লাভ করে বাংলাদেশ সমৃদ্ধির দিকে দ্রুত এগিয়ে যাবে। ধারণাটি এক অর্থে মহৎ এবং জনগণের ওপর আস্থার বহিঃপ্রকাশ বলে ধরে নিতে হয়। কিন্তু এটি দীর্ঘ দিনব্যাপী এমন সরলরেখায় চলবে না। জনসংখ্যার পুরো অংশকে যদি শিক্ষাদীক্ষায় দক্ষ, অভিজ্ঞ, জ্ঞানসমৃদ্ধ করা না যায় তাহলে জনবহুল, সীমিত সম্পদ ও জায়গার দেশ দ্রুতই মানুষের নানা অপরাধ, অপকর্ম এবং সাংঘর্ষিকতায় ভরে উঠতে বাধ্য। বাংলাদেশ রাষ্ট্র এর জনসংখ্যার তিন ভাগের এক ভাগ তথা ছয় কোটি শিশুকে মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ করে দেয়ার মতো অর্থনৈতিক ভিত্তি তৈরি করতে পারেনি। একইসঙ্গে এত বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর জন্য মানসম্মত শিক্ষার ব্যবস্থা করতে প্রয়োজনীয় শিক্ষক এবং শিক্ষা উপকরণ ও অবকাঠামো তৈরি করার বাস্তবতায় বাংলাদেশ নেই। রাতারাতি এসব প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করা বাংলাদেশের পক্ষে মোটেও সম্ভব নয়। সে কারণে আমাদের গড়ে ওঠা অপরিকল্পিত শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে বেশিরভাগ শিক্ষার্থী হয় ঝরে পড়ছে, নতুবা অর্ধশিক্ষিত তথা অদক্ষ, অযোগ্য, শিক্ষার্থী হিসেবে শিক্ষাক্রম ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে।
আবার যারা উচ্চশিক্ষা সমাপ্ত করছেন তাদের বেশিরভাগই মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ফলে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে খুব বেশি দক্ষ জনসম্পদে তৈরি হওয়া শিক্ষার্থী বের হচ্ছে না। এদের বেশিরভাগই আধুনিক জ্ঞানবিজ্ঞান, প্রযুক্তি বৃত্তিমূলক কাজকর্মে খুব একটা পারদর্শিতা অর্জন করছে না। আবার বেশিরভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই দায়সারাভাবে চলায় সেখানকার শিক্ষার্থীদের মধ্যে সামাজিক ও রাজনৈতিক নানা অপশক্তির কর্মকাণ্ড ও প্রভাবে অনেকেই জড়িয়ে পড়ছে। এর ফলে আমাদের সম্ভাবনাময় তরুণদের একটি বড় অংশই শিক্ষা-দীক্ষা, জ্ঞান ও দক্ষতা, পারদর্শিতা ইত্যাদিতে যোগ্য না হওয়ার কারণে কর্মক্ষেত্রও খুঁজে নিতে পারছে না। বাংলাদেশে লাখ লাখ উচ্চশিক্ষা সনদধারী শিক্ষার্থী বেকার বলে সবাই জানেন। অথচ আমাদের দেশকে পাঁচ লাখ বিদেশি উচ্চ জ্ঞানও দক্ষতাসম্পন্ন বিশেষজ্ঞকে আনার অনুমতি দিতে হয়েছে যাতে ব্যক্তি খাতে উৎপাদন ব্যবস্থা ব্যাহত না হয়।
মনে রাখতে হবে শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে মানের সংকট থাকলে দেশে শিক্ষিত, মেধাবী, তরুণ প্রজন্ম তৈরি হওয়া মোটের ওপর অসম্ভব। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে যেসব শিক্ষার্থী বের হচ্ছে তাদের মধ্যে খুব সামান্য অংশই সৃজনশীল উদ্ভাবনী জ্ঞানচর্চা নিজেদের যুক্ত করতে পারছে। বাকিদের বড় অংশই সেভাবে গঠিত হতে পারছে না। বেশিরভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই পরিচালিত হচ্ছে নানা অদক্ষ শিক্ষক এবং পরিচালনা পরিষদ দ্বারা। সেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিয়মনীতি ও শৃঙ্খলায় শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধ করতে খুব একটা সক্ষম নয়। বর্তমানে