আমিশার বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ!

আগের সংবাদ

ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে ডিএনসিসির রোড-শো

পরের সংবাদ

কেমন গেল সিনেমার ছয় মাস?

স্বাক্ষর শওকত

প্রকাশিত হয়েছে: জুন ২৯, ২০১৯ , ৬:৫২ অপরাহ্ণ

দেখতে দেখতে চলে গেল ২০১৯ সালের প্রথম ছয় মাস। ঢাকাই সিনেমার জন্য এই ছয় মাস ছিল হতাশার। গেল ছয় মাসে ছবির নির্মাণ কমেছে আশঙ্কাজনকভাবে। গত কয়েক বছর ধরেই ছবির নির্মাণ কমছিল। তবে নির্মাণে এতটা ধস কখনোই নামেনি। ছয় মাসে নতুন ছবির খবর পাওয়া গেছে খুব কম। ছয় মাসের শেষ প্রান্তে শাকিব খান একসঙ্গে চারটি নতুন ছবি নির্মাণের ঘোষণা দেন। ঘোষণা এসেছে দীপংকর দীপনের নতুন ছবিরও। প্রথম ছবির শুটিং শুরু করেছেন চয়নিকা চৌধুরী। এরকম কিছু ছবির খবর ছাড়া ইন্ডাস্ট্রিতে তেমন সুখবর ছিল না বললেই চলে। নির্মাণের সঙ্গে সঙ্গে ধস নেমেছে ব্যবসায়ও।
ছয় মাসে মুক্তিপ্রাপ্ত ছবিগুলোর মধ্যে কোনো ছবিই ‘হিট’ হয়নি। ছয় মাসের মধ্যে ব্যবসায়িক দিক থেকে একমাত্র ‘পাসওয়ার্ড’ লোকসানের হাত থেকে বেঁচেছে। বছরের বাকি সব ছবি কমবেশি লোকসানের মুখোমুখি হয়েছে। মুক্তিপ্রাপ্ত ছবিগুলোর মধ্যে কম বাজেটের ছবির পরিমাণই বেশি। বড় বাজেটের ছবি মুক্তি পেয়েছে কম। ঈদে শাকিব খান অভিনীত ‘পাসওয়ার্ড’ ও ‘নোলক’ ছাড়া বড় বাজেটের ছবি ছিল না বললেই চলে। বড় বাজেটের ছবির অভাবে সিনেমা হলগুলো হাপিত্যেশ করেছে। গত বছর থেকেই বড় বাজেটের ছবির সংকট ছিল। বছরের শুরুতে সংকট ঘনায়মান দেখে হল মালিকরা সিনেমা হল বন্ধের হুমকি দেন। ভারতীয় ছবি আমদানি সহজ করার জন্য হল মালিকরা ধর্মঘটের ডাক দেন। পরে সরকারের আশ্বাসে আন্দোলন স্থগিত করেন।
ছয় মাসে সিনেমায় বড় ঘটনা বলতে সংশ্লিষ্টরা দেখছেন প্রদর্শকদের হার্ডলাইনে চলে যাওয়াকেই। ছবির সংকটে ছয় মাস ভুগেছে সিনেমা হলগুলো। আগামী ছয় মাসেও এই সংকট কাটিয়ে ওঠার সম্ভাবনা নেই হলগুলোর। অন্যান্য বছর আমদানিকৃত ছবির মধ্য দিয়ে হলগুলো চালু থাকলেও এ বছর আমদানিকারকরা কোণঠাসা হয়ে আছেন। তাদের তৎপরতা তেমন একটা দেখা যায়নি। ‘বিসর্জন’ ছাড়া আর কোনো ছবি আমদানি করা সম্ভব হয়নি। আমদানির পাইপলাইনে বেশ কিছু ছবি থাকলেও প্রথম ছয় মাস ইন্ডাস্ট্রি চলেছে আমদানি ছাড়াই। যৌথ প্রযোজনার ছবিও সুবিধাজনক অবস্থানে ছিল না। মাত্র একটি ছবি মুক্তি পেয়েছে এ ধারার। ‘প্রেম আমার টু’ নামের ছবিটি দর্শক টানতে না পারায় হতাশা আরো বেড়েছে।

