পর্দায় ফিরে আসছেন তারা

আগের সংবাদ

টস হেরে ফিল্ডিংয়ে পাকিস্তান

পরের সংবাদ

আমদানি ছবিতে সমাধান খুঁজছে ইন্ডাস্ট্রি

মেলা প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: জুন ২৯, ২০১৯ , ৩:০৫ অপরাহ্ণ

চলতি বছর মুক্তিপ্রাপ্ত ছবির সংখ্যার দিকে তাকিয়ে আঁতকে উঠছেন সিনেমাওয়ালারা। সিনেমার ইতিহাসে কখনোই এত কম ছবি মুক্তি পায়নি। ছবির এই সংকট ছিল অনেকটাই অনুমেয়। কয়েক বছর ধরেই ছবির নির্মাণ কমছে। প্রযোজকের সংখ্যা কমছে। ফলে সৃষ্টি হয়েছে ছবির সংকট। এই সংকট কাটাতে প্রথমে যৌথ প্রযোজনায় ঝুঁকে ইন্ডাস্ট্রি। ওতেও আশানুরূপ ফল না পেয়ে সরাসরি ভারতীয় ছবি আমদানির দিকে ঝুঁকে পড়েন এ দেশের কতিপয় প্রযোজক ও প্রদর্শক। যারা এক সময় প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান চালিয়েছেন সফলভাবে, তারাই এখন প্রযোজনা ছেড়ে দিয়ে ভারত থেকে ছবি আমদানি করছেন। এই আমদানিকে নিজেদের বেঁচে থাকার মূলমন্ত্র বলে মনে করছেন হল মালিকরা। সাফটা চুক্তির আওতায় ভারতের বাংলা ছবি আসছে আর এ দেশ থেকে বাংলা ছবি যাচ্ছে।
২০১৬ সালে ‘কেলোর কীর্তি’ ছবিটিই প্রথম আমদানিকৃত ছবি যেটি দর্শক টানতে সক্ষম হয়। এর আগে টুকটাক যে ছবিগুলো এসেছে তার কোনোটিই তেমন ব্যবসা করতে পারেনি। দেব-অঙ্কুশ-যীশু-নুসরাত-সায়ন্তিকা-মিমি ইত্যাদি তারকা অভিনীত ‘কেলোর কীর্তি’ মুক্তির বিরুদ্ধে চলচ্চিত্র সংগঠনগুলো আন্দোলন করেছিল। ছবিটির মুক্তি রুখে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু সেই আন্দোলন তেমনভাবে সফলতা পায়নি। বরং সফলতার মুখ দেখেছে নিয়ম মেনে যৌথ প্রযোজনার ছবি নির্মাণের আন্দোলন। ২০১৭ সালে চলচ্চিত্রের সবগুলো সংগঠনের আন্দোলনের ফলে যৌথ প্রযোজনার ছবি নির্মাণ এখন প্রায় বন্ধই বলা চলে। এতে চলচ্চিত্র আমদানিকারকদেরই আখেরে লাভ হয়েছে। প্রযোজনার ঝক্কি বাঁচিয়ে তারা সরাসরি পরিবেশনায় মুনাফা খুঁজছেন। আমদানিতে বিনিয়োগ করতে তাদের পিছপা হতে দেখা যাচ্ছে না।
গত দু’তিন বছরে আমদানিকৃত ছবিগুলোর মধ্যে জিৎ অভিনীত ‘অভিমান’, সোহম অভিনীত ‘পিয়ারে’, প্রসেনজিৎ অভিনীত ‘ওয়ান’, অঙ্কুশ অভিনীত ‘বলো দুগগা মাই কি’, ‘হরিপদ ব্যান্ডওয়ালা’, হিরন অভিনীত ‘জিও পাগলা’, যশ অভিনীত ‘ফিদা’ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। জটিলতার কারণে যৌথ প্রযোজনায় শুরু হয়েও আমদানি ছবি হিসেবে মুক্তি পেয়েছে শাকিব খান অভিনীত ‘চালবাজ’, ‘ভাইজান এলো রে’ এবং ‘নাকাব’। সরাসরি আমদানিকৃত ছবিগুলোর কোনোটিই প্রত্যাশিত ব্যবসা করতে পারেনি। কিছু ছবির ব্যবসা ছিল শোচনীয়। এ জন্য প্রশ্ন উঠে আমদানি ছবিতে ইন্ডাস্ট্রির লাভ কী হচ্ছে। উল্টোদিকে আমদানির বিপরীতে রপ্তানি হওয়া বাংলাদেশি ছবির ফলাফলও ছিল হতাশাব্যঞ্জক।
রপ্তানিকৃত ছবিগুলো সামান্য সংখ্যক সিনেমা হলে অবহেলার সঙ্গে মুক্তি পেয়েছে। ঢাকঢোল পিটিয়ে কলকাতায় ছবি পাঠানো হলেও সেসব ছবির কোনো খবর আর পরে পাওয়া যায়নি। বেশ কিছু ছবি নামাকাওয়াস্তে রপ্তানি হয়েছে। সেসব ছবি কোনো সিনেমা হলে মুক্তির খবর আসেনি কলকাতা থেকে। এ নিয়ে দেশীয় চলচ্চিত্রকর্মীরা চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এর মধ্যেই চলচ্চিত্র প্রদর্শকরা আমদানি ছবিকে হল বাঁচানোর একমাত্র ফর্মুলা বলে জাহির করেছেন। এ নিয়ে গত মার্চ মাসে তারা ধর্মঘটে চলে যান। ভারতীয় ছবি আমদানির নিয়ম-কানুন শিথিল করার জন্য তারা প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। পরে আন্দোলনে তারা পিছু হটেন সরকারের আশ্বাসে। একদিকে তারা আন্দোলনে আংশিক সফলতা লাভ করেন, আরেক দিকে তারা ছবি আমদানির তোড়জোড় অব্যাহত রাখেন।
আমদানিকারকদের আগ্রহেই কিছুদিন ঝিমিয়ে থাকার পর ফের চাঙ্গা হচ্ছে আমদানি ছবির বাজার। গতকাল মুক্তি পেয়েছে কলকাতার ছবি ‘ভোকাট্রা’। টালিগঞ্জের অসফল নায়ক ওম অভিনীত ছবিটি মূলত পশ্চিমবঙ্গ ও উড়িষ্যার যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত কম বাজেটের ছবি। ছবিটি আগ্রহভরে আমদানি করা হলেও ব্যবসার সম্ভাবনা কম বলে মন্তব্য করেছেন চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা। তবে আমদানিকারকরা বেশি আশাবাদী ‘কিডন্যাপ’ ছবিটি নিয়ে। দেব অভিনীত এ ছবিটি ঈদে পশ্চিমবঙ্গে মুক্তি পেয়ে গেছে। ৫ জুলাই মুক্তি পাবে বাংলাদেশে। ‘কিডন্যাপ’ থেকে সিনেমা হলে ছবির জোগান ছাড়া আর কোনো লাভের আশা করছেন না সংশ্লিষ্টরা। তবে তারা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন এই বলে যে, সিনেমার খরায় আমদানি ছবি কিছুটা হলেও হল মালিকদের মুখে হাসি ধরে রাখবে। তাদের মন্তব্য- ‘নাই মামার চেয়ে কানা মামা ভালো।’