শিক্ষার সঙ্গে কোচিং বাণিজ্য একাকার হয়ে গেছে। তারপরে বইপুস্তক হারিয়ে গেছে। গাইড বই দেশের সর্বোচ্চ শিক্ষায় স্থান করে নিয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রয়েছে অসংখ্য অনিয়ম, দুর্নীতি এবং শিক্ষার মৌলিক বিষয়বহির্ভূত ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে প্রকৃতপক্ষেই আমাদের শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণীদের মনোজগৎ পরিশীলিতভাবে গড়ে তোলা সম্ভব হচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে অভিভাবকদের মধ্যেও রয়েছে নানা ধরনের দুর্বলতা। শিক্ষার্থীদের বড় অংশই এখন সাহিত্য, সমাজ ভাবনা, শিল্প ভাবনা, বিজ্ঞানচিন্তা এবং বিশ্বজগৎ নিয়ে জ্ঞান আহরণের বইপুস্তক পড়া থেকে অনেক দূরে সরে গেছে।
এ ছাড়া দেশে ব্যবসা, বাণিজ্য, প্রশাসনসহ, সর্বত্র যে ধরনের নীতি-নৈতিকতা ও সংস্কৃতি চর্চা থাকার কথা ছিল যা একটি দ্রুত বিকাশমান রাষ্ট্র ও সমাজের জন্য জরুরি তার ছিটেফোঁটাও যেন কোথাও দেখা যাচ্ছে না। সমাজে দুর্বৃত্তায়িত গোষ্ঠী, ভূমি, নদী, জলাশয়, অন্যের সম্পদ, রাষ্ট্রের সম্পদ সব যেন দখল করে বসে আছে। সেভাবেই তারা সমাজে ধনিক শ্রেণিরূপে পরিচিতি পাচ্ছে। আমাদের রাজনীতিতেও নেই কোনো শিক্ষার সংস্কৃতির চর্চা। সেখানেও প্রাধান্য পাচ্ছে কম শিক্ষিত, সন্ত্রাসীসহ নানা ধরনের পেশিশক্তি। বিভিন্ন চাকরিতে তদবির, আর্থিক লেনদেন ইত্যাদিতে অনেক অযোগ্য, অদক্ষ ও নীতিবিবর্জিত মানুষ জায়গা করে নিচ্ছে। দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোতে অদক্ষ, মানুষের সংখ্যা যেমন ভরে যাচ্ছে একইভাবে দুর্নীতিপরায়ণ মানুষও তাদের জাল সর্বত্র বিস্তার করে নিতে সক্ষম হচ্ছে। এর ফলে সমাজে মেধাবীদের জায়গা সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ ক্রমেই জনসম্পদের চাইতে জনভারাক্রান্ত দেশে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। দেশের সর্বক্ষেত্রেই আমরা এখন যেসব অনিয়ম দুর্নীতি হতে দেখছি তা দীর্ঘদিনের লালিত অপসংস্কৃতি। আমাদের বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানে কত অনিয়ম বাসা বেঁধে আছে তার কিছু কিছু নমুনা আমরা সম্প্রতি উচ্চ আদালতের নির্দেশে বিএসটিআই, ভোক্তা অধিকার ও বিআইডব্লিউটিসির অভিযানে দেখতে পেয়েছি। এ ধরনের অভিযান দেশব্যাপী পরিচালিত হলে দেখা যাবে আমাদের অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই নানা অনিয়মে পরিচালিত হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠান জেনেশুনেই এমন সব খাদ্যদ্রব্য বাজারজাত করছে যা মানুষের স্বাস্থ্যহানিতে ভরপুর।
অনেক বড় বড় প্রতিষ্ঠান এসব অপকর্ম যুগ যুগ ধরে করে আসছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মালিকরা লেখাপড়া জানেন না, দুনিয়ার খোঁজখবর রাখেন না, কিসে মানুষের স্বাস্থ্যহানি ঘটতে পারে- তা জানেন না এমনটি বলার কোনো কারণ নেই। দেশে গত কয়েক বছর ধরেই পত্রপত্রিকায় ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াতে ভেজাল খাদ্য, ভেজাল পণ্যসামগ্রী, বেজাল ওষুধ, কেমিক্যালস ইত্যাদি নিয়ে অনেক আলোচনা, সমালোচনা