গেল ছয় মাসে মুক্তিপ্রাপ্ত ছবিগুলোর মধ্যে আলোচনায়-সমালোচনায় সবচেয়ে নজরকাড়া ছিল মালেক আফসারী পরিচালিত ও শাকিব খান প্রযোজিত ‘পাসওয়ার্ড’। রেকর্ডসংখ্যক সিনেমা হলে মুক্তি পেয়েও ছবিটি সমালোচিত হয় নকলের অভিযোগে। পরিচালক আফসারীর অতিকথনে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠেন সিনেমা সংশ্লিষ্টরা। দিনশেষে ‘পাসওয়ার্ড’ ব্যবসায়িক খরায় কিছুটা আশার আলো দেখায় যা মরুভ‚মির বুকে একফোঁটা বৃষ্টি মাত্র। বছরের প্রথম অভিনীত ছবি হিসেবে শাকিব খানের কাছ থেকে আরো ব্যবসা আশা করা হয়েছিল। তার অভিনীত আরেকটি ছবি ‘নোলক’ মারাত্মকভাবে ব্যর্থ হয়। শাকিব খানের ছবির ‘এই ভালো এই মন্দ’ ধরনের ব্যবসা চাঙ্গা করতে পারেনি সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিকে। নতুন নতুন ছবির ঘোষণা দিয়ে মাঠ গরম রাখলেও ছবিগুলো কবে শুরু হবে, ইন্ডাস্ট্রিতে ছবিগুলোর প্রভাব কেমন হবে, এসবই ভবিষ্যতের ভাবনা। বতর্মানে সিনেমায় শাকিব-ম্যাজিক পুরোপুরি কাজ করছে না, এটা সুস্পষ্ট।
শাকিব খান ছাড়া অন্য নায়কদের মধ্যে ছয় মাসে আলোচিত হয়েছেন সিয়াম আহমেদ। তৌকির আহমেদ পরিচালিত ‘ফাগুন হাওয়ায়’ রুচিশীল দর্শকদের আপন লাগলেও ব্যবসা করতে পারেনি। ফলে সিয়ামের ঝুলিতে হিট ছবি আসেনি। গত বছর তিনি যেভাবে এগিয়ে এসেছিলেন, প্রথম ছয় মাসে এ বছর ততটাই পিছিয়ে গেছেন। তাসকিন রহমান অভিনীত ‘যদি একদিন’ এবং ‘বয়ফ্রেন্ড’ মুক্তি পেয়েছে। তবে তিনি ছবি দুটির কারণে নয়, আলোচিত হয়েছেন বিয়ের পিঁড়িতে বসে। শুভ অভিনীত কোনো ছবি মুক্তি পায়নি। অচিরেই মুক্তি পাবে গোলাম সোহরাব দোদুল পরিচালিত ‘সাপলুডু’। বাপ্পি ‘দাগ হৃদয়ে’ ছবিতে ব্যর্থ হলেও আলোচনায় এসেছে দীপংকর দীপনের নতুন ছবি ‘ঢাকা ২০৪০’ এ চুক্তিবদ্ধ হয়ে।

নায়িকাদের মধ্যে কলকাতার শ্রাবন্তী চ্যাটার্জি ‘যদি একদিনে’ নজর কেড়েছেন। পূজা চেরী ‘প্রেম আমার টু’তে আশানুরূপ দর্শক টানতে পারেননি। শবনম বুবলী ‘পাসওয়ার্ডে’ শাকিব খানকে সঙ্গে নিয়ে দর্শকদের খুশি করেছেন। ‘নোলক’ নিয়ে ববি যতটা গর্জেছিলেন, ততটা বর্ষাতে পারেননি। তিশা অভিনীত ‘ফাগুন হাওয়ায়’ মুক্তি পেয়েছে। দেশে-বিদেশে ঘুরেছেন মুক্তি প্রতীক্ষিত ‘শনিবার বিকেল’ নিয়ে। চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন ‘ঢাকা ২০৪০’-এ। বিদ্যা সিনহা মিমের ‘দাগ হৃদয়ে’ খুব একটা দর্শক মন ভরাতে পারেনি। পরীমণি অভিনীত ‘আমার প্রেম আমার প্রিয়া’ ফ্লপ হয়েছে। নুসরাত ফারিয়া অভিনীত ‘শাহেনশাহ’র মুক্তি পিছিয়ে গেছে। তাকে পর্দায় দেখতে পাননি দর্শকরা। মহিয়া মাহি অভিনীত ‘অন্ধকার জগত’ মুক্তি পেয়েছে। ছবিটি মাহির ক্যারিয়ারে ইতিবাচক কিছুই যোগ করতে পারেনি। ছয় মাসে মুক্তিপ্রাপ্ত ছবিগুলোর মধ্যে সিনেমা হলে প্রভাব বিস্তার করতে পেরেছে হাতেগোনা। বেশির ভাগ ছবিই মিডিয়ায় আলোচিত হয়েছে নানা কারণে। কিছু ছবি প্রশংসিত হয়েছে। কিন্তু ব্যবসায়িক বিচারে কিংবা দর্শক উপস্থিতির বিচারে আলোচিত ছবি একেবারেই কম। ছয় মাসে মুক্তিপ্রাপ্ত ছবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- আই এম রাজ, দাগ হৃদয়ে, আমার প্রেম আমার প্রিয়া, রাত্রির যাত্রী, প্রেম আমার টু, অন্ধকার জগত, যদি একদিন, বউবাজার, লাইভ ফ্রম ঢাকা, তুই আমার রানী, প্রতিশোধের আগুন, বয়ফ্রেন্ড, আলফা, ভালোবাসার রংধুন ইত্যাদি।