শেষ ধাপের ভোট খুব ভালো হয়েছে: ইসি সচিব

আগের সংবাদ

প্রজ্ঞার সৌন্দর্যে অহংকারের দ্যুতি

পরের সংবাদ

মায়ের হাতে সন্তান খুন!

প্রকাশিত হয়েছে: জুন ১৮, ২০১৯ , ৯:৩৩ অপরাহ্ণ | আপডেট: জুন ১৮, ২০১৯, ৯:৩৩ অপরাহ্ণ

অনলাইন প্রতিবেদক

আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে চলেছে পারিবারিক হত্যাকাণ্ড। গতকাল ভোরের কাগজে একাধিক হত্যাকাণ্ডের খবর প্রকাশিত হয়েছে। রাজধানীর মুগদার মানিকনগরে তিন বছরের মেয়ে রোজা ফারদিনকে হত্যার পর আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন রোকসানা আক্তার রুমি নামে এক নারী। গত রবিবার রাতে মানিকনগরে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও পরিবার বলছে, ১ মাস আগে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান নিহত রোজার বাবা মঞ্জুর হাসান।

এরপরই অভাব নেমে আসে পরিবারটিতে। কোথাও আশ্রয় না পেয়ে অভাবের তাড়নাতেই আত্মহননের পথ বেছে নেয় ওই নারী। অন্য একটি খবরে বলা হয়েছে, চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় দুই বছরের শিশু সন্তানকে গলা কেটে হত্যা করেছেন মা। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ মা শামিমা আক্তার সাইমাকে আটক করেছে। ঘটনাগুলো সমাজের সার্বিক অবক্ষয়েরই উদাহরণ। এসব কেন ঘটছে, তা সমাজবিজ্ঞানীদের গবেষণার বিষয়।

একজন মমতাময়ী মা কেন নিজ সন্তানের ঘাতক হচ্ছেন, কেনইবা দায়িত্বশীল সমাজ ক্রমেই শিশুদের জন্য অনিরাপদ হয়ে উঠছে- আমাদের অবশ্যই এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করতে হবে। বাবা-মায়ের হাতে সন্তান হত্যার ঘটনা যেমন ঘটছে, তেমনি সন্তানের হাতে জন্মদাতা বাবা-মায়ের প্রাণহানিও ঘটছে। সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, সামাজিক বন্ধনে চিড় ধরা, অস্থিরতা ও পারিবারিক দ্বন্দ্ব-টানাপড়েনে আপনজনকে খুনের প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে।

তবে এর পেছনে উল্লেখযোগ্য কারণ হচ্ছে হতাশা, পরকীয়া, আবেগ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা কমে যাওয়া, নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয় ইত্যাদি। নৈতিক শিক্ষা ও মূল্যবোধের অভাবে পরিবারিক বন্ধন ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছে। ফলে সমাজে বেড়ে চলেছে অপরাধও। এই অপরাধ এখন পরিবারে ঢুকে পড়েছে। অন্যদিকে সমাজে ভোগবাদী প্রবণতা বাড়াও এর একটি কারণ।

সমাজের একাংশ এতটাই ভোগবিলাসী জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে যে, এই সমাজে পারিবারিক কাঠামো থাকলেও তা নামমাত্র। কোনো ধরনের স্বাভাবিক বোঝাপড়া তাদের মধ্যে নেই। ফলে স্বামী-স্ত্রী, বাবা-মা-সন্তানের মধ্যেও স্নেহের বন্ধন দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতি সামাল দিতে পারিবারিক বন্ধন জোরদার করতে হবে। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বোঝাপড়া বাড়াতে হবে। চাহিদা এবং প্রাপ্তির মধ্যে ব্যবধান কমাতে হবে।

সমাজে বিদগ্ধজন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারি সংস্থা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন। সম্প্রতি শিশু নির্যাতনের হার যতটা না বেড়েছে তার চেয়ে এর ধরন পাল্টেছে বেশি। সমাজবিজ্ঞানী, মানবাধিকারকর্মী ও অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, সামাজিক অবক্ষয়ই শিশু হত্যার বড় কারণ।

দেশে বড় ধরনের ঘটনা ঘটলে তোলপাড় হলেও শিশুদের সুরক্ষায় কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। আর একটি শিশু যখন তার নিজের ঘরেই বাবা-মায়ের কোলে নিরাপত্তা পাচ্ছে না তখন স্বাভাবিকভাবেই সরকারকে তাদের সুরক্ষার জন্য নতুন করে চিন্তা করতে হবে।

  • আরও পড়ুন
  • লেখকের অন্যান্য লেখা