হচ্ছে, সর্তক করানো হচ্ছে। কিন্তু তারপরও নিজে থেকে সংশোধন করার মনোবৃত্তি বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানেরই দেখা যায়নি। এদের জরিমানা করেও খুব বেশি পরিবর্তন করানো যাচ্ছে না। বিষয়গুলো আমাদের পীড়িত করছে। কিন্তু মালিকদের মধ্যে সংশোধনের লক্ষণ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। কারণ সম্ভবত তাদের বেড়ে ওঠার পেছনে নীতি-নৈতিকতার স্খলনের ব্যাপক ভিত্তি ছিল। আমাদের ব্যবসা বাণিজ্যের বাইরে সবক’টি প্রতিষ্ঠানেই নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে অর্থ ছাড়া তেমন কোনো কাজ হয় না। আমাদের সেবাধর্মী সব প্রতিষ্ঠানেই অনিয়ম ও দুর্নীতি জেঁকে বসে আছে। সেখানেও যোগ্য লোকের জায়গা খুব কম হচ্ছে। যে প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় যে ধরনের যোগ্যতার একান্ত প্রয়োজন, সেখানে ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে। আমাদের অসংখ্য প্রতিষ্ঠানে অদক্ষ, অযোগ্য কর্মীরা, নকল বা অর্থের বিনিময়ে সনদ নিয়ে চাকরি করছে। বিশেষ করে আমাদের পরিবহন খাত এ ক্ষেত্রে বড় ধরনের দৃষ্টান্ত হয়ে আছে। যে কারণে পরিবহন খাতে নৈরাজ্য থামছে না, দুর্ঘটনা রোধ করা যাচ্ছে না। আমাদের চিকিৎসা খাতে এখন সেবার চাইতে অর্থের শক্তি অনেক বেশি কার্যকর হয়ে পড়েছে। ফলে মানুষ প্রকৃত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, চিকিৎসার জন্য তাদের ব্যয়ভারও বেড়ে গেছে। যাদের আর্থিক সঙ্গতি আছে তারা বিদেশে চিকিৎসার জন্য পাড়ি জমান। আর দেশের অভ্যন্তরে অসংখ্য বেসরকারি হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার চলছে অদক্ষ, অযোগ্য ব্যক্তিদের দ্বারা। যেগুলো মানুষের পকেট খালি করছে। চিকিৎসার নামে নানা ধরনের ভুল চিকিৎসা চলছে। দেশে জনশক্তি রপ্তানির পেছনে চলছে নানান দালাল চক্রের টাকা হাতিয়ে নেয়ার কারসাজি। কোথায় নিয়ম কার্যকর আছে সেটি নিয়েই প্রশ্ন। এমন একটি বাস্তবতায় বাংলাদেশের বর্তমান আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা কতটুকু দক্ষতার সঙ্গে অগ্রসর হবে বা করা যাবে তা নিয়ে আমাদের নীতিনির্ধারক মহলের নতুন করে ভাবতে হবে। সমস্যার ভিতরে দৃষ্টি দিতে হবে। সমাধানের উপায় খুঁজে বের করতে হবে। মনে রাখতে হবে মানসম্মত শিক্ষা ছাড়া, দক্ষ জনগোষ্ঠী গড়ে তোলা ছাড়া, মেধাবী, সৃজনশীল, চিন্তাশীল, উদ্ভাবনী ক্ষমতাসম্পন্ন তরুণ প্রজন্ম গড়ে তোলা ছাড়া দেশে জনসম্পদ তৈরির সুযোগ থাকবে না। সুতরাং আমাদের মৌলিক এই প্রশ্নের সমাধানের পথ শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যেই খুঁজে নিতে হবে। সেজন্য শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে একুশ শতকের উপযোগী, জ্ঞান ও দক্ষতা, দৃষ্টিভঙ্গি গড়ার ব্যবস্থা, মেধা-মনন সৃষ্টির সব আয়োজন ও উপাদান সম্পন্ন করতেই হবে। তাহলেই উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার জন্য যে জনসম্পদের প্রয়োজন হবে সেটি আমাদের মধ্য থেকেই গড়ে উঠবে।

মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী : অধ্যাপক (অবসরপ্রাপ্ত), ইতিহাসবিদ ও কলাম লেখক।