আটকে আছে ৫ শতাধিক গুরুতর মামলার কার্যক্রম

আগের সংবাদ

আসল-নকল বিতর্কে ঢাকাই সিনেমা

পরের সংবাদ

বিএনপির কোন্দলেই রাজপথে ছাত্রদল

খোন্দকার কাওছার হোসেন :

প্রকাশিত হয়েছে: June 22, 2019 , 1:40 pm

বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলেই রাজপথে রয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। ঈদের আগে হঠাৎ করেই ছাত্রদলের কমিটি ভেঙে দেয়ার প্রতিবাদে এবং ভেঙে দেয়া কমিটির পাঁচ দফা দাবি মেনে নেয়ার দাবিতে আন্দোলনে নামেন সংগঠনের বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা।
ছাত্রদলকে রাজপথে নামতে এবং কর্মসূচি অব্যাহত রাখতে বিএনপির একটি অংশ উস্কানি দিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি কমিটি ভেঙে দেয়ার সিদ্ধান্ত বহাল রাখতে ও দাবিতে কান না দেয়ার জন্য হাইকমান্ডকে প্রভাবিত করছে আরেকটি অংশ। ১৯৭৯ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বিএনপির সিনিয়র নেতাদের মধ্যে দুটি ধারা চলে আসছে। একটি ধারা কট্টরপন্থি, অন্য ধারাটি উদারপন্থি হিসেবে চিহ্নিত। দলটিতে কখনো কট্টরপন্থিদের প্রভাব বাড়ে, আবার কখনো উদারপন্থিরা সামনে চলে আসে। সাম্প্রতিক সময়ে দলটির হাইকমান্ড উদারপন্থিদের বলয়ে রয়েছে। এই বলয়ের প্রভাবেই দলকে ঢেলে সাজানোর প্রক্রিয়া চলছে। এ কারণেই ভেঙে দেয়া হয়েছে ছাত্রদলের কমিটি। এর আগে কৃষকদল, মুক্তিযোদ্ধা দলসহ কয়েকটি সহযোগী সংগঠনের কমিটি ভেঙে নতুন কমিটি করা হয়েছে। যাতে অধিকাংশ পদে উদারপন্থিদের প্রাধান্য রয়েছে। ছাত্রদলেও উদারপন্থিদের প্রাধান্য দিয়ে কমিটি করা হচ্ছে।
বিষয়টি আঁচ করতে পেরেই কট্টরপন্থিরা একাট্টা হয়েছেন। তারা

দলে নিজেদের প্রাধান্য বজায় রাখতে ছাত্রদলকে মাঠে নামিয়ে উদারপন্থিদের চাপে রাখার কৌশল এঁটেছেন। বসে নেই উদারপন্থিরাও। তারা কট্টরপন্থিদের চাপে রাখতে সহসাই ছাত্রদলের নতুন কমিটির ঘোষণা দিতে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে যুক্তি দিচ্ছেন।
উদারপন্থিদের যুক্তি, ছাত্রদলের নতুন কমিটি দ্রুত ঘোষণা করে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সহসভাপতি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে কয়েক ডজন নেতাকর্মীকে সম্পৃক্ত করা হলে ভেস্তে যাবে চলমান আন্দোলন ও ঘোষিত আল্টিমেটাম। জানা গেছে, উদারপন্থিদের মতামতের পরিপ্রেক্ষিতেই ঘোষণা হতে যাচ্ছে ছাত্রদলের নতুন কমিটি। কমিটি করতে ইতোপূর্বে গঠিত সার্চ কমিটি তাদের পছন্দের ছাত্র নেতাদের তালিকা ইতোমধ্যেই ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে অবহিত করেছেন বলে জানা গেছে। এ ছাড়া বিএনপির ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান যে পদক্ষেপ

নিয়েছেন তারই অংশ হিসেবে স্থায়ী কমিটির শূন্য পদ পূরণ করার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। গত ১৯ জুন ঘোষিত স্থায়ী কমিটির নতুন দুই সদস্যও উদারপন্থি গ্রুপের বলে প্রচারণা রয়েছে। স্থায়ী কমিটির শূন্য অন্য তিনটি পদও শিগগিরই পূরণ করা হচ্ছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। সেখানেও উদারপন্থিদের আধিক্য থাকবে বলে শোনা যাচ্ছে।
বিএনপির সিনিয়র নেতাদের মধ্যে চলমান এই দুই গ্রুপের মধ্যে গত ১০ বছর একক প্রাধান্য ছিল কট্টরপন্থিদের। তাদের পক্ষে থাকত খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের সমর্থন। কিন্তু পরিস্থিতি পাল্টেছে। খালেদা জিয়া কারাগারে থাকায় দলে একক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছেন তারেক রহমান। তিনি বর্তমানে উদারপন্থিদের দিকে ঝুঁকে গেছেন বলে দলীয় ফোরামে আলোচনা রয়েছে। তারেক রহমানের পক্ষ পরিবর্তনের পেছনেও রয়েছে কট্টরপন্থিদের ব্যর্থতা। সরকারবিরোধী আন্দোলনসহ নানা ইস্যুতে কট্টরপন্থিরা নিজেদের পারফরমেন্স দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন এবং সরকারের সঙ্গে গোপন আঁতাতের অভিযোগ থাকায় তারেক রহমান তাদের কোণঠাসা করার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই সাংগঠনিক নানান পরিবর্তন আনছেন।
এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ছাত্রদল নিয়ে বিএনপি উভয় সংকটে। ছাত্ররা দীর্ঘদিন জেল খাটল, মামলা এবং পুলিশের হয়রানির শিকার হলো। অথচ ওদের অবদানের বিনিময়ে ওরা কী পাবে? ওদের কি মূল্যায়ন হবে? দোষটা কার?
তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে বিএনপির কিছু দায়িত্ব আছে। ছাত্রদের বোঝানো এবং এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করতে হবে। তাদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে কীভাবে মূল্যায়ন করা যায়, সেই চেষ্টা করতে হবে। তিনি বলেন, ছাত্রদের কথাগুলো শুনে সমাধান করার চেষ্টা করতে হবে। ওদের সঙ্গে আলাপ করে এর সমাধান করা যাবে।
এমন প্রেক্ষাপটে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিএনপিকে দুর্বল করার জন্য, বিভক্ত করার জন্য চক্রান্ত হচ্ছে। চক্রান্ত হচ্ছে বিএনপির শক্তিকে ছোট করে দেয়ার। তবে ষড়যন্ত্রকারীরা এর আগেও চেষ্টা করে পারেনি; কোনো দিন তা পারবেও না।